নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মো. নীরব (২৬) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল দুপুরের দিকে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলা বাজারের উত্তর পাশে কালা দুলালের বাপের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে একইদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নীরব একই ওয়ার্ডের আব্দুল গনি বাড়ির আব্দুল গনির ছেলে। নীরব পেশায় একজন স’মিল শ্রমিক ছিলেন। জানা গেছে, গত ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন নীরব। কিছুদিন আগে মাদক নিয়ে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে নীরবের বিরোধ দেখা দেয়। ওই বিরোধের জের ধরে রোববার সকাল ১০টার দিকে নীরব তার তিন সহযোগীকে নিয়ে আন্ডারচর ইউনিয়নের বাংলাবাজারের উত্তর পাশে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালায়। ওই সময় তাদের ছুরিকাঘাতে রুবেল মাঝির ৩-৪ জন অনুসারী আহত হয়। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নীরবের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে চলে যায়। তখন রুবেল মাঝির লোকজন ধাওয়া দিয়ে নীরবকে আটক করে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে এলাকাবাসী জানায়, পুলিশের উপস্থিতিতে হতভাগ্য যুবকের ওপর খুনিরা দফায় দফায় হামলা চালায়। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় নীরবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আহমেদ পেয়ার দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, এই ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হতভাগ্য যুবকের পিতা জহির ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে খুনের মামলা করে। পরে জামিন নামঞ্জুর করে জেলে প্রেরণ করা হয়।
সুধারামে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে পুলিশের সামনে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৮
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে
৩১ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
