পাবনা জেনারেল হাসপাতালে একদিকে হামের প্রকোপ, অন্যদিকে তীব্র শয্যা সংকট, দুই সংকটে কার্যত নাজুক হয়ে পড়েছে চিকিৎসাব্যবস্থা। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে প্রায় ৭শ’- যা ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। সবচেয়ে করুণ অবস্থা শিশু ওয়ার্ডে। চলতি সময়ে এখন পর্যন্ত ১২২ জন হামে আক্রান্ত শিশু এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে আরও ২২ জন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে প্রায় ২১০ জন শিশু। বেড সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে কিংবা একটি বেডে একাধিক রোগী রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ, অন্যদিকে সংক্রমণসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এরই মধ্যে হামের প্রকোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চলতি সময়ে এখন পর্যন্ত ১২২ জন হামে আক্রান্ত শিশু এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ২২ জন। হামের জন্য নতুন ওয়ার্ড চালু করা হলেও সেখানে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন অনেক নার্স ও আয়া। অপরিষ্কার পরিবেশের কারণে ওয়ার্ডটিও কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, শিশু জন্মের ৯ মাস পর হামের টিকা দেয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক শিশু ৯ মাসের আগেই আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে।
অন্যদিকে জেলায় আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর অসুস্থ শিশুদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২২ জন শিশুকে রেফার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে নার্সরাও পড়েছেন চরম চাপে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় ডাক্তার-নার্স নিয়োগ, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আইসিইউ সুবিধা চালু না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
