হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া জেলার ১৩ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ১৭ই মার্চ থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে ২৪শে মার্চ হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। এজন্য শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে হামের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া সোমবার সকালে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়। হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের ফোকালপার্সন সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন, পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের ৮তলার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ, নার্স স্টেশন, চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যে শিশুদের অক্সিজেন লাগছে, তারা পর্যাপ্ত পাচ্ছে। তবে আইসিইউ লাগবে- এমন পরিস্থিতির কোনো রোগী এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ভর্তি হয়নি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইন উদ্দিন বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব সারা দেশে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় এলাকাতেও বেড়ে গেছে। যেহেতু রোগী সংখ্যা বেড়ে গেছে শিশু ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। সেজন্য হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮মতলার পশ্চিম পাশে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ বলেন, হামে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্টকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে আজ সকাল পর্যন্ত এসব উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।
