পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যখন একের পর এক দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে- সেই মুহূর্তে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ২য় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নৌপরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। গত রোববার তার পাঠানো চিঠি নেট দুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছে। রিতার এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাইলফলক হবে।
রিতার লেখা চিঠির বিষয় লেখা হয়েছে, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া থেকে রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত ২য় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ প্রসঙ্গে। বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে লিখেছেন, প্রিয় সহকর্মী, আস্সালামু আলাইকুম। আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুট, যা বৃহত্তর ফরিদপুর, বৃহত্তর যশোর ও বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের জেলাসমূহের একমাত্র সড়ক ব্যবস্থা। পদ্মা ও যমুনা সেতু চালু হলেও এসব অঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা এখনো জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
দক্ষিণাঞ্চলের জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণ, পণ্য পরিবহনসহ ব্যবসা-বাণিজ্য সমপ্রসারণ এবং নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে পদ্মা সেতু অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। পরিশেষে আপনার সুস্বাস্থ্য ও সুদীর্ঘ কর্মময় জীবন কামনা করছি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিটি রিতার ব্যক্তিগত ফেসবুক থেকে আপলোড করা হলে নেট দুনিয়ায় প্রশংসিত হয়েছে। রিতার ফেসবুকের কমেন্টে হাজারো নেটিজেনের এই উদ্যোগকে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। কমেন্টে আলমগীর নামের এক নেটিজেন লিখেছেন, খুবই ভালো এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটা বাস্তবায়ন হলে মানিকগঞ্জ এবং দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন হবে। কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলে আরিচা রোডের উপরে আরও চাপ বেড়ে যাবে। এমনিতেই আরিচা রোড একটি দুর্ঘটনা প্রবণ রাস্তা, এরপরে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলে গাড়ি চলাচলের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে এবং দুর্ঘটনার মাত্রাও বেড়ে যাবে। সেইক্ষেত্রে আরিচা রোডের উপর চাপ কমানোর জন্য এবং বাড়তি লোড সামলানোর জন্য রেল লাইনের বিকল্প নাই। কার্তিক চক্রবর্তী কমেন্ট করেছেন, যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সেতু একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে- কোনো সন্দেহ নাই। তবে বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ এটাও মাথায় রাখতে হবে।
নদীর নাব্য বৃদ্ধি এবং নদীভাঙন রোধের বিষয়ে মহাপরিকল্পনা থাকতে হবে এবং সেইসঙ্গে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে যাতে মানিকগঞ্জ জেলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। সুভাষ হালদার কমেন্ট করেছেন- অগ্রিম অভিনন্দন, মাননীয় মন্ত্রী, আফরোজা খানম রিতা আপাকে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসাধারণ ভূমিকা রাখবে, আশা করি। শুভ কামনা রইলো। নাজমুল হোসেন কমেন্ট করেছেন, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ীবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এই ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এদিকে রিতা তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন।
