ফলোআপ : যেভাবে উদ্ধার হলো শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যুবক রফিকের মাথা

ফন্ট সাইজ:

শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা অটোরিকশাচালক যুবক রফিক মিয়ার মাথাটি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার ঘটনাস্থলের প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকা নদীপাড়ের একটি ভুট্টাখেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করে বানিয়াজুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।
বানিয়াজুরী তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পুলক কুমার দাস মজুমদার বলেন, রোববার সকালে দিঘুলিয়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে এক ব্যক্তি নিজের খেতে ভুট্টা তুলতে গেলে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন তারা। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি নদীতে নিক্ষেপ করার পর ভাসতে ভাসতে ভুট্টাখেতের পাশে নদীর তীরে আসে। পরে কুকুর বা শেয়াল সেখান থেকে মাথাটি ভুট্টাখেতে নিয়ে আসতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মাথাটি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, ইজিবাইকচালক রফিকের গলা কেটে হত্যার পর মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেন হত্যাকারীরা। উদ্ধার করা মাথাটি রফিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হবে। ইতিমধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে জেলার ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) এবং একই গ্রামের সজীব হোসেন (২৫)কে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল।
এজাহার, মানিকগঞ্জ পিআইবি এবং সদর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের রফিক মিয়া ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ইজিবাইকচালক। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রফিক। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গত বুধবার বিকালে সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে মাথাবিহীন রফিকের লাশ উদ্ধার করে সদর থানার পুলিশ। নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন বন্ধু ছিলেন। রফিককে হত্যা করে ইজিবাইকটি নিয়ে বিক্রি করবেন বলে পূর্বপরিকল্পনা করেন।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে ইজিবাইকে করে রফিককে পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন ও তার সহযোগী সজীব ও আরমান। এরপর আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে রফিকের গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং সজীব দুই পা ধরে রাখেন।
পরে হত্যাকারীরা মাথা এবং শরীর নদীতে ফেলে দেন। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে ওঠে। এ কারণে রফিকের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেন। পরের দিন গত বুধবার ভোরে রফিকের ইজিবাইকটি নিয়ে রিপন সাভারে চলে যায়। ওইদিন (বুধবার) বিকালে নদীর তীর থেকে রফিকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত রফিকের ভাই মো. আরিফ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পিবিআই মানিকগঞ্জ কার্যালয় তদন্ত শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালামপুরে একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, গত শনিবার বিকালে গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সুমন খান

২ মাস আগে

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী যদি ঘটনা সত্য হয় তবে এই তিন জন অপরাধী কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা।সেই সাথে সকল রাষ্টীয় মিডিয়ায় প্রচার করা। আমি অনেক দিন আগে থেকে খবর পড়েছি এবং দেখেছি এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে তাই এমন দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করেন। না হলে পরবর্তী এমন পরিস্থিতির জন্য দেশের আইন এবং বিচারের প্রতি আমার ঘৃণা অব্যাহত থাকবে

মন্তব্য করুন