২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগী। ছোঁয়াচে রোগ ‘হাম’-এর পরিস্থিতি সামলাতে করা হয়েছে পৃথক কর্নার। গত এক মাসে হাসপাতালে ২৩৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়। তার আগের মাস মার্চে শনাক্ত হয়েছিল ৭ জন। দেড় মাসে ভর্তি ২৪৩ জন রোগীর মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯০ জন শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত নির্ধারিত একটি কক্ষে ৭১ জন হাম আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে।
জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের পৃথক একটি কক্ষে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওই কক্ষে চিকিৎসা চলছে শিশুদের। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে, মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যেও নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য লক্ষণ রয়েছে।
এক কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছে ৭১ শিশু:
২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের পুরাতন ভবনের একটি কক্ষ ডায়ালাইসিসের জন্য নির্ধারিত। কোনো যন্ত্রপাতি না থাকা ওই কক্ষের মেঝেতেই হাম আক্রান্ত শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। শয্যা, মেঝে ও বারান্দা-সর্বত্র রোগী। ১০ রোগীর শয্যার বিপরীতে এখানে শতাধিক বেশি রোগী ভর্তি থাকে সবসময়, এমনটি জানিয়েছে চিকিৎসকরা। হাসপাতালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসের শুরু থেকে হাম আক্রান্ত রোগীদের তথ্য তারা পৃথকভাবে সংরক্ষণ করছেন। গত এক মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৩৬ জন শিশু। এর আগের মাস মার্চে ভর্তি হয়েছিল ৭ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা মোসা. শরিফা বেগম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর কিন্তু শরীরে লাল দানা উঠতে শুরু করলে ভয় পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসি। এখানে আসার পর দেখছি অনেক শিশু এই রোগে ভুগছে। ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন, কিন্তু রোগীর চাপে সেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অপর এক শিশুর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমার বাচ্চার বয়স মাত্র ১৩ মাস। জানতাম না এত ছোট শিশুরও এই রোগ হতে পারে। আশেপাশে আরও অনেকের হচ্ছে শুনে খুব আতঙ্কে আছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুস সামাদ জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে সাধারণ রোগী থেকে হাম আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম আক্রান্ত রোগী সাধারণ রোগীদের মধ্যে আছে, এমন সংখ্যা কম। খোঁজ করে পেলে সেই রোগীকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। আপাতত পুরাতন ভবনের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ডায়ালাইসিসের জন্য নির্ধারিত একটি কক্ষে রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি এই হাসপাতালে এসে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ হাম আক্রান্ত বেড়ে গেল, তা বোঝা যাচ্ছে না। আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে ও সাবধানে থাকতে হবে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, হাম প্রতিরোধের বিশেষ ক্যাম্পেইন প্রতি ৫ বছর পরপর করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এটি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালে তা হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি, চলতি বছরের এপ্রিল বা মে মাসেই এই ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত করছেন এবং তাদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনছেন। এই রোগ প্রতিরোধযোগ্য, তাই আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতাল
বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর চাপ, ১ মাসে দিনে ভর্তি ২৩৬ জন
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
