ব্রি’তে অনিয়মের অভিযোগ, আইনি লড়াইয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে নিয়োগ জালিয়াতি, টেন্ডারে সিন্ডিকেট ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুইজন ভুয়া প্রার্থী শনাক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ব্রি’তে সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রায় ৭৫টি পদে নিয়োগে একটি প্রভাবশালী চক্রের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের আরও ৪৩ জন নিয়োগপ্রাপ্তের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী যোগদান না করায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে পদোন্নতি নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্রি’র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ) ড. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ তুলে এ ঘটনায় জাস্টিস ডিমান্ড লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। তার পক্ষে এডভোকেট কল্যাণ কুমার সাহা ব্রি’র মহাপরিচালক ও ডিপিসি-১ (বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি) এবং বোর্ড অব ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কাছে এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ড. রফিকুল ইসলাম ১২ই নভেম্বর ২০০৭ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ব্রি’তে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং গবেষণায় অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অর্জন করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্যক্তি বিশেষকে সুবিধা দিতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হলে তা হবে আইনবহির্ভূত ও প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থি। এতে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী বিভাগ ভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের বেআইনি বা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নোটিশে আহ্বান জানানো হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে নোটিশদাতাকে অবহিত করতে হবে। অন্যথায় তার মোয়াক্কেল ন্যায্য অধিকার আদায়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবেন। এ ছাড়া টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে সুবিধা আদায় করে আসা কিছু কর্মকর্তা টেন্ডার বরাদ্দ ও প্রকল্প অনুমোদনে প্রভাব খাটাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প ছাড়াই বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং উচ্চ ব্যয়ের নির্মাণ ও মেরামতের কাজে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বয়সসীমা অতিক্রমের পরও এনআইডি সংশোধনের মাধ্যমে অন্তত চারজন কর্মচারী চাকরিতে বহাল রয়েছেন। একইভাবে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়াই ‘ড.’ উপাধি ব্যবহার করে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তার ঘটনাও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি মেনেই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন