ময়মনসিংহে স্কুলফিডিং কর্মসূচির প্রথমদিনেই খাবার পায়নি ৫ উপজেলার শিক্ষার্থীরা

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলফিডিং কর্মসূচিতে শিশু খাদ্য সরবরাহে বরাদ্দের টাকা নয়ছয়ে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনসহ তালিকাভুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শিশু খাদ্যের মধ্যে রয়েছে- ফর্টিফাইড বিস্কুট, বনরুটি, ডিম, মৌসুমি ফল এবং ইউএইচটি দুধ। বিভাগীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরেপড়া রোধ, পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ব খাদ্য প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় গত বছরের ১৭ই নভেম্বর থেকে এই প্রকল্প কাগজে-কলমে শুরু হয়। এতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ধোবাউড়া এবং হালুয়াঘাটসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মোট ১০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো স্থান পায়। কিন্তু বাস্তবে কর্মসূচি শুরুর ১৩ দিন পর অর্থাৎ গত বছরের ১লা ডিসেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে খাবার দেয়ার কথা শিক্ষার্থীদের। কিন্তু খাবার সরবরাহ না করেই প্রকল্পের শুরুর দিন থেকে বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়াও কর্মসূচির শুরুতেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে পচা-বাসি কলা এবং বনরুটি শিশুদের খাবার হিসেবে সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠে। ফলে বিষয়টি গড়ায় বিভাগীয় প্রশাসনে। সম্প্রতি এক সভায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী। তবে রোববার তিনি ঢাকায় একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মীর বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে রোববার প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচিতে ময়মনসিংহ বিভাগের আরও ১০টি উপজেলায় স্কুলফিডিং কর্মসূচি উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচির প্রথমদিনেই খাবার পায়নি ৫টি উপজেলার প্রায় ৬ শতাধিক বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। এতে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তালিকাভুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে। জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, একাধিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কর্মসূচির প্রথমদিনে খাবার পায়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া কারা খাবার সরবরাহ করছে বা করবে তাও আমাদের জানা নেই। তবে এদিন বিকাল ৪টায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবাইয়া বলেন, শুনেছি বিকালে পৌরসভার কয়েকটি স্কুলে খাবার দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত তথ্য আমার জানা নেই।
জানতে চাইলে জেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ইউসুফ খান বলেন, খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে মাস শেষে উপজেলা থেকে প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ জেলার ৪টি উপজেলাসহ পার্শ¦বর্তী মোট ১০টি জেলার স্কুলফিডিং কর্মসূচিতে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ঢাকার আইসল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের কর্ণধার শাহাদাত হোসেন। অপরদিকে দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচিতে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ঢাকার বাবু বাজার এলাকার সমতা ট্রেডার্সের কর্ণধার কাউছার আহম্মেদ। এতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলাসহ নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার মোট ১০টি উপজেলা তালিকাভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অভিযোগ, অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডধারী ইউনিফর্ম পরিহিত ব্যক্তিরা মানসম্পন্ন এই শিশু খাবার সরবরাহ করবেন। কিন্তু এ নির্দেশনা অমান্য করে গোপন চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় ঠিকাদাররা এই খাবার সরবরাহ করছে। এতে ড্রফ আউট শিশুদের খাবার না দিয়ে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মাহাবুব জানান, আমি স্কুলফিডিং কর্মসূচির প্রথম থেকেই ফুলপুর, ধোবাউড়ায় কাজ করছি। এ কারণে কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপেও যুক্ত হয়েছি। এতে ময়মনসিংহের ১টি, নেত্রকোণার ৭টি এবং শেরপুরের ২টি উপজেলা রয়েছে। তবে এসব উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপরাগতার কারণে কর্মসূচির প্রথমদিনে (২৯শে মার্চ) ১০টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতে প্রথমদিনে খাবার পায়নি। এই উপজেলাগুলো হলো- গৌরীপুর, নেত্রকোণা সদর, বারহাট্টা, নকলা এবং নালিতাবাড়ী। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।
জানতে চাইলে স্কুলফিডিং কর্মসূচির নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের কর্ণধার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা খোঁজ নিয়েছি- কর্মসূচির প্রধমদিনে ৫টি উপজেলায় খাবার সরবরাহ হলেও অন্য ৫টি উপজেলায় খাবার সরবরাহ হয়নি। এটি দুঃখজনক। এ সময় অধিদপ্তরের নির্দেশনার ব্যত্যয় এবং প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচিতে বরাদ্দের টাকা নয়ছয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচিতে খাবার সরবরাহের অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এরই মাঝে বিগত ঈদের আগে কর্মসূচির প্রথম ধাপের ৩ মাসের বিল দেয়া হয়েছে। তবে বিতর্কিত ১৩ দিনের বিল বর্তমানে বকেয়া রয়েছে। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে ঠিকাদার দেয়া না হলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হয়, তুলে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়। এ কারণে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন