হবিগঞ্জে খুনের মামলার এক আসামি আত্মগোপন করেছিল সিলেটে। অবশেষে র্যাব সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে হবিগঞ্জ পুলিশে সোপর্দ করেছে। সিলেট নগর এলাকার পাঠানটুলা পয়েন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। নিহত ইরাজ মিয়া হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা। কিছুদিন আগে লাখাই থানাধীন বালিগাঁও এলাকায় স্থানীয় জমি দখল নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে সালিশ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নিহতের বড় ভাই সাবেক মেম্বার সাহাব উদ্দিন এবং সেখানে ইরাজ মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট জমি অন্যায়ভাবে চাষাবাদ না করার জন্য বিবাদীপক্ষকে নিষেধ করা হয়। তবে সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিবাদীপক্ষ উপস্থিত ব্যক্তিদের গালিগালাজ করলে ইরাজ মিয়া প্রতিবাদ জানান। পরে তাকে ও তার বড় ভাইকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এই ঘটনার জেরে গত ৯ই জানুয়ারি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইরাজ মিয়া অষ্টগ্রাম থানার আদমপুর বাজারে যাওয়ার পথে বালিগাঁও ফরিদপুর এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন পাকা রাস্তায় পৌঁছালে বিবাদীপক্ষ দলবদ্ধভাবে তাকে ঘিরে ফেলে। র্যাব জানিয়েছে, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে ধারাবাহিকভাবে আঘাত করা হয় এবং গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে লাখাই থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক স্থানে অনুসন্ধান চালায়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প ও সিলেট সিপিএসসি’র যৌথ দল শহরের পাঠানটুলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারভুক্ত এক পলাতক ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃত কামাল মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানাধীন বালিগাঁও এলাকার মৃত জয়েদ আলীর ছেলে। এর আগে একই মামলায় চারজনকে আটক করেছিল বলে জানা যায়। আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, মামলার অন্য পলাতক ব্যক্তিদের আটক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হবিগঞ্জের হত্যা মামলার আসামি আত্মগোপনে ছিল সিলেটে
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
