মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ঘুষের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এমন একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তন্ময় নামের এক যুবক তার দেয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাইছে ইউএনও অফিসের বিধান চন্দ্র মণ্ডল নামের একজন সার্টিফিকেট সহকারীর কাছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই শুরু হয় মূল ঘটনার রহস্য উন্মোচন। এ বিষয়ে লেনদেনের বক্তব্যসহ মানবজমিনের হাতে দু’টি ভিডিও ক্লিপ চলে আসে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব নারানপুর এলাকার তন্ময় তার দাদা কমলা কিংকর তেওয়ারির নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক যাচাই বাছাই সম্পন্ন করে। এরপর ইউএনও অফিসের স্টাফ বিধান চন্দ্র মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি তার কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা ২০২৪ সালের ১৫ই জুলাই বিধানকে দেয়। ২ বছরেও তালিকায় নাম না ওঠায় কয়েকদফা টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা করে বিধান। ঘটনাটি নিয়ে কয়েকদফা ইউএনও অফিসে উচ্চবাচ্য ও কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে। পরে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলাবলির একটি গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনাটি নিয়ে শনিবার দুপুরে মুখ খুলেন তন্ময়। তিনি জানান, তার দাদা কমলা কিংকর তেওয়ারি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তালিকায় নাম ওঠাতে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে মারাও যান তিনি। কিন্তু এ যাবৎ তালিকায় তার নাম উঠেনি। এবার আবেদন করার পর যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয়। কিন্তু ইউএনও অফিসের স্টাফ বিধান চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ৩ লাখ টাকা দিলে তবেই তার নাম তালিকায় উঠানো সম্ভব হবে। পরে বিধানের কথামতো তার চাচা কানু তেওয়ারিসহ অফিসে গিয়ে বিধানের হাতে নগদ ৩ লাখ টাকা ঘুষ বুঝিয়ে দেন। টাকা নিয়ে বিধান বলেন, চিন্তা করার দরকার নেই, নাম তালিকায় উঠানো হবে। তন্ময় বলেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তালিকায় না উঠায় আমি বিধানের নিকট টাকা ফেরত চাই। সে আমার সঙ্গে বাজে আচরণ করে এবং টাকাটি আজও ফেরত দেননি। কানু তেওয়ারি বলেন, দুই বছর পার হয়ে গেলেও আমার কাজই করে দেয়নি। তাই বিধানের কাছে টাকা ফেরত চাই। কিন্তু সে টালবাহানা করছে। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র মণ্ডল তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে বলেন, টাকা আমি খাইনি। আমার মাধ্যমে টাকা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির প্রধান রেজাউর রহমান রিজু নামে এক মুক্তিযোদ্ধা নিয়েছেন। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনুর জামান মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। ঘুষের বিষয়ে জড়িত থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মহম্মদপুর ইউএনও অফিসে ঘুষের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
