যশোরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন থামছে না। জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে বিশেষ করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, এম্বুলেন্স এবং ট্রাকের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। যা নিয়ে প্রায় প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ স্টাফদের সঙ্গে চালকদের বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য হচ্ছে, যতোক্ষণ তেল আছে ততোক্ষণ আমরা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সরবরাহ করছি। কিন্তু না থাকলে আমরা দেবো কোথা থেকে। কিন্তু গ্রাহকদের কথা ভিন্ন। তারা বলছেন, জেলার প্রায় প্রতিটি পাম্প তেল নিয়ে কারসাজি করছে। ডিপো থেকে নিয়মিত তেল উত্তোলন করলেও পাম্প থেকে তারা ইচ্ছামতো তেল বিক্রি করছে। যার কারণে ক্রাইসিস বাড়ছে। এদিকে সরকারি নির্দেশনার পর শনিবার থেকেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। সরজমিন যশোর উপশহর ফিলিং স্টেশন, রজনীগন্ধা ফিলিং স্টেশন, মেসার্স তোফাজ্জল হোসেন ফিলিং স্টেশন, মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশন, চয়নিকা ফিলিং স্টেশন, চলন্তিকা ফিলিং স্টেশন, করিম ফিলিং স্টেশন, আফিল ফিলিং স্টেশন, আকিজ ফিলিং স্টেশন, সোনালী ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সরজমিন খোঁজখবর নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
এসব ফিলিং স্টেশনের অধিকাংশগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট চোখে পড়ে। কোনো কোনো ফিলিং স্টেশনে ডিজেলেরও সংকট আছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজেলের তুলনায় পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা বেশি কিন্তু সাপ্লাই কম। ডিপো থেকে ডিজেলের তুলনায় বরাবরই পেট্রোল ও অকটেন কম সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ক্রন ডিজেলের চাহিদা বেশি থাকে সবসময়। কিন্তু এবারের পেক্ষাপট ভিন্ন। ডিজেলের তুলনায় পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা বেশি। ক্রন হিসেবে তাদের ধারণা প্রতিটি মোটরসাইকেল ও মাইক্রো এবং প্রাইভেটকারের মালিকগণ নিজস্ব পেরিফেরিতে তেল মজুত রাখছেন।
যশোর নতুন উপশহর তেল পাম্পের ম্যানেজার কামাল হোসেন বলেন, আগে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২ হাজার লিটার অকটেন আমরা ডিপো থেকে সরবরাহ পেতাম। বর্তমানে সেই তুলনায় ডিপো থেকে সরবরাহ ২০-২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিক্রি বেড়েছে শতভাগ বেশি। বহু পরিচিত জনপ্রতি দিন ২-৩ বার করে বাইক নিয়ে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছে। যা খরচ করা অসম্ভব।
এদিকে রোববার থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে এসব ফিলিং স্টেশনে বেচাকেনা চলছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ার কারণে ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। অনেক পাম্পে হাতাহাতির ঘটনাও চোখে পড়ে। এদিকে সীমান্ত অঞ্চলের দিকে বিজিবি কড়া নজরদারি করছেন। তেল পাচার রোধে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন বলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান। তিনি বলেন, আতঙ্কিত বাইকাররা তেল মজুত করার কারণে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট কাটছে না। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধৈর্যধারণ করার জন্য জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আহ্বান জানান।
যশোরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
