নড়াইলে তেল নিয়ে তেলেসমাতি

ফন্ট সাইজ:

নড়াইলের গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি তেলের অভাব নেই। তবে দাম একটু বেশি। তবে শহরে পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। নড়াইলের অধিকাংশ পাম্প গ্রাহকদের ঠিকমতো তেল দিচ্ছেন না। তাদের সকলের একই অজুহাত ডিপো থেকে তেল দিচ্ছে না। রেশনিং সিস্টেমে তেল দিচ্ছে। তাও যৎসামান্য। অথচ শেষ রাতের দিকে ব্যারেল ও বড় বড় ঢম ভর্তি তেল ভ্যান ও নসিমনে চলে যাচ্ছে গ্রামের খুচরা দোকানে। তারা কোথা থেকে কোন পাম্প হতে তেল নিচ্ছেন, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দিচ্ছে না। শুধু বলছে ভাই বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে। গ্রামের কৃষকদের বাঁচানোর জন্য ও গ্রামের কিছু মোটরসাইকেলে দেয়ার জন্য সামান্য ডিজেল ও পেট্রোল নেয়া হচ্ছে। দয়া করে আপনারা ঝামেলা করবেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, জেলার কোনো কোনো পাম্প হতে সপ্তাহে ৩ দিন, আবার কোনো কোনো পাম্প হতে মাত্র ২ দিন তেল দিচ্ছে। তাও সারাদিন না। দিনের কোনো এক সময় হঠাৎ করে তেল দেয়া শুরু করে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা তেল দেয়ার পর বলছে তেল নাই। মোটরসাইকেল প্রতি ১শ’ বা ২শ’ টাকার পেট্রোল বা অকটেন দিচ্ছে। তার মধ্যে আবার বেশির ভাগ সময় অকটেন দিতে চাচ্ছেন না। বলছেন অকটেন নাই। হঠাৎ করে তেল দেয়া শুরু করে আবার হঠাৎ করে তেল দেয়া বন্ধ করায় চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন গ্রাহকরা। কোনো গ্রাহক যখন জানতে পারছেন তেল দিচ্ছে কোনো পাম্প। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার পরিচিতজন ও সতীর্থদের তথ্য জানিয়ে দিচ্ছেন। আর অমনি সেই পাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন গ্রাহকরা। সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমছে ওই পেট্রোল পাম্পে। পাম্পের ভিড় সামলাতে গ্রাহকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে রীতিমতো পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করতে হচ্ছে। গ্রাহকদের ভিড় সামলাতে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে অনেক সময় গ্রাহকদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে বড় সমস্যায় পড়েছেন সেচ মেশিন তথা স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ ইরিগেশনের সেচ কার্যরত মেশিনের মালিকরা। তারা ঠিকমতো ডিজেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। ডিজেল না পাওয়ায় ইরিব্লকের জমিতে পানি দিতে পারছেন না। পানির অভাবে অনেক ইরিব্লকের ধানের জমি ফেটে গিয়েছে। ইরি ধান চাষিদের মধ্যে হা-হুতাস শুরু হয়ে গেছে। তারা প্রতিদিন পেট্রাল পাম্পে এসে লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাত্র ২ থেকে ৩ লিটার তেল পাচ্ছেন। কৃষকরা ক্ষেত ছেড়ে পেট্রোল পাম্পে এসে ভিড় জমাচ্ছেন কোনো সময় একটু ডিজেল পাবেন সে আশায়। বাস, ট্রাক, দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনে চাহিদামতো ডিজেল দেয়া হচ্ছে না। তারাও খুব কষ্টে তেল নিচ্ছেন। অধিকাংশ পাম্প বেশির ভাগ সময় রশি দিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে রেখে দিচ্ছেন। ছোট ছোট কাগজে তেল নাই এমন নোটিশ লিখে তা সেঁটে দিচ্ছেন পাম্পের সামনে। ওই নোটিশ দেখে গ্রাহকরা অন্য পাম্পে যাচ্ছেন। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকেই তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা ও পরবর্তীতে তেল পাওয়া যাবে না এমন আশঙ্কায় তেল কিনে মজুত করছেন। তাদের কারণে তেলের কৃত্রিম সংকট হচ্ছে। এই তেলে মজুত যে শুধু ব্যবসায়ীরা করছেন তা নয়, অনেক সাধারণ মানুষ রয়েছেন এই তালিকায়। অনেকে নিজেদের প্রয়োজনে তেল মজুত করছেন। আবার অনেকে মজুত করছেন দাম বাড়ার ভয়ে। আবার অনেকে আছেন সুযোগ সন্ধানী মৌসুমী ব্যবসায়ী। তারা দাম বাড়তে পারে এ আশায় তেল কিনছেন। দাম বাড়ার পরে বেশি দামে তেল বিক্রি করে অধিক মুনাফা করবেন এমন আশায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার লোহাগড়া ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে গিয়ে সাংবাদিকসহ একাধিক গ্রাহক হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ পাম্পের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একাধিক গ্রাহকের গায়ে হাত তোলার মতো স্পর্শকাতর অভিযোগও রয়েছে। আত্মসম্মানের ভয়ে তারা কোথাও অভিযোগ করেননি।
জেলার ধোপাখোলা এলাকার সরদার ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন পাম্পের মালিকের নির্দেশে কর্মচারীরা গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। যাতে পাম্পে তেল আনতে গ্রাহকরা না যায় এবং কম যায়। এভাবে তেল কম দিয়ে তারা যাতে অধিক দামে গ্রামের খুচরা বিক্রেতাদের নিকট তেল বিক্রি করতে পারে। গ্রামের খুচরা বিক্রেতাদের নিকট পর্যাপ্ত তেল থাকার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তারা কোনোভাবেই স্বীকার করতে রাজি নন। কার নিকট হতে তেল কিনেছেন। এতটুকুই বলছেন, যে বেশি দামে কিনতে হয়েছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতি লিটার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল গ্রামের দোকানে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামের দোকানিরা খুবই ধূর্ত। তারা দোকানের গোপন জায়গায় তেল সেরে রাখছে। যার বাড়ির পাশে দোকান, তিনি বাড়িতে তেল রাখছেন। ক্রেতা টাকা দিলে নির্দিষ্ট জায়গা হতে তেল এনে দিচ্ছেন। তারা সকলকেই একই কথা বলছেন, তেল নাই। মাত্র ৫ থেকে ৭ লিটার তেল আছে। প্রতি লিটার এত টাকা দাম দিলে দেয়া হবে। ক্রেতা রাজি হলে আগে টাকা নিয়ে, তারপর তেল এনে দিচ্ছে। অথচ শহরের গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না। জানা গেছে, জেলার লাহুড়িয়া সড়কে, তুলারামপুর এলাকার তুলারামপুর-মাইজপাড়া সড়কে, তুলারামপুর-শেখহাটি সড়কে, নড়াইল-ফুলতলা সড়কে শেষ রাতের দিকে ভ্যান ও নসিমনে জ্বালানি তেল যেতে দেখেছেন রাস্তার পাশের বাসিন্দারা। জেলার লোহাগড়া ফিলিং স্টেশনের মালিক আলহাজ বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন