ব্যুরো থেকে কমিশনে রূপান্তর। কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। দীর্ঘ সময়ে মামলার পর মামলা। একের পর এক জট তৈরি হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বছরের পর বছর ঝুলছে অন্তত প্রায় ১২ হাজার মামলা। শুনানি চলছে। সাক্ষ্যগ্রহণও চলছে। কিন্তু নিষ্পত্তির হার খুবই কম। ফলে দিনপঞ্জিকার পাতা উল্টালেই যুক্ত হয় নতুন নতুন মামলা। আর এর ফলে বাড়ছে দীর্ঘসূত্রিতা।
দুদক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মোট ১১ হাজার ৭৫৩টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে অধস্তন বা বিচারিক আদালতে রয়েছে ৬ হাজার ৪৬১টি মামলা, হাইকোর্টে ৪ হাজার ৯৫টি এবং আপিল বিভাগে ৭৪৫টি মামলা বিচারাধীন। এ ছাড়া, উচ্চ আদালতের আদেশে ৪১৯টি মামলা স্থগিত রয়েছে।
দুদকের মামলাগুলোর বেশির ভাগ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, আয়কর ফাঁকি, সম্পদের তথ্য গোপন বা গরমিল, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা বিচারিক আদালতের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে আইনি প্রতিকার চান। অনেক ক্ষেত্রে দুদকের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়। ফলে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
দুদক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুদকের হয়ে মামলা পরিচালনার জন্য ১৩৫ জন আইনজীবীর একটি প্যানেল ছিল। তবে কাজের মান ও উপস্থিতির ঘাটতির কারণে নতুন প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১২ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার পরিবর্তনের কারণে সেই প্রক্রিয়া থমকে আছে। এদিকে, গত ৩রা মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করায় কমিশন বর্তমানে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এর আগে, গত বছরের ১৪ই আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী ড. শাহদীন মালিককে কেইস-টু-কেইস ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। তার সঙ্গে অস্থায়ীভাবে আরও ৫৩ জন আইনজীবী কাজ করছেন।
দুদকের ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে ঢাকায় ৮৬৫টি এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ৯৩৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া, ২৪৮টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে। এই সময়ে সারা দেশে মাত্র ৩৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এ ছাড়া, ২২ বছর আগে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলের ৩৩৫টি মামলা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে এখনো পর্যন্ত মাত্র একটি নিষ্পত্তি হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৩১৩ টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা ২ হাজার ২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১ হাজার ৮৪৬ কোটি ৮২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৩ টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, দুদকের মামলাগুলোতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে অর্থ আদায় একটি ইতিবাচক দিক। তবে বিচারাধীন মামলার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে। দুদকের প্রসিকিউশন টিম মামলা নিষ্পত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
১২ হাজার মামলার ভার দুদকের কাঁধে
মারুফ কিবরিয়া
২৮ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
