বাগেরহাটের শরণখোলায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী ফাতেমা আক্তার ওরফে রিয়া মনি (১৫) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রিয়ার মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে রায়েন্দা বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রুবেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে কিশোরীর বাবা আজিম শেখ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে গত ২৫শে মার্চ শরণখোলা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরণখোলা থানা পুলিশের এসআই (সেকেন্ড অফিসার) বিপ্লব কুমার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে পুলিশ কিশোরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ কললিস্টের সূত্র ধরে রফিকুল ইসলাম রুবেল (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড আবেদন করে আদালতে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক বিপ্লব কুমার আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের মাসুম হাওলাদারের ছেলে ও রায়েন্দা বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া, এই হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুইজনকে গত ২৬শে?? মার্চ রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলো- তুহিন (২২) ও মিজান (২৩)। তারা শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার ওসি মো. সামিনুল হক বলেন, তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বাগেরহাট জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার মূল হত্যাকারীসহ যারা জড়িত অচিরেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে শরণখোলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মরহুম মাওলানা একেএম এম ইউসুফ সাহেবের বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে মূল সড়কের উপর ?ফাতেমা আক্তার ওরফে রিয়া মনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিাযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে রিয়ার মাধ্যমে মাদক সরবরাহ, বিক্রি ও হানিট্র্যাফ হিসেবে ব্যবহার করতো। এ ছাড়া, রিয়া মাদক কারবারিদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ধারণা, মাদক ব্যবসা নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
শরণখোলায় কিশোরী রিয়া মনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
২৮ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
