কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার আগ্রাসন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচ্ছিন্ন অভিযানে কিছু চালান আটক হলেও মূল সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে থেকে পুরো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে, এমন অভিযোগ এখন প্রকাশ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাচারকারীরা এখন পুরোনো রুট এড়িয়ে নতুন কৌশলে ইয়াবা দেশে ঢুকাচ্ছে। উখিয়ার বালুখালী, বাইশফাঁড়ি, রত্নাপালং, হলদিয়াপালং, পাতাবাড়িসহ দুর্গম পাহাড়ি সড়ক এবং টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, লেদা, রঙ্গিখালী থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পর্যন্ত বিস্তৃত অন্তত ৩০-৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা প্রবেশ করছে। স্থলপথের পাশাপাশি সাগরপথেও ট্রলার ও পণ্যবাহী যান ব্যবহার করে চালান আনা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকাগুলোকে ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে মজুত রেখে সুবিধামতো সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মাদকের চালান। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি নজরদারিতে রেখে পরিকল্পিতভাবে চালান ছাড়ার তথ্যও মিলেছে। স্থানীয়দের দাবি, বড় ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সিন্ডিকেটগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আড়ালে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে। গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কিছু ব্যক্তিকে ঘিরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জোর দাবি উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নানের একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, মাফিয়া ডন ও মাদককারবারিরা এখন দলে প্রভাব বিস্তার করছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় যে শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয়, তার পেছনে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে এবার একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর শাহেদুল ইসলাম রোমান চৌধুরী বলেন, সীমান্তে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। উল্লেখ্য, ঈদের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদকের বিরুদ্ধে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন সীমান্ত জুড়ে যখন ইয়াবার আগ্রাসন প্রকাশ্য, তখন কার্যকর অভিযান শুরু হবে কবে। সচেতন মহলের মতে, প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় না আনলে এবং সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের ধরতে না পারলে সীমান্তের এই মাদক বাণিজ্য বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব।
থামেনি ইয়াবা ব্যবসা বদলেছে কৌশল
স্টাফ রিপোর্টার, উখিয়া থেকে
২৮ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
