যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সারা দেশে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়াও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনসহ সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে রাষ্ট্রের পক্ষে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন, সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন এবং সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়। সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে দিবসটি উদ্যাপিত হয়েছে।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সকাল ৬টায় নোমানি ময়দানে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, জেলা পরিষদ, বিএনপি মাগুরা শাখা, মাগুরা পৌরসভা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মাগুরা প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল ৮টায় মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন হয়। বেলা ১২টায় জেলা অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। বিকাল ৪টায় কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, কেরানীগঞ্জ থেকে জানান, সকাল ৯টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্যারেড ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্যারেড কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই দিনটিকে আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবো। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান- তাদের আমরা চিরদিন মনে রাখবো। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কেরানীগঞ্জ সার্কেল ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ রাজস্ব সার্কেল ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বেগ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার ওসি মো সাইফুল ইসলাম সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকগণ।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে শুরু হয় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। পরে শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিপুল কুমার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি জেসমিন নাহার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান প্রমুখ। এরপর জেলা স্টেডিয়ামে পুলিশ আনসার স্কাউট দলসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সদস্যদের উপস্থিতিতে কুচকাওয়াজ ও মার্চপাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও পুলিশ সুপার রওনক জাহান শরীয়তপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্কুল-কলেজ, আনসার-ভিডিপি, স্কাউট ও পুলিশ অভিবাদন সালাম গ্রহণ করেন। পরে সকলের কুজওয়াজ পরিদর্শন করেন। শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা করে। এ ছাড়া জেলখানা ও হাসপাতাল প্রীতি ভোজের আয়োজন করা হয়। চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত প্রশাসক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্দার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। এ ছাড়াও বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, সকাল ৯টায় নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামান ও পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম। একই মাঠে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরত প্রদর্শন, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, শিশু-কিশোরদের সংগীতানুষ্ঠান, মহিলাদের খেলাধুলা এবং নীলফামারী পৌরসভার আয়োজনে প্রীতি ফুটবল ম্যাচসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্মৃতি অম্লানে দিনের প্রথম প্রহরে জেলা বিএনপি ও জেলা যুবদলসহ সহযোগী সংগঠনসমূহ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে। এ সময় জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক ও যুবদল সভাপতি রবিউল আলম রব্বুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, সকালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ চত্বরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, জেলা বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক এডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম জানু শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিকালে জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। পরে উপজেলা চত্বরের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় সরাইল উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরাইল সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সামাজিক সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। উপজেলার সকল স্কুল-কলেজ, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহ ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৮টায় সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কাউট অ্যান্ড গার্ল ইন স্কাউট, কাবদলের ডিসপ্লে, কুচকাওয়াজ। এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন বেগম ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুর, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নুরুজ্জামান লস্কর তপু, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মাহমুদ আলী, যুবদল ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গকে দেয়া হয় সংবর্ধনা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুল হক সজীব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন বেগম, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার ও জামায়াতের আমীর মো. এনাম খান। বাদ জোহর মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে জানান, বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামাল উদ্দিন। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের মানুষ। সকাল সাড়ে ৮টায় এম সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক। পরে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সাতক্ষীরায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। সকাল ৬টায় শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল ৮টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সালাম গ্রহণ এবং বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম মুকুল, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এসময় পুলিশ, আনসার, বিএনসিসি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ মার্চপাস্ট, শারীরিক কসরত প্রদর্শনী ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। দিবসটি উপলক্ষে আরও আয়োজন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, মাজার জিয়ারত, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। এছাড়া আলোচনা সভা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সোনারগাঁয়ে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে সোনারগাঁ উপজেলা চত্বরে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এম সালাউদ্দিন-এর নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে ক্লাব কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের সহ-সভাপতি মোক্তার হোসেন মোল্লা, ফজলে রাব্বী সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, যুগ্ম সম্পাদক রবিউল হুসাইন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খায়রুল আলম খোকন, নির্বাহী সদস্য মনির হোসেন, সাবেক আহ্বায়ক মাসুদ শায়ান, সদস্য আনিছুর রহমান, হুমায়ন কবির, গিয়াস কামাল, কাজী সেলিম রেজা, কামরুল ইসলাম পাপ্পু ও সুমন মিয়া প্রমুখ। আলোচনা সভায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে সোনারগাঁ উপজেলা চত্বরে নির্মিত স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করেন।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্যাপিত হয় জাতির গৌরবময় এই দিনটি। দিনের কর্মসূচির সূচনা হয় সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ৩৬শে জুলাই চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। পরে অনুষ্ঠিত হয় সুশৃঙ্খল মার্চ পাস্ট। এতে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশপ্রেম, গৌরব ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত এক আবহ। পরে গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিভ্রমণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর। এরপর পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকবৃন্দ। পরে পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সঞ্চালনায় মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও চেতনা নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ্ মৃধা।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। দুপুরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ শওকতুল ইসলাম এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। উনাদের পক্ষ থেকে একটি দাবি এসেছে ‘তাদের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করা’ বিষয়টি আমি সংসদে উপস্থাপন করবো। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম এর উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক কমলাকান্ত ভৌমিক, সাবেক আহবায়ক সুশীল চন্দ্র দে, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রেদোয়ান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর ও সুলেমান আলী, সাবেক পৌর কাউন্সিলর কায়সার আরিফ, প্রেস ক্লাব কুলাউড়ার সিনিয়র সহ-সভাপতি ময়নুল হক পবন, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী সোহেল, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা ফারুক মিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল জামাল, সাংবাদিক খালেদ পারভেজ বখস ও আলাউদ্দিন কবির প্রমুখ।
সিকৃবি প্রতিনিধি জানান, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ভবন, সকল একাডেমিক ভবন, অফিস ও আবাসিক হলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকালে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি সমগ্র ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক, পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা), প্রক্টর, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক, অনুষদীয় ডিনবৃন্দ, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, দপ্তর প্রধানসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এরপর শহীদ মিনারে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিকৃবি ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ। পরে জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটির ব্যবস্থাপনায় শহীদ মিনারে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর, জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি, ডিন কাউন্সিল, প্রভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টর কার্যালয়, বিভিন্ন আবাসিক হল, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন আঞ্চলিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে এ দিবসের শুভ সূচনা হয়। পরে উপজেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিক ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এদিকে, সকাল ৯টায় রাজনগর পোর্টিয়াস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার। পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা এ কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন সাহার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভুইয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফারজানা হোসেন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টার, মুক্তিযুদ্ধের সাবেক কমান্ডার সজল চক্রবর্তী, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু রাইয়ান শাহীন, রাজনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আউয়াল কালাম বেগ, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক চন্দ্র দেব ও উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আহমদ প্রমুখ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ। পরে উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্যদিয়ে দিনের সমাপ্তি হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ.স.ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, কেডিএ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা, খুলনা প্রেস ক্লাব, নৌ-পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, শ্রম দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিএনপি জেলা ও মহানগর অঙ্গসংগঠনসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। এদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন- বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। পরে একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক আ.স.ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নগরভবনে সিটি করপোরেশনের আয়োজনে শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস, পিআইডি’র আয়োজনে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্য সন্তান। তাদের আত্মাহুতিতে অর্জিত হয় আজকের এই স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধাদের ছাড়া বাংলার ইতিহাস কখনো সম্পূর্ণ হবে না। জেলা প্রশাসক আ.স.ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তোফায়েল আহাম্মেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু জাফর ও জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সাকিব রায়হানের গর্বিত মাতা বেগম নূরনাহার প্রমুখ। সকাল ১১টায় মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে খুলনা প্রেস ক্লাবস্থ ইউনিয়ন কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, দিবসটি ঘিরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জেলা জুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। গতকাল বৃস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে সেখানে জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামসহ জেলা বিএনপি, পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের জন্য মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সকাল ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্কাউট, গার্লস গাইড, রোভার স্কাউট এবং বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করে মনোমুগ্ধকর বিভিন্ন শারীরিক কসরত উপস্থাপন করে। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
দিনব্যাপী এ সব কর্মসূচিতে জেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
