দামুড়হুদায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

দামুড়হুদায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

ফন্ট সাইজ:

মহান স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষকের নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, তর্ক-বিতর্ক এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক জামায়াত নেতাকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিএনপি’র এক নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নাটুদা ইউনিয়নে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে মৌখিক বাকবিতণ্ডা হলেও পরে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী নাটুদা হাইস্কুলের এক ধর্মীয় শিক্ষকের দিকে তেড়ে যান এবং তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনার একপর্যায়ে নাটুদা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর শামসুজ্জোহা এবং স্থানীয় বিএনপি সভাপতির ভাই শামসুলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় বিএনপি’র এক নেতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমীর নায়েব আলী এবং সেক্রেটারি মো. টিটন দাবি করেন, তারা শুরু থেকেই পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। তাদের ভাষ্য, আমরা কোনো সংঘাত চাইনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা আরও বলেন, একটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া দুঃখজনক এবং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, সরকারি এ আয়োজনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। তার অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করার পরও উপস্থাপক জামায়াত-সমর্থিত কর্মী স্বাধীনতার ঘোষকের নাম এড়িয়ে যান, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং সম্মানও দেওয়া হয়নি। একইদিনে দামুড়হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আরেকটি অনুষ্ঠানেও বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুল্লাহ রহমান সাহেল বলেন, নাটুদা এলাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা দুঃখজনক। প্রতি বছরের মতো ফুল দেওয়া ও দোয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। স্বাধীনতার ঘোষকের নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে কিছু আপত্তি ওঠে, সেখান থেকেই তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তিনি জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন