সেতু আছে সড়ক নেই

সেতু আছে সড়ক নেই

ফন্ট সাইজ:

সেতু নির্মাণ হয়েছে প্রায় এক দশক আগে। কিন্তু আজও ওঠার সড়ক না থাকায় তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। জানা যায়, ‘বাঘদাছড়া সেতু’- নামে পরিচিত হাসিনাবাদ-জামালপুর সংযোগ সেতুটি নির্মাণের পরও দুই পাশের সড়ক না থাকায় পুরো অবকাঠামোটি অকার্যকর হয়ে রয়েছে। সেতুর দুই পাশে মাটি সরে গিয়ে রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীরাও নিরাপদে পারাপার হতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানান, হরষপুর রেলওয়ে ব্রিজের দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সেতুটি চালু না হওয়ায় পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে মাধবপুর ও পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্বল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নালায় পানি বাড়লে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে পাশের রেল সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। কাঠের তক্তা বসিয়ে প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ ওই সেতু পার হতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট। এ সময় হঠাৎ ট্রেন চলে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য এটি প্রায় অতিক্রম-অযোগ্য হয়ে পড়ে।
হরষপুর, শিবরামপুর, জামালপুর, বিষ্ণুপুর, সমজদিপুর, শিয়ালউড়ি, হাসিনাবাদ, চেঙ্গার বাজার, কাশিমপুরসহ অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগে রয়েছেন। ২০১০ সালে শুরু হওয়া সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি সংযোগ সেতু চালু না হওয়ায় আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, লাখো মানুষের দুর্ভোগ হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। তবে এ প্রকল্পে তাদের করণীয় সীমিত এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দও নেই। এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানান- তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেতুর দুই পাশের সড়ক ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি ফিরবে বলে মনে করছেন তারা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন