বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড সাব-স্টেশনে ডাকাতি ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড সাব-স্টেশনে ডাকাতি ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

ফন্ট সাইজ:

নাটোরের বড়াইগ্রামের জোয়াড়ি খেজুরতলা এলাকায় নির্মাণাধীন বনপাড়া পাওয়ার গ্রিড সাব-স্টেশনে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ৩০-৩৫ জন ডাকাতদলের সদস্যরা স্টেশনে ঢুকে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে জানায়- কর্তব্যরত কর্মকর্তারা। তবে এই ডাকাতির ঘটনা পূর্ব-পরিকল্পিত ও রহস্যময় বলে মনে করছেন অনেকেই। জানা গেছে, বনপাড়া-নাটোর মহাসড়কের পাশে উপজেলার জোয়াড়ির খেজুরতলা এলাকায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ এর পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেন্দেনিং প্রজেক্ট এর অধীনে ১৩২/৩৩ কেভি বনপাড়া গ্রিড সাব-স্টেশন এর নির্মাণ কাজ চলছে। যা প্রায় শেষের পথে। ওই সাব-স্টেশনে রাতে মোট ৪জন সিকিউরিটি গার্ড দায়িত্বরত ছিল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি ট্রাক ওই সাব-স্টেশনে ঢুকে। সিকিউরিটি গার্ড ধারণা করেছিলো পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির মালামাল এসেছে। কিন্তু ট্রাক ভিতরে গিয়ে থামার পর সেখান থেকে ডাকাতদলের সদস্যরা নেমে ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, দা-সহ দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কর্তব্যরত গার্ডদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় ও একটি কক্ষে নিয়ে বেঁধে রাখে। ডাকাতদলের সদস্যরা স্টোরের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি ও বাইরে থাকা তামার তার সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে যায়। নির্মাণ কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হেক্সাগন বিডি টেক লিমিটেড এর সুপারভাইজার ফজলে রাব্বি জানান, ডাকাতদলের সদস্যরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ৩৯০টি, তামার তার ২ হাজার মিটার, বৈদ্যুতিক পাখা ৮টি, কন্ট্রোল ক্যাবল ১০০ মিটার, সিসি টিভি’র ফুটেজ সংরক্ষণের ও কম্পিউটারের ২টি হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। এ সকল মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা বলে জানান তিনি।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার শেখ আবদুল্লাহ জানান, ভোর ৫টার দিকে সিকিউরিটি গার্ড তাদের হাতের বাঁধন খুলে পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়ে আমাদেরকে মোবাইল ফোনে ডাকাতির ঘটনা জানায়। পরে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, খুব সকালে থানা পুলিশ খবর পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। ডাকাতি নাকি চুরি নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে তা বের করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। আপাতত দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ডদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করি, মূল বিষয়টি উদ্‌ঘাটনে পুলিশ সক্ষম হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন