দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি কিছু প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর
করেন। শেষে তিনি শুকরিয়া আদায় করে নিজেই দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, কারও ন্যায়বিচারে বাধা দেবো না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ত্রয়োদশ ও পঞ্চদশ সংশোধনী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানিতে ব্যারিস্টার কাজলের সাবমিশন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
বিএনপি’র আইনজীবী নেতা রুহুল কুদ্দুস কাজল বিগত সরকারের সময় মামলা, হয়রানির শিকার হন। একটি মামলায় তাকে কারাবরণও করতে হয়। তিনি বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনবার (২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তিনি ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স), ১৯৯৪ সালে এলএলএম করেন। ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল সনদ অর্জন করেন। ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হন।
রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৮৬ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন।
২০২০ সাল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ই আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি বিএনপি’র মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত বছরের ২৭শে ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছাড়েন আসাদুজ্জামান। তার পদত্যাগের পর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। অন্যদিকে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপি’র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান। বিএনপি’র সরকারে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
