কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষ, কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে চিরচেনা শহর -ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল

কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

ফন্ট সাইজ:

ঈদের ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরছেন তারা। মঙ্গলবার থেকে খুলেছে সরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে অফিস খুললেও এখনো রাজধানী ফাঁকা। কোথাও যানজট নেই। অফিস-আদালতে বিরাজ করছে ছুটির আমেজ। অনেকে অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর, বনানীসহ ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সবগুলো সড়কই ফাঁকা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ীতে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাত্রীদের নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করছে দূরপাল্লার বাসগুলো। নগরের পরিবহনগুলো যাত্রীদের খোঁজে হাঁক-ডাক দিচ্ছে। তবে যাত্রীদের তেমন সাড়া মিলছে না। শফিক আহমদ নামের এক শিক্ষার্থী মানবজমিনকে বলেন, প্রায় ২০ মিনিট ধরে শিকড় বাসে উঠে বসে আছেন। কিন্তু মাত্র ৪ জন যাত্রী হওয়ায় এখনও বাসটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রাবাড়ী ছেড়ে যায়নি। তবে, রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ির সারি ও ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে থাকার চাপ না থাকায় দ্রুতই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। এ সময় পথচারীদের ভিড়ও ছিল না। সড়কের পরিস্থিতির বর্ণনা করে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম রাব্বী মানবজমিনকে বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির আমেজ এখনো কাটেনি, তবে মঙ্গলবার থেকে প্রথম কর্মদিবস শুরু হয়েছে। সকালে যখন মিরপুর ১-এর বাসা থেকে আমার কর্মস্থল বনানীর ল’ ফার্মে এলাম।

মিরপুর ১০, ১৪ নম্বর হয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সড়কগুলো এখনও ফাঁকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের হাসিমুখ বলে দেয় ঈদের রেশ এখনো কাটেনি। তিনি আরও বলেন, উৎসবের এই আবহের ব্যক্তিগত গাড়ি আর গণপরিবহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকার আরেকটি কারণ হতে পারে জ্বালানি সংকট। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাসের অপেক্ষায় থাকা ঘরমুখো মানুষের ভিড় উৎসবের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিচ্ছে। এদিকে, গুলশানে অবস্থিত মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হেড অফিসে কর্মরত আজিজুল হক তুহিন মানবজমিনকে বলেন, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ব্যাংকগুলোতে লেনদেন শুরু হয়, যা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। প্রথম কর্মদিবসে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছাবিনিময় ও আনন্দঘন পরিবেশে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যাংকে আসা কিছু গ্রাহক নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছেন। তবে গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

তিনি বলেন, ছুটির কারণে অনেক গ্রাহক এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। ফলে প্রথম দিন ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় লেনদেন কম হয়েছে। এদিকে দুইদিন ব্যাংকিং কার্যক্রম চলার পর স্বাধীনতা দিবসসহ আবারো টানা ৩ দিনের ছুটি পড়ছে। ফলে আগামী সপ্তাহের রোববার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাথের দোকানগুলো খুলতে শুরু করেছে। রানা নামের এক দোকানি জানায়, বেলা সাড়ে ১১টায় দোকান খুললেও ৪টা পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি। এছাড়া কিছু মহল্লাভিত্তিক দোকানে সীমিতভাবে বেচাকেনা চলছে। এর আগে গত ২১শে মার্চ সারা দেশে উদ্‌যাপিত হয় মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩শে মার্চ পর্যন্ত মোট সাতদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন