দেশে মব সংস্কৃতি দমনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আদালতে আটক একজন সাবেক সংসদ সদস্যের ওপর মব সৃষ্ট করা হয়েছে এরকম প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা জানান। তারেক রহমানের সরকারের এক মাসে কি কি কর্মকাণ্ড করেছে, সে সম্পর্কে জানাতেই তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয় এই সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর জহির উদ্দিন স্বপনের এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। এতে তথ্য ও সমপ্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, মব সম্পর্কে আমাদের সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই আলোচিত। আপনারা জানেন, আমাদের পজিশনটা কী? আমাদের সকলের মাথায় রাখতে হবে আমরা যখন একটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব নিয়েছি, তখন দীর্ঘদিনের একটা বেআইনি প্রেক্ষাপটের উপরে দাঁড়িয়ে আমাদেরকে দায়িত্বটা পালন করতে হচ্ছে। আশা করি, দীর্ঘদিনের যে জঞ্জাল, যে অপসংস্কৃতি আমাদের অনেকের মাথার মধ্যে কাজ করছে- সেখান থেকে আমরা খুব দ্রুতই আইনের জায়গাটিতে ফিরে আসতে পারবো। আমাদের সরকার মব সংস্কৃতিকে দমন করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো যেমন ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন-বিভিন্ন ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক ভাতা, খাল খনন কর্মসূচি, ফার্মার্স কার্ড চালু সর্বশেষ অবস্থা, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টার মধ্যে সচিবালয় অফিস করা, ভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে আনা, নারীদের জন্য বাস চালু, বিদেশে কর্মসংস্থানের সহজশর্তে ঋণ প্রদান, বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগ করতে সবকিছু সহজীকরণ, অফিস-আদালতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা ডিউটি ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেয়া প্রভৃতি কর্মসূচির অগ্রগতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির পরিস্থিতিটা আপনারা সবাই জানেন। আমাদের বিদ্যুৎ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এখনো পর্যন্ত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেননি। এমনকি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে জ্বালানির যে মূল্য আছে, তার সঙ্গেও আমাদের মূল্যের বেশ ব্যবধান আছে। যুদ্ধ সংকটকে মাথায় রেখে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটা মন্ত্রিপরিষদ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা অন্তত দক্ষতার সঙ্গেই এই সময়কার পরিস্থিতিকে একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে এনেছেন। ফলে আমাদের এই মুহূর্তে কোনো সংকট নাই।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে বিভিন্ন রকম সংবাদ যেহেতু ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে- সে কারণে একটা প্যানিক বাইং শুরু হয়েছে। এই প্যানিক বাইংটার কারণে সরকারকে একটা চাপের মধ্যে থাকতে হয় এবং আমাদের দেশের রাজনীতি এবং সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে যেহেতু একদল লোক এ ধরনের পরিস্থিতিকে পুঁজি করতে পারে বা পুঁজি করতে চায়, সে কারণে আমাদের এই প্যানিক বাইং মনোজগতের বিরুদ্ধে আপনাদের মাধ্যমে একটা জনসচেতনতা তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। আপনারা (সাংবাদিকরা) যদি সহযোগিতা করেন, সেক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় এই আতঙ্কিত হয়ে ক্রয় করার যে একটা পরিস্থিতি, এখান থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি সবকিছু চলে তাহলে আমরা আশাবাদী যে, আর কোনো সংকট আমাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।
গণমাধ্যমের নানা সমস্যা সমাধানে করণীয় ঠিক করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তথ্যমন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনাদের গণমাধ্যমের দায়িত্ব আছে যে, মানুষকে এটা বলার চেষ্টা করা প্যানিক বাইং এবং স্টোরেজ যাতে তারা অতটা না করেন। আর হ্যাঁ পাম্প পর্যায়ে হয়তো কেউ কেউ স্টোর করার চেষ্টা করছে, আমাদের সরকার সেগুলো একটু দেখার চিন্তা করছে। আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, স্টোরেজ করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে, দাম যেকোনো মুহূর্তে বেড়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং দাম যেহেতু বাড়ছে না, এই স্টোর করে রাখার প্রবণতা আসলে তাদের জন্য খুব বেশি সুবিধা হবে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ওয়েজ বোর্ড আমরা ঠিক করি না, এটা শ্রম মন্ত্রণালয় করে। আমরা এটা ফাইনালাইজ করি না। আমরা শুধু পরামর্শ দিতে পারি, যদি তারা পরামর্শ চান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার আমরা আধুনিকায়ন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন যে, আমরা অনেক কর্তাকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছি। কারণ আমরা বিটিভি ও বেতারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিটিভি পরিদর্শন করেছি। সেখানেও বিটিভিকে কীভাবে আজকে আধুনিক করা যায়, সেগুলো দেখছি। এখানে শুধু যে টেকনোলজিক্যালি সেটা না, আমাদের কর্মকর্তা এবং ট্রেনিং সবকিছুই এর আওতায় থাকবে।
