সিলেটের পর্যটন মাস্টার প্ল্যানের আওতায় আসছে

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের পর্যটন না পাথর কোয়ারি ব্যবসা। সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারেননি। ভবিষ্যতেও নেয়াটা কষ্টকর। আবার দুটো সমান্তরালভাবে চলাও দায়। একটি টিকলে অন্যটির ক্ষতি। ফলে বিগত কয়েক দশক ধরে কোনো সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন ছাড়াই চলছে পর্যটন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও বাস্তবায়ন করতে পারেননি পরিকল্পনা। উল্টো বার বার তিনি বিতর্কিত হয়েছেন। সিলেটের পর্যটনের তীর্থস্থান জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ।

জৈন্তাপুরে লালাখাল, শাপলাবিল, শ্রীপুর, আলুবাগান। গোয়াইনঘাটে জাফলং, বিছনাকান্দি, মায়াবী ঝরনা, রাতারগুলসহ কয়েকটি স্পট। আর কোম্পানীগঞ্জে আছে সাদাপাথর, উৎমাছড়া পর্যটন স্পট। গোটা বছরই এসব পর্যটন স্পটগুলোতে ঢল থাকে মানুষের। বাংলাদেশের কক্সবাজারের পর সিলেট হচ্ছে পর্যটনের অন্যতম স্থান। ঈদ পার্বনে তো রীতিমতো জনস্রোতে পরিণত হয় এসব পর্যটন স্পট। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে এসব স্পটে। এখনো পর্যটকদের স্রোত রয়েছে। হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসনও। তবে এবার দেখা গেছে বিদেশি পর্যটকদেরও। তারা প্রকৃতিঘেরা এসব স্পট ঘুরে দেখছিলেন। পর্যটকদের এই ঢল দেখে ঈদের পর দিনই সাদাপাথর ছুটে গিয়েছিলেন এলাকার এমপি, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে সাদাপাথরেই কয়েকজন বিদেশি পর্যটক কথা বলেন। বলতে গেলে সিলেটের পর্যটন স্পটে কোনো সুবিধা পান না পর্যটকরা। এর কারণও আছে। বর্ষার মৌসুমে এসব স্পট হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর। পানির ঢলে তলিয়ে যায় সবকিছু। স্রোতে ভেসে যায় দোকানপাটও। আর ঢল নামাই হচ্ছে এসব স্পটের মূল সৌন্দর্য।

ভোলাগঞ্জের ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামান নোমান জানিয়েছেন- সাদাপাথর প্রকৃতির চাদর বিছানো একটি সৌন্দর্য স্পট। পাথর লুটের পর প্রশাসনের তরফ থেকে কৃত্রিমভাবে পরিবেশ ফিরিয়ে আনার যে চেষ্টা হয়েছিল সেটি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তবে মাঝখানে একটি ঢলে বেশকিছু পাথর আসার কারণে সাদাপাথরের সৌন্দর্য বেড়েছে। কোম্পানীগঞ্জ ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক আবিদুর রহমান জানিয়েছেন, এমন এক পরিস্থিতি পর্যটন স্পটে সুবিধা বাড়ানোর জন্য স্থায়ী কোনো কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। যদি কিছু করা হয় তাহলে সেটি অস্থায়ী হতে হবে। এগুলো আবার ঢলে তলিয়ে যাবে। তবে যা কিছু করতে হবে পরিকল্পনা মতো করতে হবে। কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও রবিন মিয়া জানিয়েছেন, সাদাপাথরকে আকর্ষণীয় করতে ১০ নম্বর এলাকা কিছু কাজ করা হয়েছে। এখন খালি জায়গায় পরিকল্পনা মতো দোকানপাট বানানো হবে। কয়েক লাখ গাছ লাগিয়ে এলাকাকে পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করা হবে। জাফলংয়ের মূল স্পট এলাকায় নেই কোনো সুবিধা। টয়লেট, কাপড় পরিবর্তন, শিশুদের বিশ্রাম, যাতায়াত সুবিধা নেই। ফলে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয় পর্যটকদের। আর বিছনাকান্দি হচ্ছে দুর্গম এলাকা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তবে বিগত সরকার পর্যটন এলাকাকে একীভূত করতে কোম্পানীগঞ্জ থেকে জাফলং পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে ব্রিজে কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে কাজে গতি নেই। অনেক জায়গায় কাজও আটকে আছে। এতে করে পর্যটকসহ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। পর্যটন এলাকার মধ্যে সাদাপাথর ছাড়া আর কোনোটিতেও ইজারার ব্যবস্থা নেই। ফলে যে যেভাবে পারছেন সেভাবে দখল করে ব্যবস্থা খুলেছেন। পরিকল্পনা মতো না চলার কারণে বলতে গেলে অভিভাবকহীন সিলেটের সব পর্যটন এলাকা। কেবলমাত্র প্রতিকূল পরিবেশে থানা ও পর্যটন পুলিশ নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় কাজ করে যাচ্ছে। সিলেটের পর্যটন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন এলাকার এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেটে এবারের পর্যটকদের ঢল দেখে তিনি নিজেও গুরুত্ব অনুভব করেছেন। বলেছেন, পর্যটন এলাকা নিয়ে মাস্টার প্লান গ্রহণ করা হবে। এরপর প্ল্যান মতো কাজ করা হবে। এতে করে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে। খুব দ্রুতই যে প্ল্যান করা হবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন