গোপালগঞ্জে ভোটার উপস্থিতি কম

গোপালগঞ্জে ভোটার উপস্থিতি কম

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে গোপালগঞ্জের নির্বাচনী চিত্র এবার একেবারেই ভিন্ন। ভোটারদের উপস্থিতি খুবই নগন্য, জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দেখা না মিললেও শুধুমাত্র ধানের শীষ প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অন্য প্রার্থীদের এজেন্টদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা—বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান—দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আসন থেকেই একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। তবে এবার সেই পরিচিত চিত্র পাল্টে গেছে।
টুঙ্গিপাড়ার ডিমাডাঙ্গা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারশূন্য পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করতে এলেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। এ কেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি ভোটার থাকলেও সকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল নগণ্য।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুরো গোপালগঞ্জ জেলায় প্রায় ১০ লাখ ভোটার রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। দলটির পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনাগ্রহ সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব সরাসরি ভোটকেন্দ্রের উপস্থিতিতে পড়েছে।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় পদধারী নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, কেউ কেউ কারাবন্দি আছেন বলেও জানা গেছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এখনো আশাবাদী। তাদের ধারণা, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে পুরো জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরালো রয়েছে। তবুও ভোটকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন