মাগুরায় তেল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন

ফন্ট সাইজ:

মাগুরা শহরের পাম্পগুলোতে তেল সংকট থাকায় ঈদের পরবর্তী দু’দিন কোনো তেল পায়নি গ্রাহকরা। ঈদের পর তৃতীয় দিন মঙ্গলবার তেল পাম্পগুলোতে তেল দেয়া শুরু হলে ভোর থেকেই তেল পাম্পগুলোতে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। মোটরসাইকেল, বাস, পিকআপ আবার অনেককে তেলের খালি কন্টেইনার নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি গ্রাম থেকে আসা কৃষকরাও লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। মাগুরা শহরের ভায়না মোড় এলাকায় সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, চাহিদার তুলনায় পাম্পগুলো তেল দিচ্ছে খুবই কম। অনেকে আক্ষেপ করে বলছেন, পাম্পগুলো রাতের আঁধারে তেল পাচার করছেন অন্যত্র। এদিকে, গ্রামের হাট-বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আগে যেখানে তেল বিক্রি হচ্ছিল ১৫০ টাকা লিটার সেখানে এখন এক লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়।

কৃষকরা বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাচ্ছি মাত্র ৪ লিটার। তেলের অভাবে আমরা ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছি না। অনেক কৃষক ধানের জমিতে সেচ দিতে না পেরে বিপাকে রয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন দোকানে প্রতি লিটার তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। তেলের এই দাম বৃদ্ধিতে আমাদের কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। মোটরসাইকেল গ্রাহক আবু বক্কর জানান, ঈদের আগে থেকেই মাগুরার প্রায় সব পাম্পগুলোতেই তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে পাম্প মালিকরা বলছে, ঈদের আগে আমাদের তেল সংকট ছিল। ঈদের দুইদিন পর তেলবাহী ট্রাক আমাদের পাম্পে ঢুকেছে। কিন্তু গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বেশি তেল দিতে পারছি না। অনেকের চাহিদা ১০ থেকে ১৫ লিটার কিন্তু আমরা সেই তেল দিতে পারছি না। আবার অনেকেই ৫ থেকে ৮ লিটার তেল নিতে চায়। কিন্তু আমরা আমাদের তেলের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যেককেই অল্প অল্প করে দিতে চাই। আমরা আশা করছি, এক মাসের মধ্যেই সংকট দূর হবে। জানা গেছে, মাগুরা জেলায় ১৫টি জ্বালানি তেলের পাম্প রয়েছে। তেলের সংকট দেখিয়ে অনেক পাম্প মালিকরা গোপনে রাতের আঁধারে তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন