ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলি চ্যানেল ১২-এর বরাতে আল-আরাবিয়া ও আল-হাদাস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভেন উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের মধ্যস্থতায় একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক মাস মেয়াদী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে একটি ১৫ দফার খসড়া চুক্তির ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা চলবে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির প্রক্রিয়াটি গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক সমঝোতা মডেলের আদলে তৈরি করা হয়েছে। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান এবং ফোরদোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস ও অকেজো করে ফেলা। একইসঙ্গে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না এবং তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ রাখবে।
বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং সংস্থাটিকে ইরানের সকল তথ্য ও স্থাপনায় অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে খসড়া চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানকে দীর্ঘদিনের ‘প্রক্সি’ বা ছায়াযুদ্ধের নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা প্রদান বন্ধ করতে হবে। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কোনো অবস্থাতেই বন্ধ না করার নিশ্চয়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, তবে শর্ত দেয়া হয়েছে যে এসব ক্ষেপণাস্ত্র কেবল আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার এবং ভবিষ্যতে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা বা ‘স্ন্যাপব্যাক’ অপশন ব্যবহারের হুমকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
এছাড়া বুশেহরে ইরানের বেসামরিক বা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হয়েছে এই খসড়া প্রস্তাবে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণেই ইরান এবার আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ১৫ দফার ওপর ভিত্তি করে আগামী এক মাসের যুদ্ধবিরতিকালীন সময়ে দুই পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র- মিডল ইস্ট আই

নিরীহ প্রাণী
২ মাস আগেআমেরিকার ইউরেনিয়াম কি হবে।
আলোচনা একটা ফাদ আসলে ইরানের অবশিষ্ট শীর্ষ নেতাদের হত্যা করাই উদ্দেশ্য