সূর্যাস্তের রঙে রঙিন ইনানী-পাটুয়ারটেক, পর্যটকের ঢল

ফন্ট সাইজ:

 ঈদের টানা ছুটিতে কঙবাজারের উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকত ও পাটুয়ারটেক এলাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় নেমেছে। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। আয়নার মতো স্বচ্ছ পানি, ছড়িয়ে থাকা কোরাল, আর পড়ন্ত বিকেলের রঙিন আকাশে সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য যেন পর্যটকদের ঈদের আনন্দকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। একদিকে বিস্তীর্ণ নীল সমুদ্র, অন্যদিকে সবুজ পাহাড়, এই অনন্য প্রাকৃতিক মেলবন্ধনে ইনানী সৈকত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
সোমবার সরজমিন পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা গেছে, ইনানীর অদূরেই অবস্থিত পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘেঁষা এই পাথুরে সৈকত অনেকটাই সেন্টমার্টিনের আবহ তৈরি করে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের গর্জন আর লাল আভায় রাঙা আকাশ উপভোগের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে অনন্য। এতে ইনানী ও পাটুয়ারটেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পর্যটকরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে চান। তবে পর্যাপ্ত আবাসিক হোটেল-মোটেল না থাকায় অনেককে কঙবাজার শহরে ফিরে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বরিশাল থেকে আসা পর্যটক কলিম চৌধুরী বলেন, ইনানী বিচের পানি অনেক স্বচ্ছ, কোরালের ছড়াছড়ি আর সূর্যাস্তের দৃশ্য অসাধারণ, এখানে এসে আলাদা শান্তি পাওয়া যায়। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা আসাদুল ইসলাম বলেন, টানা ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি, পরিবেশ খুব ভালো লেগেছে। চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা নিলুফার বলেন, পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত একেবারেই অন্যরকম, মনে হচ্ছে সেন্টমার্টিনে এসেছি। ইনানীর অভিজাত হোটেল প্যাবল স্টোনের ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান বলেন, পর্যটকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও মানসম্মত আবাসন না থাকায় অনেকেই এখানে থাকতে পারছেন না।
ইনানী সৈকতে কর্মরত বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় সরকার জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। স্থানীয়দের মতে, সেন্টমার্টিন-সদৃশ পাথুরে সৌন্দর্য, নিরিবিলি পরিবেশ এবং সূর্যাস্ত দেখার অনন্য অভিজ্ঞতার কারণে পাটুয়ারটেক ইতিমধ্যে কঙবাজারের নতুন ‘তারকা সৈকত’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ইনানী পাটুয়ারটেক ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন