স্কুল ভর্তিতে ফিরছে পরীক্ষা, পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত

স্কুল ভর্তিতে ফিরছে পরীক্ষা, পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত

ফন্ট সাইজ:

স্কুল ভর্তিতে লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শিক্ষার মান নিশ্চিত রাখতে স্কুল ভর্তিতে পরীক্ষার কথা বলছেন একপক্ষ। আরেকপক্ষ শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধিসহ কোচিং, গাইডবই ব্যবসার প্রসারের শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তবে অনেকেই প্রাথমিকে লটারি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে মত দেন। দীর্ঘ আট বছর লটারির মাধ্যমে ভর্তি চলছে। বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পরীক্ষা ফেরানোর ঘোষণা দেয়া হয়। তবে সরকারের তরফে এই পরীক্ষা বাড়তি চাপ যোগ করবে না বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যদিও এখনো পরীক্ষার রূপরেখা দেয়া হয়নি।

ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তের বিষয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার, বিভিন্ন পেশার ২০ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয়। শহরাঞ্চলের অভিভাবকরা লটারির পক্ষে কথা বলছেন। পরীক্ষা চালু হলে তদবির, বাণিজ্য ইত্যাদির সুযোগ বাড়বে বলেও মত তাদের। গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষার কথা। তারা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু থাকলে ঐতিহ্যবাহী স্কুলগুলোতে মেধাবীরা গ্রামাঞ্চল থেকে উঠে আসার সুযোগ পাবে। তবে তারা এটাও বলেন, প্রাথমিকের বাচ্চাদের ভর্তি পরীক্ষার চাপ দেয়া ঠিক নয়। তারা প্রয়োজনে প্রাথমিকে লটারি এবং মাধ্যমিকে পরীক্ষার কথা বলেন।
ঢাকায় থাকা অভিভাবক সাগুফতা ইয়াসমিনের ছেলেকে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করাবেন। তিনি বলেন, এমনিতেই বাচ্চাদের শৈশব নিয়ে চিন্তিত। ছোট ভাড়া বাসায় থাকি এখন এটুকু বাচ্চাকে পরীক্ষার জন্য চাপ দিতে চাই না। মাঝে-মধ্যে খারাপ লাগে আমরা কতো সুন্দর শৈশব কাটিয়েছি আর বাচ্চাকে কী শৈশব দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে বাচ্চাকে একটা টিউশনি ও একটা কোচিংয়ে দিয়েছি। এখন ভর্তির জন্য আবার কোচিংয়ে দিতে হবে।
রংপুরে থাকেন আলী আহমদ। এই শিক্ষক বাবা বলেন, লটারির ভালো খারাপ দুই দিকই আছে। প্রাইমারির বাচ্চাদের যদি লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানো যায় সেটা ভালো হয়।

কারণ এর মাধ্যমে তারা চাপ অনুভব করবে না। আর ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করার মাধ্যমে শিশু বয়সেই ব্যর্থতার কবলে পরবে। যা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তবে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার পর একটা মানসিক স্টাবিলিটি আসে। ভর্তি পরীক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে নেয়া উচিত।
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক বলেন, শুধুমাত্র লটারির মাধ্যমে ভর্তি করানোটা সমীচীন নয়। এর মাধ্যমে ক্লাসের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি নষ্ট হয়। তবে ভর্তি পরীক্ষা যাতে সহজ হয়। কোনোভাবেই যাতে শিশুদের মানসিক যন্ত্রণার কারণ না হয়। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোচিং বাণিজ্য তো হবেই। আপনি পরীক্ষা যতো কড়া করবেন ততো কোচিং-গাইড বাণিজ্য হবে। এটাকে রুখতে হবে সরকারকে। পরীক্ষার একটা ধরন নির্ধারণ করতে হবে যাতে বয়স অনুযায়ী পরীক্ষা হয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক বলেন, গত দুই বছরে লটারিতে আসা অনেক শিক্ষার্থীই ঝরে পড়েছে। এটাকে আমাদের ব্যর্থতাও বলতে পারেন। কিন্তু আমাদের একটা স্টান্ডার্ড মেইনটেইন করে পূর্বে থেকেই শিক্ষার্থীরা ছিল। কয়েকজনের জন্য আমরা চাইলেও আলাদা এটেনশন দিতে পারি না। এজন্য ন্যূনতম একটা যাচাই হয়ে শিক্ষার্থীরা এলে একটা ফ্লোতে পাঠদান করানো যায়। যতই যা বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা এটেনশন দিলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়, পিছিয়ে পড়ে।

তবে এই দুুই শিক্ষকই বলেন, পরীক্ষার ক্ষেত্রে দুর্নীতি, সুপারিশ, বাণিজ্য এসব রুখতে কঠোর হতে হবে সরকারকে। সেইসঙ্গে পরীক্ষার বিষয়াদি, তথ্য যাতে অনলাইনে থাকে। অনলাইনে তথ্য আপ হলে দুর্নীতির পথ কঠিন হবে।
এ বিষয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, স্কুলের শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা নেয়াটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ভর্তি পরীক্ষা চালু করা মানে তদবির ও বাণিজ্যের পথ খুলে যাবে। হুট করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরকারের উচিত ছিল শিক্ষা খাতে সব অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতিই তুলনামূলকভাবে ভালো। লটারি বাতিল করলে এর চেয়েও ভালো পদ্ধতি কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা, পরামর্শ ও গবেষণা করা উচিত। তা না হলে পরীক্ষা পদ্ধতি থাকলে যারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়ে, তারাই মূলত এ পদ্ধতিতে এগিয়ে যায়।
সার্বিক বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কনসার্ন। ভর্তি পরীক্ষায় হবে, তবে কোচিং বাণিজ্যকে বাড়তে দেয়া যাবে না। কীভাবে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জন্য দুুশ্চিন্তার কারণ হবে না তা নিয়ে আমরা ভাবছি। তিনি বলেন, আমরা কঠোর কোনো পদ্ধতি বা নিয়ম চাপিয়ে দেবো না। খুব সহজ, সাবলীল ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি অবলম্বন করে শিশুদের ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।

মোঃ আতাউর রহমান

২ মাস আগে

একচ্ছত্র ভর্তি পরীক্ষায় গেলে দুঃর্নীতির মহোৎসব শুরু হবে। লটারী ছিল মন্দের ভালো। যদি ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষায় পরিবর্তন আনতে হয় তবে ৫০℅ লটারি, ৫০℅ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা যায়।

মন্তব্য করুন