বাশারের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় সাকিব

বাশারের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় সাকিব

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। আগামী ১লা এপ্রিল থেকে এই পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন তিনি। গতকাল মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান বাশার। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত শক্তিশালী দল গঠনের দিকে নজর তার। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত আগস্ট মাস থেকে সাকিব জাতীয় দলের বাইরে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আইনি জটিলতাও চলছে। এসব কাটিয়ে সাকিব আবারো দেশের জার্সিতে ফিরবেন বলে আশাবাদী প্রধান নির্বাচক। তিনি চান, সাকিব পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই দলে ফিরুক। একটি বা দু’টি সিরিজের জন্য নয়, বাশারের চাওয়া সাকিব যেন ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা খেলতে পারেন।

দায়িত্ব নেয়ার পর দল নির্বাচনে নিজের স্বাধীন চিন্তাভাবনা প্রয়োগ করতে চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা ও ট্রল নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন। নিজের বিচারবুদ্ধি ও সাহসিকতার ওপর ভরসা রেখেই তিনি ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। সাকিব আল হাসানের ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাকিব সার্ভিসটা যদি পাই আমরাও চাইবো লম্বা সময়ের জন্য সার্ভিসটা পেতে।’ নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাকিবের অংশগ্রহণ নিয়ে তাড়াহুড়ো নেই বাশারের। তিনি জানান, এটি কোনো আবেগের জায়গা নয়। সাকিব হঠাৎ করে এসে পরের দিনই খেলবেন না। তার উপযুক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। জেনুইন অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব দলে থাকলে দলের ভারসাম্য দারুণভাবে বজায় থাকে। তাই তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্যই বিবেচনা করা হচ্ছে। বাশার বিশ্বাস করেন, সাকিবের ভেতরে এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি। নতুন নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এই সময়ে টানা সিরিজের চাপ সামলাতে অন্তত ২৫ জনের একটি শক্তিশালী খেলোয়াড় পুল তৈরি করতে চান তারা। কেবল ১৫ জনের স্কোয়াড নয়, বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা অন্তত আরও ১০ জন তরুণ ক্রিকেটারকে প্রস্তুত রাখা হবে। ঘরোয়া লীগ থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বাশার। হাসিবুল হোসেন শান্তসহ প্যানেলে থাকা নাঈম ইসলাম ও নাদীফ চৌধুরীর অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। তারা দু’জনই ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খুব কাছ থেকে কাজ করেছেন। বিদায়ী নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর ফেলে যাওয়া দুই বছরের পরিকল্পনার ধারাবাহিকতাও ধরে রাখতে চান নতুন প্রধান নির্বাচক। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় জয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বাংলাদেশ দল সবসময় ম্যাচ জেতার জন্যই মাঠে নামে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিয়মিত খেলোয়াড়দের সঙ্গে একজন বা দু’জন নতুন ক্রিকেটারকেও ধীরে ধীরে দলে সুযোগ দেয়া হবে। আগামী বিশ্বকাপের আগে কোনো নতুন খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে হঠাৎ পরীক্ষা করতে চান না তিনি। বরং এখনই তাদের প্রস্তুত করার কাজ শুরু করা হবে।
নির্বাচক প্যানেলে কাজ করা সবসময়ই উত্তপ্ত কড়াইয়ের মতো। এখানে প্রতিনিয়ত সমালোচনা ও ট্রল চলতে থাকে। কিন্তু বাশার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাইরের কোনো চাপে নয়, বরং নিজের বিচারবুদ্ধি ও হৃদয়ের ডাক শুনেই তিনি দল গড়বেন। তিনি জানেন যে তার সব সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না। মানুষ হিসেবে তারও ভুল হতে পারে। তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনো সমালোচনাকেই গায়ে মাখবেন না। সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্য তার কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। খেলোয়াড়ি জীবনে জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকাকালীন এমন পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে গেছেন তিনি। তাই তিনি ভালোভাবেই জানেন কীভাবে চাপ সামলাতে হয়। বাংলাদেশ দলকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য। এর জন্য যত কঠিন ও সাহসী সিদ্ধান্তই হোক না কেন, তা নিতে পিছপা হবেন না হাবিবুল বাশার সুমন।

হারুন আল রশিদ

২ মাস আগে

এতো আত্ম বিস্মৃত হলেই কেবল 'মেধাবী খেলোয়াড় 'তকমার আড়ালে ভূমিদস্যু ও স্বৈরাচারের মোসাহেবকে দলে চান? একটা ঘৃনিত ভোট চোরের খুবই দরকার? মাগুরার উপনির্বাচনে যে দলের সুনামে পেরেক ঠুকলো, সে মাগরায় আবার এক বিবাদের কারন হবে?

Faiz Ahmed

২ মাস আগে

সাকিব একটা জুয়াড়ি, জুলাই 2024এর অপরাধী, লোভী বা দালাদের বংলাদেশ ক্রিকেট টিম আর কোন স্থান হবে না।
আমরা মানবো না।

Parvez Tahery

২ মাস আগে

Very stupid idea.

Parvez Tahery

২ মাস আগে

Why this greedy rude and formless cricketer? Is stupid Bashar doing it intentionally to ruin the game again? Then Bashar shouldn't have been the main selector.

ড. মো. ইব্রাহীম হোসেন খান

২ মাস আগে

সাকিবকে দলে নেয়া খুবই দূরদর্শিতার পরিচায়ক হবে।

মন্তব্য করুন