বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ৩৯তম জন্মদিন ছিল গতকাল। শারীরিক উপস্থিতিতে দেশের বাইরে থাকলেও কোটি ভক্ত ও সতীর্থদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। ২২ গজের এই লড়াকু সৈনিক বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরে। তবুও সতীর্থদের আবেগে গভীরভাবে মিশে আছেন তিনি। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সতীর্থ মুশফিকুর রহিম আবেগঘন এক বার্তায় তাঁকে স্মরণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করে মুশফিক লিখেছেন, ‘দেশের মানুষের মতো একজন ভাই হিসেবে আমিও চাই তোর খেলার অধ্যায়টা দেশের মাটিতেই শেষ হোক। শুভ জন্মদিন সাকিব, বাংলাদেশের সাকিব। আমার দোয়া সব সময় তোর সঙ্গে থাকবে ভাই।’ এই একটি বার্তাই যেন পুরো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের না বলা মনের কথা। সতীর্থ মেহেদী হাসান মিরাজ তাঁকে দলের সাফল্যের পেছনের ‘মহান মানুষ’ আখ্যা দিয়েছেন। তরুণ স্পিনার নাসুম আহমেদের চোখে তিনি এক বিশাল ‘অনুপ্রেরণা’। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে দেশের বাইরে আছেন সাকিব। খেলছেন বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ। তবে চেনা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলার আকুতি তাঁর দীর্ঘদিনের। সেই স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন আপামর ভক্তরাও। ১৯৮৭-র ২৪ মার্চ মাগুরায় জন্মেছিলেন এই কিংবদন্তি।
অন্যদিকে সুদূর লন্ডনে এবার নিজের জন্মদিন উদযাপন করেছেন সাকিব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর। কেক কেটে এই বিশেষ দিনটি পালন করেন তাঁরা। আসিফ আকবর সাকিবকে ‘নবাব’ বলে সম্বোধন করেন। সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে এখন জোরালো আলোচনা চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়াও চলমান। আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সাকিবের আইনি জটিলতা নিরসনে বিসিবির লিগ্যাল টিম ও মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। সব ঠিক থাকলে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজেই হয়তো আবারও লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যেতে পারে তাঁকে। দেশের জার্সিতে তাঁর ফেরার প্রহর গুনছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।
২০০৬-এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকের পর বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছেন সাকিব। বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণে শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়ার অনন্য কীর্তি তাঁরই। পরিসংখ্যান তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। ৬৫ টেস্টে ৪৩৬৭ রান ও ২৩১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওয়ানডেতে ২৩০ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৭০৮৬ রান ও ৩০১ উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ১২৯ ম্যাচে ২৫৫১ রান এবং ১৪৯ উইকেট শিকার করেছেন। এক বিশ্বকাপে ৬০০-এর বেশি রান ও ১০টির বেশি উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ডও তাঁর দখলে। শত বিতর্কের পরও দলীয় প্রয়োজনে সাকিব বরাবরই আস্থার প্রতীক। এই অকুতোভয় লড়াকু যোদ্ধা দ্রুতই দেশের মাটিতে ফিরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
