সাম্প্রতিক সময়ের চরম ব্যর্থতা, মাঠের বাইরের বিতর্ক আর ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত ইংল্যান্ড। তবে সবকিছুকে একপাশে সরিয়ে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখলো ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। চোট-জর্জর অস্ট্রেলিয়ার কাছে অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবে সেসব কেটে গেছে। ইসিবি নিশ্চিত করেছে, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিন ফরম্যাটেই ইংলিশদের ডাগআউটে থাকছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ম্যাককালাম। এবং পূর্বের মতোই টেস্ট দলের নেতৃত্ব থাকছে স্টোকসের হাতেই।
‘পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই’ প্রক্রিয়া শেষে সোমবার ইসিবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি সাফ জানিয়ে দেন, তারা আপাতত কোনো ধরণের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না। তার মতে, শীতকালীন মৌসুমটা প্রত্যাশার চেয়ে ভয়াবহ কাটলেও, ইংল্যান্ডকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য ম্যাককালাম ও স্টোকসের চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। রব কি বলেন, ‘আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের থেকে কারা সেরাটা বের করে আনতে পারবে? আমার কাছে সেই ব্যক্তি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কয়েক মাসের ব্যর্থতা কাউকে খারাপ নেতা বানিয়ে দেয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দায়িত্বে আমরা অনেক অনেক সাফল্য পেয়েছি। যদিও শীতের মৌসুমটা একদইমই ভালো যায়নি, এমনটা বললেও কম বলা হবে। তবে এজন্য তাদের খারাপ নেতা বলা যায় না।’
এদিকে পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ‘তিন মাসের’ আবেগঘন গল্প শুনিয়েছেন স্টোকস। অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে হারের ক্ষত যে এখনও দগদগে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে ১০ ইনিংসে কেবল ১৮৪ রান এবং অধিনায়কত্বের কৌশলে কিছু বাজে সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়েই সমালোচনার মুখে ছিলেন স্টোকস। যদিও অজিদের বিপক্ষে সিরিজটিতে ১৫ উইকেট নেন তিনি। সেসব মনে করে ৩৪ বছর বয়সী স্টোকস বলেন, ‘ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করাটা আমাকে হাসায়, আবার কাঁদায়ও। মাঝেমধ্যে মনে হয়, এটিই জীবনের একমাত্র অবলম্বন। গত তিন মাস আমাকে নানাভাবে পরীক্ষা করেছে।’
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে স্টোকস আরও লেখেন, ‘সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা থেকেই বেশি শেখা যায়। আমরা জানি এই পথে আমরা ভুল করেছি, তবে বাজ (ম্যাককালাম), রব এবং আমার এই দলকে এগিয়ে নেয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।’ অ্যাশেজ চলাকালীন কোচের সঙ্গে স্টোকসের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে বৃটিশ মিডিয়াতে গুঞ্জন চাউর হয়। এর বিপরীতে এই তিনজনের সংহতি প্রকাশের বিষয়টি ইংলিশ ভক্তদের আশ্বস্ত করছে।
আগামী জুনে ঘরের মাঠে টেস্ট মৌসুম শুরুর আগে সমর্থক ও ভক্তদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেয়ার অঙ্গীকারও করেন স্টোকস। তিনি লেখেন, ‘আমাদের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা যা করছি, সেগুলো অনেক কারণেই করি। এর মধ্যে একটি কারণ আমাদের সমর্থক ও ভক্তদের আনন্দ এবং গর্বের অনুভূতি দেয়া। ভবিষ্যতে আমরা যতটা সম্ভব এ কাজগুলো করার লক্ষ্য রাখব। আগামী জুনে টেস্ট ম্যাচ, গ্রীষ্মের শুরুতে আবার আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা হবে।’
