মাত্র ২০ মিনিটে ৮৪০ কোটি রুপি আয় করল কে?

মাত্র ২০ মিনিটে ৮৪০ কোটি রুপি আয় করল কে?

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান নিয়ে ৫ দিনের জন্য একটি বিরতি ঘোষণা করেন, ঠিক তার কিছুক্ষণ আগে গ্লোবাল মার্কেটে হঠাৎ বড় ধরনের ট্রেডের ঢেউ দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রেড থেকে মাত্র ২০ মিনিটেই প্রায় ৮৪০ কোটি রুপি লাভ হয়েছে। এখন বড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এই অর্থ কামিয়ে নিয়েছে কে? সোমবার সকাল ৬:৫০ (নিউইয়র্ক সময়), অর্থাৎ ভারতীয় সময় বিকেল ৪:২০-এর দিকে, সিএমই’তে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ই-মিনি ফিউচারসে হঠাৎ করে বড় ভলিউমের ট্রেড দেখা যায়। একই সময় তেলের বাজারেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা হয়। এই সময়টা সাধারণত প্রি-মার্কেটের একটা শান্ত সময়। এ সময় লিকুইডিটি বা তারল্য কম থাকে। প্রায় ১৫ মিনিট পরে, সকাল ৭:০৫-এ, ডনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ‘আনইউজুয়াল হোয়েলস’ অনুযায়ী, এই ট্রেডগুলো দুটি বড় পদক্ষেপে করা হয়। প্রথমত, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারসে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২,৬০০ কোটি রুপি) বিনিয়োগ করা হয়, যাতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে লাভ দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত, প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১,৬১৫ কোটি রুপি) তেল ফিউচারস বিক্রি করা হয়, ধরে নেয়া হয় তেলের দাম কমবে। মাত্র এক মিনিটে প্রায় ৬২০০ ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার কন্ট্রাক্ট লেনদেন হয়। এর মূল্য ছিল প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪,৮৭০ কোটি রুপি)। যা সেই সময়ের স্বাভাবিক ট্রেডিংয়ের তুলনায় ৪ থেকে ৬ গুণ বেশি।

ট্রাম্পের পোস্টের পরই বাজারে বড় পরিবর্তন আসে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারস ২.৫ ভাগের বেশি বেড়ে যায়। ব্রেন্ট তেলের দাম ১০৯ ডলার থেকে নেমে ৯২ ডলারে চলে আসে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ৬ ভাগ কমে যায়। এই দ্রুত ওঠানামা থেকেই বিশাল লাভ হয়। কিছু অনুমান অনুযায়ী, শুধু তেলের দামের পরিবর্তন থেকেই ২০ মিনিটে ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৪০ কোটি রুপি) লাভ হতে পারে, আর শেয়ারের লাভ মিলিয়ে মোট আয় আরও বেশি হতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে কেন?

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই ট্রেডের আগে কোনো পাবলিক সংকেত ছিল না। কোনো সংবাদ, ব্রিফিং বা ইঙ্গিত ছিল না যে ট্রাম্প ইরান বিষয়ে এমন ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। তবুও কেউ দুইটি মার্কেটে ১৪০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছে খুব নির্ভুল সময়ে। একজন হেজ ফান্ড ম্যানেজার ম্যাট উইলিয়ামস বলেছেন, ২৫ বছরের অভিজ্ঞতায় এমন অস্বাভাবিক প্যাটার্ন তিনি দেখেননি। একজন মার্কিন ব্রোকারেজ কৌশলবিদও প্রশ্ন তুলেছেন- ১৫ মিনিট আগে এমন বড় ট্রেড কেন করা হলো, সেটার পেছনে কী প্রভাব বা তথ্য ছিল? এ পর্যন্ত মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কোনো মন্তব্য করেনি।

আগেও এমন ঘটনা

আগেও বড় ধরনের ট্রেড সরকারি নীতির ঘোষণার আগে দেখা গেছে। যেমন, ‘পলিমার্কেট’-এ এক ব্যবহারকারী প্রায় ৩৪০০০ ডলারের বেট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র জানুয়ারির মধ্যে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালাবে। ঠিক তার আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে, যা সন্দেহ তৈরি করে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’কে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। তিনি আরও বলেন, কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা যদি অবৈধভাবে গোপন তথ্য ব্যবহার করে লাভ করার চেষ্টা করে, তা সহ্য করা হবে না।

ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ভুয়া খবর ব্যবহার করে মার্কেট ও তেলের বাজারকে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে থাকা সংকট থেকে মনোযোগ সরানো হচ্ছে।

সত্যবাদী

২ মাস আগে

থার্ডক্লাস বিশ্লেষণ। একেবারে জ্ঞানগর্ভহীন।

মন্তব্য করুন