সাদাপাথরের কী হবে? সাজানো হবে নাকি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে?- এ প্রশ্ন এখন সব মহলের। এলাকার সাংসদ ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সরব। রোববার বিকেলে হঠাৎ করেই ঢুঁ মারলেন সাদাপাথরে। কথা বললেন পর্যটকদের সঙ্গে। ঘুরে দেখলেন। কী করা যায় ভাবনায় নিলেন। সাদাপাথর নিয়ে মহা-পরিকল্পনার কথা ইতিমধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে ভোলাগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে। এবারের ঈদে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে পর্যটকরা। ঈদের দিন শনিবার বিকেল থেকেই যেন স্রোত নেমেছে মানুষের। সোমবার সকাল ১০ টা। দশ নম্বর ঘাটে যেতেই চোখে পড়লো হাজারো পর্যটক। এতো সকালেই পর্যটকদের ভিড়। গাড়ি আর গাড়ি সাদাপাথর অভিমুখে। দুপুরের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় সাদাপাথরে। প্রকৃতির বিছানো এক স্বর্গরাজ্য। মেঘালয়ের পাদদেশের এলাকা। যেতেই গা জড়িয়ে ধরলো একরাশ পাহাড়ি বাতাস। সঙ্গে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। শীতল পরিবেশ। মেঘের আড়ালে যেনো সূর্য ডুব দিয়েছে। পাথর গলা স্বচ্ছ জলেই এতে প্রশান্তির ছোঁয়া। বেলা যতই গড়ায় পর্যটক ততই বাড়ে। সাদাপাথর কেন টানছে পর্যটকদের- প্রশ্ন করা হলে কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক আবিদুর রহমানের সহজ উত্তর। এতো মনোরম জায়গা আর কোথায় পাবেন আপনি। প্রকৃতি প্রেমীরা সুযোগ পেলেই আসেন সাদাপাথরে।
ঈদ মৌসুমে সাদাপাথর নিয়ে সবাই এলার্ট। ছুটিতে ছিলেন কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও রবিন মিয়া। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেই সাদাপাথরে ডিউটি। দেখা হলো দশ নম্বরে। জানালেন- পর্যটকদের জন্যই সব কিছু। আমরা তদারকি করছি। পর্যটকরা যাতে কোনো সমস্যা না পড়েন সে ব্যাপারে সবাই সতর্ক। সাদাপাথর নিয়ে পরিকল্পনার কিছুটা ইঙ্গিত দিলেন ইউএনও রবিন মিয়া। জানান- সাদাপাথরের প্রবেশ মুখ দশ নম্বরে এখন যেখানে দোকানপাট রয়েছে সেগুলো সরিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। খালি জায়গা লাগানো হবে কয়েক লাখ বাহারি ফুলের গাছের চারা। এরই মধ্যে কিছু কাছ করা হয়েছে। রোববার বিকেলে সাদাপাথর এলাকা ঘুরে দেখেন শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। হঠাৎ করেই সাদাপাথরে তার এই সফর। এ সময় তিনি বেশ কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে কথা বলেন। পর্যটকদের সুবিধা, অসুবিধার কথা তিনি শুনেন। পর্যটকরা এ সময় মন্ত্রীকে জানান- মূল পর্যটন স্পটে অনেক সমস্যা। মহিলারা এসে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এর কারণ- বাথরুম নেই। ভেজা কাপড় পাল্টানোর সুযোগও নেই। নামাজেরও ব্যবস্থা নেই। একই সঙ্গে নিরাপত্তারও অভাব। মন্ত্রী বক্তব্য শোনার পর জানালেন- সাদাপাথরে পর্যটকদের যে সমস্যা রয়েছে সেগুলো অচিরেই দূর করা হবে। এলাকাটা প্রকৃতির। সুতরাং এখনো স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব না-ও হতে পারে। এরপরও যতটুকু সম্ভব আমরা করবো। সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন- মন্ত্রী অনেক কিছুই প্রকাশ করেননি। তবে সাদাপাথর নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসতে পারে মেগা প্রকল্প। আর এতেই পর্যটনস্পট সাদাপাথর হয়ে উঠবে সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি পর্যটনস্পট।

M.A. Hasnat
২ মাস আগেসাদাপাথর এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে ৫ কিমি ডাউনে বা যেখান থেকে নৌকাতে যাত্রীরা ঊঠে সেই এলাকায় যদি নদীর মুখে একটা আরসিসি বাধ দেয়া যায় তাহলে একটা সুন্দর লেক তৈরি হবে। এই লেকের আশেপাশে তখন রিসোর্ট, হোটেল, পার্ক নির্মান করে দারুন একটা পর্যটন বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা যাবে। এতে করে পাথর ব্যবসার ফেয়ে পর্যটন ব্যাবসায় বেশি আয় করা যাবে। জাফলং এও একই রকম ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। আর জাফলং থেকে বিছানা কান্দি হয়ে কোম্পানিগঞ্জের রাস্তা নির্মান করা অত্যন্ত জরুরি। এতে পর্যটন দারুণভাবে প্রসারিত হবে, ইনশাআল্লাহ।