ইসরাইল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি যে তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে। বহু দশক ধরে তারা এই অবস্থান বজায় রেখেছে। কূটনৈতিক ভাষায় এই কৌশলকে বলা হয় ‘নিউক্লিয়ার অ্যামবিগুইটি’ বা পারমাণবিক অস্পষ্টতা। কিন্তু মানচিত্রে এমন একটি জায়গা রয়েছে, যা এই অস্পষ্টতা বজায় রাখা ইসরাইলের জন্য কঠিন করে তুলেছে। সেটি হলো দিমোনা। দক্ষিণ ইসরাইলের এই শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়, এখানেই ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন, বিভিন্ন একাডেমিক গবেষণা এবং ১৯৮৬ সালে ইসরাইলি প্রযুক্তিবিদ মোরদেখাই ভানুনুর সাক্ষ্য- এসবই ইঙ্গিত করে যে দিমোনাতেই ইসরাইল প্লুটোনিয়াম উৎপাদন করে। এই প্লুটোনিয়ামই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মূল উপাদান। ভানুনু গোপনে তোলা ছবি বৃটেনের একটি সংবাদপত্রকে সরবরাহ করেছিলেন। তবে ইসরাইল কখনোই এ বিষয়টি স্বীকার করেনি। আবার সরাসরি অস্বীকারও করেনি। এই স্থাপনাটি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আওতায়ও নেই। ইসরাইল পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি বা এনপিটির স্বাক্ষরকারীও নয়। ফলে নজরদারিকারি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বা আইএইএ’র সেখানে নিয়মিত তদারকির অধিকার নেই।
শনিবার আইএইএ জানায়, গবেষণা কেন্দ্রটিতে কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাদের এই মন্তব্য সরাসরি পরিদর্শনের ওপর নয়, বরং ক্ষয়ক্ষতির কোনো প্রতিবেদন না পাওয়ার ভিত্তিতেই করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ওই এলাকাটিকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তেহরান জানায়, এটি ছিল ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাতে আগের এক হামলার প্রতিশোধ। নাতাঞ্জ স্থাপনাটি অতীতেও হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের একটি নাশকতা অভিযানও রয়েছে, যা ব্যাপকভাবে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়। তবে সর্বশেষ হামলার ক্ষেত্রে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। কারণ ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ এ তথ্য স্বীকার করেনি।
তবে ইরানের এই টার্গেট যে কাকতালীয় নয়, তা স্পষ্ট। দিমোনায় হামলা একটি শক্ত বার্তা বহন করে, যা কোনো সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলার চেয়ে ভিন্ন। ইরান একই সঙ্গে দেখিয়েছে যে, তারা এমন একটি স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম, যাকে ইসরাইল অস্তিত্বগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মনে করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি এড়িয়ে যায়। আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, তাদের প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্র এটি আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
দশকের পর দশক ধরে ইসরাইল মনে করে এসেছে যে তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো প্রায় অপ্রবেশযোগ্য ভৌগোলিক অবস্থান, বহুস্তর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ঠিক কী রক্ষা করা হচ্ছে সে বিষয়ে ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতার কারণে। দিমোনায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পড়া হয়তো স্থাপনাটি ধ্বংস করেনি। কিন্তু এটি এমনভাবে প্রকাশ্যে সেই স্থাপনাটির নিরাপত্তাকে পরীক্ষা করেছে, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।
আইএইএ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। এ হামলায় কমপক্ষে ৪৭ জন আহত হয়েছে।

মাসুদ
২ মাস আগেধ্বংস হোক ইসরায়েল