স্রেফ দশ মাস আগের দৃশ্যপট ছিল একেবারেই আলাদা। গত মে মাসে ব্রাইটন সফরে এসে লিভারপুলের হারের পরও গ্যালারিতে ছিল উৎসবের আমেজ। বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে অলরেড সমর্থকরা উদযাপন করেন প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা। তবে গতকাল সেই একই মাঠে লিভারপুল যখন ফের হারের তেতো স্বাদ পেলো, তখন ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই গ্যালারি অর্ধেক খালি হয়ে গেছে! মোহাম্মদ সালাহ ও আলিসন বেকারবিহীন লিভারপুলের হার ২-১ গোলে।
এদিনের হার চলতি মৌসুমে আর্নে স্লটের দলের লীগের দশম পরাজয়। প্রিমিয়ার লীগ ইতিহাসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এমন খেই হারিয়ে ফেলা পারফরম্যান্স খুব একটা দেখা যায় না। টানা পাঁচ জয় দিয়ে মৌসুমের যাত্রা শুরু করলেও, পরের ২৬ ম্যাচের মধ্যে লিভারপুল জয়ের মুখ দেখেছে মাত্র ৯টিতে। এমন ছন্নছাড়া ফর্ম নিয়ে লীগ শিরোপা তো দূর, আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগের যোগ্যতা অর্জন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের পর হতাশা প্রকাশের সঙ্গে সরাসরি দায় স্বীকার করে স্লট বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এই মৌসুমে বারবার এমনটা ঘটছে। গ্যালাতাসারেইয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে যখনই ভেবেছিলাম সেই ছন্দ পরের ম্যাচেও বজায় থাকবে, তখনই চোট হানা দেয়। সালাহ আর আলিসন বাইরে ছিল, তার ওপর দুই মিনিটের মাথায় একিতিকে মাঠ ছাড়ল। তবে সত্যি বলতে, দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাইটনই ভালো খেলেছে এবং জয় তাদেরই প্রাপ্য ছিল।’
চ্যাম্পিয়নস লীগের ধকল সামলানোই যেন এখন লিভারপুলের বড় বাধা। চলতি মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় পরবর্তী ১০টি লীগ ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই তারা হেরেছে। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেও স্কোয়াডের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিজের ওপর চাপ অনুভব করে স্লট বলেন, ‘গতবার লীগ জেতার পর ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করলে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী হবেই। মিডিয়া অথবা ভক্তদের মতো আমার প্রত্যাশাও উঁচুতে ছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যত অজুহাতই দিই না কেন, আমাদের বর্তমান অবস্থান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
