ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও চার দূতাবাস কর্মীকে অবাঞ্ছিত করে বহিষ্কার করল সৌদি আরব

ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও চার দূতাবাস কর্মীকে অবাঞ্ছিত করে বহিষ্কার করল সৌদি আরব

ফন্ট সাইজ:

ইরানের সামরিক অ্যাটাশে ও দূতাবাসের কয়েকজন কর্মীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। তাদের ভূখণ্ডে ‘বারবার ইরানি হামলার’ অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে শনিবার জানায়, তারা ইরানের দূতাবাসের ‘সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের তিনজন কর্মীকে’ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতের মধ্যে তেহরান সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি বা স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এতে বেসামরিক এলাকা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ক্রমবর্ধমান ক্ষতিকর হামলা হয়েছে। যা পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুদ থাকা সৌদি আরব যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাদের অধিকাংশই প্রতিরোধ করা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী রিয়াদেও হামলা হয়েছে। সেখানে এই মাসের শুরুতে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে।

বৃহস্পতিবার ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং ব্যাহত হয়। তখন কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরামকো ও এক্সনমোবিলের যৌথ রিফাইনারি স্যামরেফ রিফাইনারির কাছে একটি ড্রোন পড়ে। উপসাগর অঞ্চল থেকে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়ার পর ইয়ানবু বন্দর এখন সৌদি আরবের একমাত্র রপ্তানি পথ হিসেবে রয়ে গেছে। কারণ ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবারের বিবৃতিটি আসে এমন সময়ে, যখন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন- ইরানের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়েছে এবং সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের কাছে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ও সামর্থ্য রয়েছে, যা তারা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ। তবে তিন বছর আগে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু করে। শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। এর আগে বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা অ্যাটাশেদেরও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এবং তাদের কর্মীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন