তাবিজ, মরিচ ও স্বপ্ন

তাবিজ, মরিচ ও স্বপ্ন

ফন্ট সাইজ:

কীরে ভাই! এটা কেমনে সম্ভব! এহান না পারছে কাউকে বলতে, না নিজে বিশ্বাস করছে। আগের রাতে স্বপ্ন দেখেছে চার উইকেট পেয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হবে সাকিব আল হাসান। পরদিন তাই হলো।
নিয়মিত স্বপ্ন দেখে এহান। স্বপ্ন নিয়ে সমস্যাও কম হয়নি তার। ছোটবেলায় চিৎকার দিয়ে উঠতো। ভয়ে আরষ্ঠ হতো। ঘামে ভিজতো শরীর। একবার তো বিদ্যুতেও হাত দিয়েছিল। এহানের মা জেগে থাকায় সে যাত্রায় রক্ষা। এখনো স্বপ্ন দেখে এহান। তবে বিপদজ্জনক কিছু এখন আর করে না। অধিকাংশ স্বপ্নই সুখকর। তবে মাঝেমধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষার স্বপ্ন তাকে প্যারা দেয়।
ইদানিং স্বপ্নে যা দেখছে তা সত্য হচ্ছে। ক্রিকেট পাগল এহান। ভার্সিটি শেষে চাকরি জুটেছে। কিন্তু শরীরে এখনো ছাত্রের গন্ধ। এখনো বন্ধুদের সঙ্গে মেসেই থাকে। সেই পুরনো দিনের মতো আড্ডা। যদিও আড্ডাবাজদের সংখ্যা কমছে। এহানের প্রেমিকা নিশাতের ভার্সিটি শেষ হলো বলে। শেষ হওয়ার আগেই বিয়ের জন্য চাপ আসছে। বিয়ের চাপ আছে এহানের বাড়ি থেকেও। নিশাতের ওপর এহান অনেকটাই নির্ভরশীল। এহান ভাবুক প্রকৃতির। দুনিয়াটা তার কাছে ভাবনার প্রজেক্ট।
কাল শুক্রবার। দিনটা নিশাতের জন্য উৎসর্গ করা। বৃহস্পতিবার রাতে দেরি করেই ঘুমালো এহান। সুস্পষ্ট কিছু স্বপ্ন দেখলো। প্রথমত- লাল-হলুদের মিশেলের জামা পরছে নিশাত। লাঞ্চ শেষে আইসক্রিম খাবে এবং শেষ মুহূর্তে তার হাত থেকে আইসক্রিম জামায় পড়বে।
পরদিন আশ্চর্য হয়ে এহান দেখলো লাল-হলুদ জামা। আবার এও ভাবলো কীভাবে সম্ভব; স্বপ্নে তো রঙ দেখা যায় না। পরদিন যথারীতি লাঞ্চ সারলো তারা। খাওয়ার সময় দুনিয়ার অভিযোগ হাজির করলো নিশাত। জবাব নেই এহানের। একটাই জবাব- সরি। নিশাতের মোটাদাগে প্রধান সমস্যা- সিরিয়াস নয়। খাবারের পর এহানকে আশ্চর্য করে দিয়ে আইসক্রিমের অর্ডার দিলো নিশাত। আশ্চর্যজনক বিষয় বটে। কারণ নিশাত সাধারণত আইসক্রিম খায় না। এহানকে ভালো চাকরির জন্য তাড়া দিতে থাকে। এমন সময় অসাবধানতাবশত এহানের হাত লেগে আইসক্রিম পড়ে নিশাতের জামায়। এনিয়ে নিশাতের তুমুল রাগ। কিন্তু এহানের সেদিকে নজর নেই। সে শুধু ভাবছে- এ কীভাবে সম্ভব!
স্বপ্নের কথাগুলো বন্ধু মিয়ানকে বলে। কিন্তু কোনো পাত্তা পায় না। নিশাতের সঙ্গেও শেয়ার করে। তাতেও পাত্তা মেলে না। নিশাত এহানকে মন থেকে চায়। ভালোবাসে। কিন্তু ভবিষ্যৎ চিন্তা তাকে কুড়ে খায়।
এহান বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার বাবা সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছে। তার পরিবারের ওই প্রজন্মের একমাত্র শিক্ষিত তিনি। একাই দুই প্রজন্মের উন্নয়ন করেছেন। এহান ছোটবেলা থেকেই মধ্যবিত্ত ঘরের রাজপুত্রের মতো বড় হয়েছে। অতি আভিজাত্য না পেলেও প্রয়োজনীয় কোনো কিছুরই অভাব ছিল না। এইচএসসি পাসের পর বাবা-মায়ের সঙ্গে জেদ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হয়। নিজের পছন্দের বিষয়ে। দুনিয়াবি চিন্তা নেই তার। তাদের সম্পত্তি কোথায় আছে না আছে, সেটাও জানে না। ভার্সিটি লাইফেও পায়নি অর্থনৈতিক কষ্ট। পুরো ভার্সিটি লাইফে কতোযে ট্রুর দিয়েছে তার ইয়ত্তা নাই। ভার্সিটি শেষ হতে হতে চাকরিও পেয়ে গেছে। একমাসও থাকতে হয়নি বেকার। এহানের লেখাপড়া শেষ হবার পরই তার বাবা অবসরে গেছেন। কষ্ট কী জিনিস বিশেষ করে অর্থনৈতিক কষ্ট জানে না এহান। এখন টাকা ইনকাম করার পর বুুঝতে শিখেছে টাকার মর্ম। আফসোসেরও শেষ নাই- কেন এত টাকা নষ্ট করেছে বাবার।
এহানের স্বপ্নের বিষয়গুলো ভাবায়। বিষয়গুলো ধীরে ধীরে বন্ধুমহলেও ছড়িয়ে পড়ে। খুব একটা সিরিয়াসলি নিচ্ছে যে সবাই বিষয়টা তা নয়। এহানও যে সিরিয়াস সেটাও নয়। এহান ভাবছে স্বপ্নের বিষয়টি যাচাই করতে হবে।
এহান ভাবছে আজ রাতের স্বপ্নটা ভালোভাবে মনে রাখতে হবে। তবে এদিন কমন স্বপ্ন দেখলো। কয়েকদিন অপেক্ষার পর সে দেখলো বান্ধুবীর বিয়ের দাওয়াত খেতে গেছে। কিন্তু বিয়ে যার সঙ্গে হবে বলে বন্ধুরা জানাতো; তার সঙ্গে নয়। এমন একজনের সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে চুল বাবরি। ভাবতেই পারছে না এহান। বান্ধুবীর সঙ্গে এক বড় ভাইয়ের বিয়ে হবে এটা সকলেরই ধারণা। দু’দিন কেটে গেল। এদিকে এহানের স্বপ্ন নিয়ে বন্ধুমহলে সেকি ফান। এহান নিজেও তাতে যোগ দেয়। বান্ধুবীর বিয়ের বিষয়টি মিয়ানকে শোনায় এহান।
খুব আশ্চর্য ঘটনা ঘটে গেল। বিয়ের দাওয়াত আসলো। ফেসবুক ঘেঁটে এহান দেখলো- আসলেই বাবরি চুল। এই ভাইকে কোনোদিন দেখেনি সে। কিন্তু বন্ধুরা মানতে নারাজ। তাদের দাবি আগে থেকেই জানতো এহান।
স্বপ্ন নিয়ে এখন ভিশন সিরিয়াস এহান। এবার দু’দিনে দুটা স্বপ্ন দেখলো। আদিল নামে এক বন্ধু বেকার। এহান স্পষ্ট দেখলো- আদিলের চাকরি হবে এবং তার মূল্যবান কিছু একটা চুরি হবে।
স্বপ্নের কথা আদিলকে বলতে পারছে না। কী বলবে, কীসের ভিত্তিতে বলবে? আবার চুরির বিষয়টি এড়িয়ে যায়। কারণ এটা বলার পর চুরি হলে তার ঘাড়ে দোষ আসার সম্ভাবনাটাও থাকে। তবে চাকরির বিষয়টা মিয়ানকে শেয়ার করে।
পরদিন অফিস শেষে মেসে এসেই মিয়ানের মুখোমুখি হয় এহান। সে বলে, কীরে ব্যাটা আদিলের চাকরি তো হলোই না, বেচারার উল্টা ল্যাপটপটা খোয়া গেল। কীভাবে চুরি হয়েছে কিছুই জানে না আদিল। এই কথা শুনে এহান কিছুটা রোমাঞ্চিত হলো বটে। কিন্তু বেকার বন্ধুর ল্যাপটপ চুরিটা তাকে পীড়া দেয়। আবার ভাবছে একটা স্বপ্ন সত্যি হলো। আরেকটা হবে তো? আবার এও ভাবছে চাকরির স্বপ্নটা আগে দেখেছি সেটা সত্যি হলো না!
ক’দিন পর সত্যিই চাকরি হলো আদিলের। এবার এহান সিরিয়াস। নিশাতের কাছে এসব বলে সুবিধা করতে পারলো না। নিশাতের সেই এক প্যাচাল- ধুর তোমার স্বপ্ন।
এভাবে কেটে গেল কয়েকদিন। এর মধ্যে বড় স্বপ্ন আর দেখেনি এহান। তবে এর মধ্যে কয়েকটা ছোট স্বপ্ন মিলে গেছে। একদিন স্বপ্নে দেখেছে সবাই মুরগি দিয়ে ভাত খাচ্ছে কিন্তু এহান খাচ্ছে ডিম দিয়ে। পরদিন দেখা গেল খাবার আনার সময় হাত থেকে তরকারির বাটি পড়ে যায়। পরে ডিম ভেজে খেতে হয়। বন্ধু মহলে তার আধ্যাত্মিকতা ছড়িরে পড়ে। যদিও সকলে এটা নিয়ে মজা নিতেই বেশি ব্যস্ত।
শুক্রবার বাংলাদেশের খেলা দেখতে যাবে এহান। দুু’টা টিকিট কেটেছে। নিশাতকে সঙ্গে নিয়ে যাবে। কিন্তু নিশাতের কথাবার্তা বিষাক্ত হচ্ছে দিনকেদিন। ভবিষ্যৎ ভাবনায় বর্তমানকে বাষ্প করে ফেলছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তুমুল আকার ধারণ করে। সেদিন রাতে স্বপ্ন দেখলো শেষ রান আসবে ওয়াইডে। জয় পাবে বাংলাদেশ। খেলা দেখতে যাওয়ার সময় স্বপ্নের কথা মিয়ানকে জানায়। স্বপ্নের সঙ্গে সব মিলে যাওয়ায় এহানের সঙ্গে মিয়ানেরও বিস্ময় থামছে না। এই ঘটনাগুলো নিশাতকে শেয়ার করতে চায় এহান। কিন্তু করে না।
স্বপ্ন আর নিশাতের কারণে এহান বেশ বিচলিত। এই আধ্যাত্মিক ক্ষমতাটা সে উপভোগ করতে পারছে না নিশাতের কারণে। কারণ জানতে অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি করে এহানের মাথা আরও ঘেঁটে ‘ঘ’ হয়ে গেল। এহানকে নিয়ে চিন্তা বাড়তে থাকে বন্ধুদের। কেমন যেনো চিন্তায় মগ্ন হয়ে উঠেছে এহান। একদিন তার মা’কে স্বপ্নে দেখে। তবে শুধু স্বপ্নেই দেখে কোনো ঘটনা। পরদিন অফিসে ছুটি নিয়ে ছুটে যায় মা’য়ের কাছে। ক’দিন সেখানেই থাকে। স্বপ্নের বিষয়গুলো মাকে বলে। এহান বলার পর নিজের চুল ছেঁড়ার মতো অবস্থা। তার মা তাবিজ-কবজ, কবিরাজ করে হুলুস্থুল। এহানের বাবার চিন্তা হলেও কেয়ারলেস ভাব দেখায়।
এহানের মা এক মহিলার কাছে নিয়ে গেল। রুক্ষ-সুুক্ষ মাথার চুল। কালো কাপড় পুরো শরীরে। ইটের দেয়াল। তার উপর হালকা একটা লাল লাইট জ্বলছে। অনাচ্ছিকৃত একটা আধ্যাত্মিক পরিবেশ। মহিলার সঙ্গে পরিচয় হলো। দাদি বলে সম্বোধন করতে বললেন এহানের মা। দাদির জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে কিছু স্বপ্নের কথা বলা শুরু করলো এহান। কিন্তু এহানকে থামিয়ে দিয়ে তার মা ছোটবেলা থেকে যা যা হয়েছে সব এক নাগারে বলে গেলেন। মহিলা ঝিম মেরে বসে রইলেন। এরপর দু’টা তাবিজ দিলেন। বললেন, মাঝ রাতে তাহাজ্জুত পড়ে একটা মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে। আরেকটা শোভা পাবে গলায়। পড়া পানি দিলেন। তাবিজ পড়ার পর এই বোতলের পানি পশ্চিম মুখে দাঁড়িয়ে তিনবারে পান করতে হবে। এতেই শেষ হয়, বালিশের নিচে রাখতে হবে শুকনা মরিচ আর কাঁচা হলুদ। এই মরিচ ও হলুদ বালিশের নিচে থাকবে এক মাস। আর প্রধান চিকিৎসা বিয়ে দিতে হবে। শুধু বিয়ে দিলেই হবে না- জোড় তারিখে জন্ম নেয়া মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে। বেজোড় হলেই বিপদ।
এত পথ্যের পর এহান ভাবলো যত কিছু তিনি দিলেন; না জানি ফি কতো হাজার টাকা হয়। না তা হলো না। তার ফি ১০১ টাকা আর তাবিজের জন্য ৫০ করে ১০০ টাকা।
এহান ভাবছে- কেন যে মাকে বলতে গেলাম। এদিকে নিশাতের অরিজিনাল, সার্টিফিকেট দুই জন্মদিনই বিজোড় তারিখে। আচ্ছা বাংলা কতো তারিখ, আরবি কতো তারিখে জন্ম এটা ভাবতে থাকে।
পরদিন রাতে এহানের বাস। ফিরতে হবে ঢাকায়। আগের রাতে রুক্ষ মহিলার দেয়া সব আচার পালন করা হয়। মধ্যরাতে গোসল করে তার তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে হয়। একটা সেকেলে তাবিজ ঝুলছে তার গলায়। আরেকটা পোঁতা হয়েছে বাড়ির উঠানে। পানি পান করা হয়েছে আদব মেনে। এই ক’টাদিন কোনো স্বপ্নই দেখেনি এহান। খুব একটা প্যারাও দেয়নি নিশাত। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ফিরতে হচ্ছে। প্রতিবার যাওয়ার দিনে বাবা-মায়ের মন খারাপ হয়। কিন্তু এবার তো মন খারাপের পাশাপাশি ভয় দেখছে তাদের চোখে।
এহান বাসে। একটু চোখটা লেগে এলো। দেখে নিশাত বিয়ের সাজে। তবে তার পাশে ছেলেটি এহান নয়। নিশাতের বিয়ের কথা চলছে অনেকদিন ধরেই। প্রায়শই ছেলেপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে হচ্ছে। এহান চায় না এই স্বপ্নটা সত্যি হোক।
ঢাকায় ফেরার পর থেকেই আধ্যাত্মিকতার চাপে পড়েছে এহান। সে এখন চায় মজাদার স্বপ্ন দেখতে। কিন্তু এখন অধিকাংশ স্বপ্নই অস্পষ্ট। নিশাতের সঙ্গে বাড়তে থাকে দ্বন্দ্ব।
অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরে মেসে ফেরে এহান। এখন আর শুক্রবারেও নিশাতের খুব একটা দেখা পায় না এহান। দেখা হলেও উল্টো মুড অফ হয়ে যায়। নিশাতের ব্যবহার দিনকেদিন বিষাক্ত হয়ে উঠছে। কথায় কথায় উচ্চবাচ্য করছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ভাবে আজ একটা স্বপ্ন দেখতে হবে। স্পষ্ট স্বপ্ন। সেদিন রাতে আর ঘুম আসছিল না। কয়েকবার চেষ্টা করেও নিশাতের সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। একটা মিষ্টি নারী কণ্ঠ বলছে- আপনার কলটি ওয়েটিংয়ে আছে...
এহান এবার স্বপ্নে দেখলো- সেই রুক্ষ মহিলাকে। বলছেন- নিশাতের জন্মতারিখ জোড় তারিখে নয়। ওর আশা ছেড়ে দে। এহান দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই মহিলা বড় বড় চোখ করে পিছু নিয়েছে।
ঘামে তার শরীর ভিজে গেছে। এহান আর স্বপ্ন দেখতে চায় না। কিন্তু সেই রাতে আবার স্বপ্ন দেখলো সে। নির্জন মাঠ। কুয়াশা। সেখানে একটা ৭-৮ বছরের ছেলে চুপটি করে তাকিয়ে আছে।
এহান বলে- তুমি কে?
বাচ্চাটি বলে- আমাকে চিনিস নাই? ছোটবেলায় বিদ্যুতে হাত দিয়েছিলি। আমি সেই ছেলে। মায়ের কারণে বেঁচে গিয়েছিলাম আমরা। আমি তোর একটা সত্ত্বা, যার বয়স আর বাড়েনি।
চারদিকে কুয়াশা আরও ঘন হচ্ছে।
এবার ছেলেটি বললো- স্বপ্ন আর দেখিস না। স্বপ্ন বেশি দেখলে শান্তি পাবি না।
এহান কিছু একটা বলছে- কিন্তু মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। রুক্ষ মহিলার সঙ্গে বাচ্চাটা কুয়াশায় মিলিয়ে যাচ্ছে।
মিয়ান ডাকছে- এহান কী হয়েছে তোর? এমন করতেছিস কেন? কী হয়েছে?
এহান উঠে বসে। তড়িঘড়ি করে পানি পান করে। এরপর বলে- আমার স্বপ্নে যে মেসেজগুলো আসতো, তা আর আসবে না। মেসেজ দেয়া ছেলেটি আমাকে একা রেখে চলে যাচ্ছে... 




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন