দীর্ঘ ১৮ মাসের আইনি লড়াইয়ের পর ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) অভিযোগে রায় ঘোষণা করলো ফিফা। তবে সেই রায়ে স্বস্তির চেয়ে বেশি যেন বিতর্কই দানা বাঁধল জুরিখের সদর দপ্তরে। পশ্চিম তীরের বিতর্কিত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ক্লাবগুলোকে নিষিদ্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে বর্ণবাদ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের দায়ে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) ১.৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২.৫ কোটি টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।
২০২৪-এ ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্মকর্তারা অভিযোগ জানান, ইসরায়েল তাদের জাতীয় লীগে পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলের দলগুলোকে খেলিয়ে ফিফার গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করছে। তবে ফিফার বক্তব্য, ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি মর্যাদা একটি অমীমাংসিত এবং অত্যন্ত জটিল বিষয়। ফিফার গঠনতন্ত্রের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর ব্যাখ্যার প্রেক্ষাপটে, এই মুহূর্তে ফিফার কোনো ব্যবস্থা নেয়া উচিত নয়।’ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষায়, ‘ফুটবল ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মেটাতে পারে না। তবে আমরা ফুটবলের শক্তি দিয়ে শান্তির সেতু তৈরি করতে চাই।’
বসতি স্থাপনকারী ক্লাবগুলো নিষিদ্ধ না হলেও, বর্ণবাদী আচরণ এবং ‘ফেয়ার প্লে নীতি’ লঙ্ঘনের দায়ে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হচ্ছে ইসরায়েলকে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি জানিয়েছে, জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ ইসরায়েলকে স্টেডিয়ামে বর্ণবাদ বিরোধী প্রচারণা এবং সংস্কারমূলক কাজ ব্যয় করতে হবে। পুনরায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তাই পুরো এক মৌসুম জুড়ে ক্লাবগুলোকে ফিফার কঠোর নজরদারিতে থাকতে হবে।
ফিফার বিচারকরা জানিয়েছেন, ফুটবলের মানবিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তারা উদাসীন নন। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে চরম কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে, এই রায় নিয়ে ফিলিস্তিনি ফুটবল মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ফিফা এখানে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করেছে। একদিকে শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে দখলকৃত অঞ্চলের ক্লাবগুলোকে বৈধতা দিচ্ছে।
