“তুমি সৌন্দর্যের প্রতিমা, তুমিই মুগ্ধতা
তুমি ছাড়া প্রিয়তমা, এই রাতে চাঁদের আলো নেই
পৃথিবী তুলোর মতো উড়ে যায় যাক
তুমি থাকো পাশে-
তোমার চুল আমার আহ্লাদের বনানী
আমার অনুভবে কেবলই তুমি প্রিয়তমা
তোমার হৃদস্পন্দন শোনার জন্য
আমি সর্বস্ব ছেড়ে দিতে পারি।”
রমণীমোহন পিকাসো। কবিতায় পিকাসো এভাবেই তার প্রিয় নারীকে অনুভূতির কথা জানিয়েছেন। প্রেমে আকণ্ঠ ডুবে থাকতেন এই খ্যাতিমান শিল্পী। তাঁর শিল্পী জীবনে একাধিক নারীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকের মতে তা শতেক ছাড়িয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়। পিকাসোর অসংখ্য নারী সঙ্গীর শৈল্পিক উপস্থিতি বিভিন্ন সময়ে তার ক্যানভাসে আমরা লক্ষ্য করি। বিশেষ করে পিংক পিরিয়ডের ছবিগুলোতে রোমান্টিকতা অনেক বেশি স্পষ্ট। পিকাসোর জীবনে প্রেম ছিল প্রবহমান। স্রোতধারার মতোই প্রেমিকাদের আসা-যাওয়া ছিল তার জীবনে। এইজন্য অনেকেই পিকাসোকে বলেন নারী বদলের শিল্পী।
পাবলো পিকাসো, পুরো নাম পাবলো দিয়েগো হোসে ফ্রান্সিসকো দে পাউলা হুয়ান নেপোমুসেনো মারিয়া দে লস রেমেদিওস সিপ্রিয়ানো দে লা সান্তিসিমা ত্রিনিদাদ রুইস ই পিকাসো। তার বাবার নাম ডন হোসে রুইস ই ব্লাসকো ও মায়ের নাম মারিয়া পিকাসো লোপেস।
চিত্রকলার অভাবনীয় বিস্ময়, আধুনিক শিল্পকলার এক অনন্য নাম, কিউবিজমের জনক, স্থাপত্য থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্যাশন পর্যন্ত ভিজ্যুয়াল আর্টের প্রায় সব মাধ্যমেই রয়েছে এই কালজয়ী শিল্পীর প্রভাব।
জন্ম ১৮৮১ সালের ২৫শে অক্টোবর স্পেনে।
একের পর এক কালজয়ী চিত্রকর্মের জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এই মহান শিল্পী।
অধিকাংশ চিত্রকর্মে পিকাসো নারীদেহের অসাধারণ প্রকাশ ঘটিয়েছেন। প্রণয় সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন একাধিক নারীর সঙ্গে। ছবি আঁকার ক্ষেত্রেও তার প্রেমিকাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলেন পিকাসো। আর তার প্রত্যেক প্রেমিকার হাত ধরেই নতুন নতুন শিল্প সৃষ্টি হয়েছে । মনে করা হয় এক- একজন নারীর এক-এক রকম বৈশিষ্ট্যের জন্য পিকাসোর চিত্রকর্মে ও নানা ধরনের বৈচিত্র্য দেখা গেছে।
শোনা যায়, এই কালজয়ী শিল্পী যখন প্রথম কথা বলেছিলেন তখন তার মুখ দিয়ে বাবা-মা নয়, প্রথম যে শব্দটি বার হয়েছিল সেটি হলো লাপিয, স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ হচ্ছে পেন্সিল। কিন্তু পরবর্তীতে নারীঘটিত সম্পর্কগুলোকে কেন্দ্র করে তার মধ্যে বিশাল পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল। ১৯৪৩ সালে পিকাসো তার রক্ষিতা ফ্রাসোয়া গিলতকে বলেছিলেন, “নারীরা যন্ত্রণা সৃষ্টির যন্ত্র।” তিনি আরও বলেছিলেন, “আমার জীবনে নারীরা কেবল দুই রূপে স্থান পায়, দেবী অথবা পাপোষ।”
খ্যাতিমান এই শিল্পীকে নিয়ে নতুন করে বলার আর কিছু নেই। তবে বলা হয়ে থাকে পিকাসো নাকি তার চিত্রকর্মের জন্য নারীদের ‘ব্যবহার’ করতেন।
পিকাসোর জীবনে আসা বহু নারীর মধ্যে সাতজন নারী ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। এই সাতজন নারীর মধ্যে দু’জন আত্মহত্যা করেছিলেন এবং দু’জন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।
প্রতিটি শিল্পীই কিন্তু কিছু না কিছু থেকে প্রভাবিত হয়ে তার শিল্পকে সমৃদ্ধ করেন। স্বভাবতই তাই প্রশ্ন এসে যায়, কীসের প্রভাব পিকাসোর অন্তরে প্রেরণা জোগায়, সাধারণ পর্যবেক্ষণকে ভেঙেচুরে একেবারে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিষয়কে ক্যানভাসে বন্দি করায়? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বৈচিত্র্যময় পিকাসোর জীবনে অনুপ্রেরণা ছিলেন তার জীবনে আসা অসংখ্য নারী। তাদের একেক জনের একেক রকম বৈশিষ্ট্যের প্রভাব পড়ে তার কাজের মধ্যে। পিকাসোর জীবনে আসা বহু নারীর প্রভাবেই হয়তো পিকাসোর চিত্রকর্মের স্টাইলেও দেখা মেলে বৈচিত্র্যের। তার একেকটি কাজের স্টাইল এবং পর্যায়কালকে তার প্রেমিকাদের নামে নামকরণ করলেও হয়তো ভুল হবে না।
রেমব্র্যান্ডট এবং গয়া থেকে শুরু করে বর্নাড এবং স্ট্যানলি স্পেনসারের মতো শিল্পীরা অবচেতনভাবে, অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তাদের শিল্পকর্মে স্ত্রী কিংবা প্রেমিকাদের মুখ ও তনুর প্রতিকৃতি তুলে ধরেছেন। তবে বিংশ শতাব্দীর সেরা শিল্পী পাবলো পিকাসোর মতো করে কেউই তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের ব্যবহার কিংবা অপব্যবহার করতে পারেননি এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে লন্ডনের জাতীয় গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে পিকাসোর আঁকা নারীদের কিছু বিকৃত ছবি দেখলে আপনার মনে হতেই পারে নারীরা শুধুই পিকাসোর ‘শিল্পদাসী’ ছিলেন। ক্যানভাসের উপর ফুটে ওঠা নারী প্রতিকৃতিগুলোর সারা শরীরে বিকৃতির চিহ্ন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
পিকাসোর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাত নারীর মধ্যে দু’জন আত্মহত্যা করেছেন, দু’জন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। অসংখ্য নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, শিল্পের জন্য, ছবি আঁকার জন্য এই নারীদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলেন পিকাসো। তার জীবনের শেষ ভালোবাসা দেমর জ্যাকলিন রোককে ঘিরেই ৪০০টি পোট্রেট এঁকেছিলেন তিনি।
তাঁর জীবনে আসা গুরুত্বপূর্ণ নারীদের সম্পর্কে জানা যাক।
ফার্নান্দে অলিভিয়ার (১৮৮১-১৯৬৬; পিকাসোর সঙ্গে ছিলেন ১৯০৪-১৯১১)
প্যারিসের স্থায়ী জীবন থেকে পিকাসোর ক্যানভাসে আবার এক ধরনের বাঁক দেখা দিলো। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে পরিচয় হয় ফার্নান্দো অলিভিয়েরের সঙ্গে। শিল্পীর জীবনে প্রেম ও আনন্দের ঢেউ জেগে ওঠে। এ সময় বিশ্বখ্যাত কবি গিয়োম এপোলোনিয়ের সঙ্গেও পরিচয় হয়। শিল্পীর জীবন থেকে বিষণ্ন্নতার নীল যন্ত্রণা কেটে যেতে থাকে। এবার তার ক্যানভাসে সেই বেদনানীল বিষণ্নতা পাল্টে গিয়ে ধীরে ধীরে স্থান পেতে থাকলো গোলাপি। পিকাসোর এই পর্বেরও একটা বিশ্বখ্যাত নাম আছেÑ‘পিংক পিরিয়ড’ বা গোলাপি পর্ব। এ ধারায় তিনি ছবি আঁকেন ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। গোলাপি পর্বের চিত্রগুলোতে দেখা যায় কমলা ও গোলাপি উষ্ণ রঙের আধিক্য। এর মধ্যে আছে আনন্দ। এসব ছবিতে দেখা যায় মানবজীবনে অনেক শূন্যতা আছে কিন্তু সামাজিক বা আর্থিক দৈন্য নেই। তিনি ফার্নান্দো অলিভিয়েরকে মডেল করে অনেক ছবি এঁকেছেন। প্রায় ৮ বছরের এই সময়টিতে অলিভিয়েরকে নিয়ে অসংখ্য ছবি আঁকেন পিকাসো। কিউবিজম বিপ্লবের সময়টিতে পিকাসোর সঙ্গেই ছিল এই মডেল। কিন্তু কখনো পিকাসোর শিল্পসত্ত্বা তাকে স্পর্শ করেনি বলেই জানা যায়। বিবাহিতা ফার্নান্দের সঙ্গে ১৯০৪ সালে পিকাসোর দেখা হওয়ার পর থেকে আর অন্য কারও জন্য তাকে মডেলিং করতে দেননি পিকাসো। ১৯৮৮ সালে পিকাসোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন স্মৃতি নিয়ে তার বই বের হয় যার নাম ‘Loving Picasso’।
ইভা গোয়েল (১৮৮৫-১৯১৫; পিকাসোর সঙ্গে ছিলেন ১৯১১-১৯১৫)
শৈশবে তার নাম মার্সেলে হাম্বার্ট রাখা হলেও পরবর্তীতে তিনি ইভা গোয়েল নামেই বেশি পরিচিতি লাভ করেন। ১৯১১ সাল পর্যন্ত তিনি জুনিয়র শিল্পী লুই মারক্যুসের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। ১৯১২ সালে ফার্নান্দের সঙ্গে পিকাসোর সম্পর্কের অবসান হওয়ার পর মার্সেলে হাম্বার্ট তথা ইভা গোয়েলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন পিকাসো। ক্ষণজন্মা ইভা সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে। ১৯১৫ সালে যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ইভা। তার অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন পিকাসো। পরবর্তীতে ‘ও খড়াব ঊাধ’ পেইন্টিংয়ে তার প্রতি পিকাসোর ভালোবাসা উঠে আসে।
ওলগা খোখলোভা (১৮৯১-১৯৫৪; পিকাসোর সঙ্গে ছিলেন ১৯১৭-১৯৩৫)
পিকাসোর প্রথম স্ত্রী, তার প্রথম সন্তানের মা, নৃত্যশিল্পী ওলগা খোখলোভা। শিল্পী যখন রোমে ব্যালে প্যারেড ডিজাইন করছিলেন, তখন এই ব্যালে শিল্পীর সঙ্গে তার প্রেম হয়। তারা ১৯১৮ সালে রাশিয়ায় বিয়েও করেন। তাদের বৈবাহিক জীবন কলহপূর্ণ ছিল। ওলগা একদিকে ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের উচ্চবিত্ত সমাজের ক্লাব পার্টি প্রিয় মেয়ে, অন্যদিকে পিকাসো ছিলেন সম্পূর্ণ বোহেমিয়ান। কাজেই তাদের মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের কারণ সহজেই অনুমেয়। ১৯২১ সালে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। ১৯৩৫ সালে তারা আলাদা হয়ে যাওয়ার পরে ওলগা পিকাসোর নামে একের পর এক অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করেন। পিকাসো অবশ্য ওলগার সঙ্গে সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নিতে কোনোমতেই রাজি হননি। কাজেই ফরাসি আইন অনুযায়ী তাদের বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হয়নি।
মারি থেরেস ওয়াল্টার (১৯০৯-১৯৭৭; পিকাসোর সঙ্গে ছিলেন ১৯২৭-১৯৩৬)
১৯২৭ সালে মারি ওয়াল্টারের সঙ্গে যখন পিকাসোর প্রেম হয়, তখন তার বয়স মাত্র ১৭। পিকাসো-ওলগার ফ্ল্যাটের খুব কাছেই তিনি থাকতেন। ১৯২৭ সালে স্বর্ণকেশী এই নারীর সঙ্গে আর্ট গ্যালারির বাইরে দেখা হয় পিকাসোর, সেখান থেকে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। ব্যাপারটা মারি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আগ পর্যন্ত ওলগার অজানা ছিল, পিকাসো প্রায় আট বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন এই সম্পর্কটির কথা। মায়া নামে মারি আর পিকাসোর এক কন্যাসন্তান জন্ম হয়। এই মায়ার পুত্রই অলিভিয়ার ওয়িদমায়ার ‘চরপধংংড়: ঞযব জবধষ ঋধসরষু ঐরংঃড়ৎু’ নামে একটা বই লেখেন। মায়া জন্মের এক বছর পরেই পিকাসো আবার দোরে মারের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হন। এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ১৯৭৭ সালে আত্মহত্যা করেন মারি।
দোরে মার (১৯০৭-১৯৯৭; পিকাসোর সঙ্গে ছিলেন ১৯৩৬-১৯৪৪)
হেনরিটা থিওডরা মার্কোভিচ, যিনি দোরে মার নামেই বেশি পরিচিত, একাধারে আলোকচিত্রী, চিত্রশিল্পী এবং কবি ছিলেন। গোয়ের্নিকার ছবি তোলার সূত্রে ১৯৩৬ সালে ৫৪ বছর বয়সী পিকাসো যুগোসøাভিয়ান আলোকচিত্রী দোরে মারের সঙ্গে মিলিত হন। ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তিনি পিকাসোর সবসময়ের সঙ্গী ছিলেন। পিকাসো প্রায়ই তাকে ‘Private Muse’ বলে ডাকতেন। পিকাসো বিশ্বাস করতেন, শক্তিমান এই নারী শিল্পীর কখনো মা হওয়ার ক্ষমতা ছিল না। পিকাসো তার পরবর্তী প্রেমিকা ফ্রাসোয়ার জন্য দোরে মারকে ছেড়ে যান। দোরে মার তার জীবনের শেষ দিনগুলো পিকাসোর সঙ্গে কাটানো সুসময়ের কথা ভেবে অতিবাহিত করেন।
ফ্রাসোয়া গিলত (১৯২১-; পিকাসোর সঙ্গে ছিলেন ১৯৪৪-১৯৫৩)
পরিবারের চাপে আইন বিষয়ে পড়তে যাওয়া গিলত সুযোগ পেয়েই ভালোবাসার বিষয় শিল্পকলায় ভর্তি হয়ে যান। ১৯৪৩ সালে এই শিল্পকলার এই ছাত্রীর সঙ্গে পিকাসোর প্রেম হয়। তাদের ঘরে ক্লদ ও পালোমা নামে দু’টি সন্তানের জন্ম হয়। শিশুদের নামকরণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পিকাসোর আঁকা শান্তির পায়রা অনুযায়ী হয়। গিলতের সঙ্গে সম্পর্কের নয় বছর পিকাসোর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল বলেও শোনা যায়। গিলত পরবর্তীতে মার্কিন মুল্লুকের অগ্রগামী প্রতিষেধক আবিষ্কারক জোনাস সাল্ককে বিয়ে করেন। এখনো ছবি আঁকেন গিলত।
জ্যাকলিন রোক (১৯২৭-১৯৮৬; পিকাসোর সঙ্গে ছিলেন ১৯৫৪-১৯৭৩)
ভ্যালারিসের মাদুরা পটারি স্টুডিওতে সহকারী বিক্রেতা ছিলেন জ্যাকলিন, এখানেই পিকাসো তার সিরামিকসের কাজগুলো করাতেন। ১৯৫৪ সালে হতাশ নিঃসঙ্গ পিকাসো ২৭ বছর বয়সী জ্যাকলিনের সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৬১ সালে তিনি তাকে বিয়ে করেন। এ সময় পিকাসোর বয়স ৭৯। অন্যান্য প্রেমিকাদের তুলনায় জ্যাকলিনকে নিয়ে তার সবচেয়ে বেশি চিত্রকর্ম রয়েছে। পিকাসোর প্রেমিকাদের মধ্যে শুধুমাত্র ওলগা এবং জ্যাকলিনই মাদাম পিকাসো হতে পেরেছিলেন অর্থাৎ তার স্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিলেন, কারণ স্প্যানিশদের মধ্যে স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন অন্য কাউকে বিয়ে করার রীতি ছিল না। ১৯৮৬ সালে গুলি করে আত্মহত্যা করেন জ্যাকলিন।
বিশ্বখ্যাত এই প্রেমিক পুরুষ একাধিক নারীর সঙ্গে প্রণয় সম্পর্কে লিপ্ত থাকলেও তার জীবনের একটা অজানা দিক নিয়ে ২০০৯ সালে মার্ক হাডসন একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ‘পিকাসো-চ্যালেঞ্জিং দ্য পাস্ট’ এই শিরোনামে ন্যাশনাল গ্যালারিতে একটি চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পিকাসোর সঙ্গে নারীদের কমপ্লিকেটেড রিলেশনশিপ বা জটিল সম্পর্কের দিকগুলো তুলে ধরা হয়।
১৯৭৩ সালের ৮ই এপ্রিল, ৯১ বছর বয়সে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, কিউবিজমের জনক এই মহান শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। Í
