আমার দেখা নেপালের গণ-অভ্যুত্থান

আমার দেখা নেপালের গণ-অভ্যুত্থান

ফন্ট সাইজ:

পাহাড়কন্যা নেপাল ভ্রমণের স্বপ্ন দীর্ঘদিন থেকেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে মনের গভীরে প্রোথিত ছিল। ইচ্ছে ছিল পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ভেসে বেড়ানো মেঘমালাকে নিজের হাতে ছুঁয়ে দেখার। সুযোগ খুঁজছিলাম কীভাবে যাওয়া যায়। কোনোভাবেই ব্যাটে-বলে মিলছিল না। অবশেষে এলো মাহেন্দ্রক্ষণ। নেপাল জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলার শিডিউল নির্ধারিত হয় ২০২৫ সালের ৬ ও ৯ই সেপ্টেম্বর। সহকর্মী মানবজমিনের স্পোর্টস ইনচার্জ সামন হোসেন ভাই অফার করলেন- প্রীতি ম্যাচ দেখার পাশাপাশি নেপাল ঘুরে আসতে পারেন। মানে রথও দেখা হবে কলাও বেচা হবে। যেহেতু নেপাল যেতে ভিসার প্রয়োজন হয় না, শুধু বিমানের টিকিট কাটলেই হয়ে যায়, এ ছাড়া তার দুই বন্ধুও (আমারও পূর্বপরিচিত) যাবেন, থাকা-খাওয়ার খরচও তেমন লাগবে না। তাই সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম। একইসঙ্গে যাওয়ার রোডম্যাপ নির্ধারণ করলাম। ওদিকে আমার পকেটে মানবজমিনের পিকনিকের র‌্যাফল ড্রতে পাওয়া দু’টি বিমান টিকিট পড়েছিল দীর্ঘদিন ধরে। শুধু টিকিটের ট্যাক্সের টাকা দিলেই হয়ে যাবে। একেবারে ব্যাটে-বলে মিলে গেল সবকিছু। ফুটবল টিমের সঙ্গে সামন ভাই ও তার বন্ধুরা গেলেন ৫ই সেপ্টেম্বর। আমি টিকিট বুকিং দিলাম দু’দিন পর অর্থাৎ ৭ই সেপ্টেম্বর। সামন ভাই কাঠমান্ডু পৌঁছে হোটেলের লোকেশন ও ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে কীভাবে কোনপথে যাবো সব বাতলে দিয়ে মেসেজ করলেন।
আমার ফ্লাইট ছিল দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। আগের দিন রাতেই ছোট্ট একটা ট্রাভেল ব্যাগে পাসপোর্ট-টিকিট ও প্রয়োজনীয় জামা-কাপড় গুছিয়ে রেখেছিলাম। সকালে নাস্তা সেরে বেলা ১১টায় বাসা থেকে রওনা হলাম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে। যানজট এড়িয়ে যথাসময়ে পৌঁছতে বাইকে করে রওনা হলাম। বেলা ১২টায় পৌঁছলাম হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ইমিগ্রেশন শেষ করে বাংলাদেশ বিমানের নির্ধারিত লাউঞ্জের ওয়েটিং রুমে গিয়ে বসলাম। দেড়টার ফ্লাইট ৩০ মিনিট বিলম্বে ছাড়বে। তাই ওয়েটিংরুমে বসে বসে বোর হচ্ছিলাম। এটা দ্বিতীয়বার আমার দেশের বাইরে একা সফর। এর আগে থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম একা। ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিদায় নিতে নিতেই বিমানে উঠার ডাক এলো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে করে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজে আমাদের তোলা হলো। প্রথা অনুযায়ী দু’জন বিমানবালা আমাদের স্বাগত জানালেন। নির্ধারিত আসনে বসতেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম। তখনো বিমানের এসি চালু হয়নি। আবদ্ধ বিমানটিতে প্রচণ্ড গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা সবার। দায়িত্বরত একজন বিমানবালা এসে জানালেনÑ বিমানের ইঞ্জিন চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসি চালু হবে। তখন স্বাভাবিক তাপমাত্রা হবে। প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের এই গরম সহ্য করতে হলো। এরপর উড়লো বিমান। আধাঘণ্টার মধ্যে ৩৮ হাজার ফিট উপর দিয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করলো। বিমানের ছোট্ট জানালা দিয়ে মুঠোফোনে সাদা সাদা মেঘের দলের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য ধারণ করছি। গ্রামবাংলার নদী-নালা, খাল-বিল ওপর থেকে কেমন দেখা যায় সেটাও ক্যামেরাবন্দি করলাম। নেপালের আকাশসীমায় পৌঁছাতেই চোখে পড়লো একের পর এক বিশাল পাহাড়। ঘন সবুজ গাছে ঢাকা এই পাহাড়গুলো। নয়নাভিরাম পাহাড় আর মেঘের মিতালির দৃশ্য দেখতে দেখতে বিমান পৌঁছে গেল ত্রিভুবন বিমানবন্দর সীমানায়। বিকাল ৩টায় সহিসালামতে অবতরণ করলো বিমান।
ত্রিভুবন বিমানবন্দরটি হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তুলনায় অনেক ছোট। কাঠমান্ডু শহরের একপাশে পাহাড়ের কোলঘেঁষে অবস্থিত। নেপালের নিয়ম অনুযায়ী বিমান থেকে নেমে ইমিগ্রেশন করার আগে নিতে হবে পোর্টএন্ট্রি ভিসা। প্রথমবার ভিসা ফি লাগে না, দ্বিতীয়বার এলে ২৫ ডলার লাগবে। বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি বুথ রয়েছে অনলাইনে ভিসা ফরম পূরণের জন্য। একটি বুথে গিয়ে ফরম পূরণ করতে শুরু করলাম। তখন আমাকে সহায়তা করতে এগিয়ে এলেন বিমানবন্দরের এক তরুণী কর্মকর্তা। ফরম পূরণের পর পাঠানো হলো আরেক ডেস্কে। সেখান থেকে নিতে হবে পাসপোর্টে ভিসার সিল। কাজ সেরে গেলাম ইমিগ্রেশনের লাইনে। দ্রুত ইমিগ্রেশন শেষ করে বের হলাম ট্যাক্সির খোঁজে। ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে কাঠমান্ডুর থামেল এলাকার হোটেলের দূরত্ব বেশি নয়। আধাঘণ্টার পথ। ট্যাক্সিক্যাব চালক ভাড়া চাইলো ১৫০০ নেপালি রুপি। নেপালি রুপি আর টাকার মান প্রায় সমান। ১০ পয়সা পার্থক্য। আপনি ১০০০ টাকা দিলে নেপালি রুপি পাবেন ১১০০। ওদিকে সামন ভাই আগে থেকে বলে রেখেছিলেনÑ মোলামুলি করে ট্যাক্সি নিতে। ভাড়া মূলত ৫০০-৬০০ রুপি। কিছুদূর এগিয়ে মোলামুলি করে ট্যাক্সি ঠিক করলাম। ভাড়া ৮০০ রুপি।
কাঠমান্ডু শহরে ঢাকার মতো এত যানজট নেই। এতে বেশি আধুনিক বিল্ডিং না থাকলেও রাস্তাঘাট-অলিগলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিপাটি। পুরনো বিল্ডিং বেশি। কাঠমান্ডু শহরের দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম থামেলের মুসলিম গলিতে। আমার বুকিং করা হোটেলের নাম ঢাকা এক্সপ্রেস হোটেল। ট্যাক্সিচালক মুসলিম গলিতে আমাকে নামিয়ে দিয়ে বিদায় নিলেন। গলিতে ঢুকেই পেয়ে গেলাম আমার হোটেল। হোটেলে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন সামন ভাই ও তার বন্ধুরা। আমার রুম নম্বর ৪০২। মোটামুটি ভালো মানের হোটেল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তিন বেডের রুমের ভাড়া ২৫০০ রুপি। দামের দিক দিয়ে ঢাকার চেয়েও কম। হোটেলটি পরিচালনা করেন দু’জন বাংলাদেশি। একজন হলেন তারেক নামের এক তরুণ ব্যবসায়ী। আরেকজন হলেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি। ৫ই আগস্টের পর পালিয়ে নেপালে আশ্রয় নিয়েছেন। পার্টনারশিপে হোটেল ব্যবসা করছেন। হোটেলের অভ্যর্থনা ডেস্কে পাসপোর্টের কপি জমা দিয়ে রুমে গেলাম। ব্যাগপত্র রেখে ফ্রেস হয়ে নিচে নামলাম। মুসলিম গলির দুই পাশে সারি সারি হোটেল। বেশির ভাগই পরিচালনা করছেন নেপালি মুসলিমরা। বেশ কয়েকটির মালিক আবার বাংলাদেশি। গলির পশ্চিম দিকের একটি হোটেলে গিয়ে পেটপূর্তি করলাম। খাবার শেষ হতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। হোটেলের সামনের বেঞ্চে বসে গা এলিয়ে বিশ্রাম নিলাম। সেখানেই সন্ধ্যায় চা ও চিকেনের কিমায় তৈরি ধোঁয়া উড়া গরম গরম মম দিয়ে বিকালের নাস্তা সারলাম। সন্ধ্যার পর বের হলাম বন্ধুদের সঙ্গে থামেলের অলিগলি চিনতে। হাঁটতে হাঁটতেই পরের দিন নেপালের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নাগরকোট যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম। নাগরকোটের হিল স্টেশন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এটি কাঠমান্ডুর ৩২ কি.মি. উত্তর-পূর্বে অবস্থিতÑ যেখান থেকে হিমালয় ও মাউন্ট এভারেস্টের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। তাই প্রথম দিন ওই স্থানটিকেই বেছে নিলাম। থামেলের একটি রেন্ট-এ কার-এর অফিসে গিয়ে নাগরকোট যাওয়ার প্রাইভেট জিপ ভাড়া করলাম। ভাড়া সাড়ে চার হাজার রুপি। পরের দিন সকাল ১১টায় রওনা দিতে হবে। রাতে মুসলিম গলির একই হোটেলে ডিনার শেষে হোটেল রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
নেপালের আবহাওয়া চমৎকার। বেশি শীত নয় আবার বেশি ঠান্ডাও নয়। খুবই আরামদায়ক। মাঝে-মধ্যে হালকা বৃষ্টিও হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সারতেই আমাদের ভাড়া করা গাড়িচালক চলে আসেন। তিনি গলির সামনে অপেক্ষা করছেন। আমরা তিনজন রওনা হলাম নাগরকোটের উদ্দেশ্যে। থামেল থেকে বেরিয়ে কাঠমান্ডুর প্রধান সড়কে উঠতেই গাড়িচালক জানালেনÑ আজ নেপালের ওলিও সরকারের বিরুদ্ধে জেন-জিদের বিক্ষোভ রয়েছে। তখনও ঘুণাক্ষরে বুঝতে পারিনি একদিনের বিক্ষোভে ওলিও সরকারের পতন হবে। জেন-জিদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা শুনে আমরা পাত্তা দেইনি। কারণ বাংলাদেশে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নানা বিক্ষোভ হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে তা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আমাদের জিপচালক খুবই দক্ষ। নাগরকোটের পাহাড়ি বৃত্তাকার খাড়া রাস্তা খুব দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাচ্ছেন চালক। নাগরকোটের পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য। ঘন সবুজ গাছে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য একেবারে চোখ জুড়িয়ে যায়। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে নেপালিরা বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। বাড়ির আঙিনায় ভুট্টাসহ নানা ফসলাদির ক্ষেত। পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে নাগরকোটের হিল স্টেশনের পৌঁছতে দুপুর হয়ে যায়। প্রায় ৫০০ গজ সিঁড়ি বেয়ে হিল স্টেশনের ভিউ পয়েন্টে উঠলাম। ভিউ পয়েন্ট থেকে চারপাশের পুরো পাহাড় দেখা যায়। ১০০ গজ ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার রেলিং দিয়ে হিল স্টেশনটি তৈরি করা হয়েছে। ভিউ পয়েন্টে দাঁড়াতেই হঠাৎ মেঘের দল এসে আমাদের ঢেকে ফেলে। সাত হাজার ফুট ওপরে নিজ হাত দিয়ে মেঘ ধরতে পেরে অভিভূত হয়ে গেলাম। হিল স্টেশন থেকে নেমে গেলাম নাগরকোটের সবচেয়ে সুন্দর জায়গাটিতে। যেখান থেকে হিমালয় পাহাড় দেখা যায়। সেখানে যেতেই এক পসলা বৃষ্টি এসে আমাদের ভিজিয়ে দেয়। আমরা আশ্রয় নিই একটি রেস্টুরেন্টে। সেই রেস্টুরেন্টে বসেই কাঠমান্ডু শহরে জেন-জিদের বিক্ষোভে হতাহতের খবরটি শুনতে পেলাম। বিক্ষোভ শুধু কাঠমান্ডু নয় আশপাশের শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সহকর্মী সাংবাদিকরা আমাদের সতর্ক করলেন। সাবধানে কাঠমান্ডু ফেরার পরামর্শ দিলেন। মনের মধ্যে কিছুটা ভয় কাজ করছে। নাগরকোটে দুপুরের খাবার খেয়ে দ্রুত রওনা দিলাম কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে। আমাদের জিপচালক শহরের প্রধান সড়ক এড়িয়ে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পেছনের রাস্তা দিয়ে আসেন। পথচারী, পর্যটক ও স্থানীয়দের সবার মধ্যে আতঙ্ক। কাজ করছে উৎকণ্ঠা। ভয়ে ভয়ে আমরা হোটেলে ফিরলাম। হোটেলে ফিরে সহকর্মী ও স্থানীয় নেপালিদের কাছ থেকে আন্দোলনের ভয়াবহতা জানতে পারলাম।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় তরুণদের নজিরবিহীন এই আন্দোলন। রাজধানীর মৈতীঘর মন্ডলা এলাকায় জমায়েত হন বিক্ষোভকারীরা। এই এলাকাটি কাঠমান্ডুর প্রতীকী স্মৃতিস্তম্ভ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল। মূলত এই স্থান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনের ঢেউ। যা একপর্যায়ে পৌঁছে যায় দেশটির সংসদ ভবনের সামনে নিউ বানেশ্বর এলাকায়। এই আন্দোলনের মূল কারণ সরকারের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং তরুণদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা। আন্দোলনটি সংগঠিত করে ‘হামি নেপাল’ নামের একটি যুবসংগঠন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতির যত তদন্ত হয়, তা পার্লামেন্টে আলোচনা হয়, কিন্তু কোনোটিরই সন্তোষজনক সমাধান হয় না। তা নিয়েই ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের একটি বিমান চুক্তির দুর্নীতির ঘটনা এবং সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপনের ছবি যখন টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তরুণদের ক্ষোভ চরমে ওঠে। একইসঙ্গে সরকারের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও এই ক্ষোভে ঘি ঢেলেছে। আন্দোলনের মুখে একপর্যায়ে ওইদিন সন্ধ্যায় সকল সামাজিক মাধ্যম খুলে দেয় সরকার। সকল মন্ত্রীকে নিয়ে জরুরি সভায় বসেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নিরাপত্তা ইস্যুতে বাতিল করেন বাংলাদেশ নেপালের মধ্যকার দ্বিতীয় ফুটবল ম্যাচ। বিক্ষোভ দমনে বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল দেশটির পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান নিক্ষেপ করে। এতে প্রথম দিনের বিক্ষোভে কাঠমান্ডুসহ বেশ কয়েকটি শহরে ২০ জন নিহত হয়। আর আহত হন শতাধিক বিক্ষোভকারী। ওলি সরকার পরদিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে। প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন শীতল নিবাস, মহারাজগঞ্জ, ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবন লায়নচাওর, সিংহ দরবারের চারপাশ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বলুয়াটার এবং আশপাশ এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। কারফিউ চলাকালে উল্লিখিত এলাকায় চলাফেরা, সমাবেশ, বিক্ষোভ বা ঘেরাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে রাতে আমাদের সাংবাদিকদের সঙ্গ দিতে আসলেন নেপালি ক্রীড়া সাংবাদিক ও প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ভাতিজা প্রজ্জল ওলি। তিনি আমাদের পরিচিত একটি একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলেন। ডিনার দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। পোড়া চিকেন ও নান রুটিসহ নানা মজাদার খাবার পেটপুরে সবাই খেলাম। ওই রেস্টুরেন্টে আড্ডা জমে ওঠে। আড্ডার মধ্যমণি নেপালি সাংবাদিক প্রজ্জল ওলি। তার সঙ্গে যোগ দেন নেপালের আরও কয়েকজন সাংবাদিক। প্রজ্জল ওলি খুবই অতিথিপরায়ণ। সবাইকে জোর করে খাবার পাতে তুলে দিচ্ছেন। আড্ডার মধ্যে সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরলেন তিনি। সব মন্ত্রীরা দুর্নীতিগ্রস্ত। এই আন্দোলনে সরকার টেকার সম্ভাবনা কম। আড্ডা দিতে দিতে রাত ১১টা বেজে যায়। আড্ডা শেষে ফিরলাম হোটেলে। সকালে ঘুম ভাঙলো আন্দোলনের গর্জনে। হোটেলের গলিসহ থামেলের সব সড়কে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকার জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে চলাকালের আন্দোলনের মধ্যদিয়েই অফিস করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই নির্ভয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে গেলাম নেপালের জেন-জিদের আন্দোলনে। থামেলের প্রধান সড়কে টায়ারে আগুন জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ করছেন জেন-জিরা। গগনবিদারী সেøাগান দিচ্ছেন ওলি সরকারের বিরুদ্ধে। জেন-জিদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করছেন সাধারণ মানুষ। আতঙ্কে সব যান চলাচল বন্ধ। বন্ধ হয়ে গেছে দোকানপাট, বিপণিবিতান। সড়কের টহল পুলিশ পালিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সব সড়ক বিক্ষোভকারীদের দখলে। থামেলের বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সব কিছু মুঠোফোনে দৃশ্য ধারণ করছি। একটু দূর এগুতেই দেখতে পেলামÑ একটি থানা জ¦ালিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারী। থানার সামনে রাখা পুলিশের সব গাড়ি পুড়ে ছাই। ভয়ে পুলিশের সদস্যরা আগেভাগেই থানা ছেড়ে পালিয়ে যান। একেবারে ঢাকার চিত্র দেখতে পাচ্ছি নেপালে। বেলা গড়াতেই পুরো নেপাল আন্দোলনকারীদের দখলে চলে যায়। অব্যাহত সহিংসতার জেরে বন্ধ করে দেয়া হয় বিমানবন্দর। সংসদ ভবন, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় মন্ত্রীদের বাড়ি। আগের দিনের সহিংস বিক্ষোভ ও প্রাণহানির জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে কাঠমান্ডুসহ আশপাশের শহর ও জনপদ। কারফিউ উপেক্ষা করে তরুণ ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। একের পর এক সরকারি ভবন ও দপ্তর দখল করে তারা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান। মন্ত্রীদের বাড়ি খুঁজে খুঁজে আগুন দেয়া হয়। পদত্যাগ করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু প্রসাদ পাওডেলকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতেও হামলা হয়। যেখানে দেউবা ও তার স্ত্রী আরজু রানা দেউবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝালানাত খানালের বাড়িতে আগুন দিয়ে দেয় তরুণ বিক্ষোভকারীরা। যেখানে তার স্ত্রী আটকা পড়েন এবং পুড়ে মারা যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আকস্মিকভাবে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর আসতেই উল্লাসে রাজধানীর সড়কে নেমে আসে থামেলের সাধারণ জনতা। দখলে নেয় প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের বাসভবন। এ সময় শহরের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিক্ষোভকারীদের হাতে। লুটপাট, ভাঙচুর করে মন্ত্রীদের বসতবাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।
প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল। আপদকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর কাছে দেশের দায়িত্ব তুলে দেন তিনি। জনসাধারণকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সন্ধ্যায়ও থামেলের আশপাশের অনেক থানাতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সৌরকুট থানায়। পর্যটক অধ্যুষিত থামেলের নিকটবর্তী এই থানার পুলিশ সকালে জেন-জিদের কাছে আত্মসমর্পণ করে থানা ছেড়ে চলে যান। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ভাঙচুর করে যানবাহনে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশের গাড়ি পুড়ে যায়। লুটপাটের ভয়ে থামেলের সব দোকানপাট বন্ধ করে রাখা হয়। রাতে বিভিন্ন বিপণিবিতান ও আবাসিক হোটেলে আগুন দেয়া হয়। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় থামেলের মুসলিম গলির হোটেলের এলাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
পুরো থামেল এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ঘুটঘুটে অন্ধকার। রীতিমতো এক ভুতুড়ে পরিবেশ। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় খাবার হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তখন মুখোমুখি হলাম এক ভিন্ন বাস্তবতার। কোথাও চা খাওয়ার দোকান পর্যন্ত খোলা নেই। এই সুযোগে আমাদের হোটেলের পাশের গলির আবাসিক ভবনের এক নারী ফ্লাক্সে করে চা নিয়ে রাস্তায় বসেন। তাও শেষ হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে। কোথাও খাবার ব্যবস্থা নেই। খিদায় পেট চুচু করছে। উপায় না পেয়ে আমাদের হোটেলের মালিক তারেক ভাই এগিয়ে আসলেন। তিনি হোটেলের ক্যান্টিনে আমাদের জন্য খাবার ব্যবস্থা করলেন। ডিম ভাজি, আলু ভর্তা, ডাল ভাত। তা দিয়েই সবাই পেট ভরে খেলাম। কয়েক ঘণ্টা পর হোটেলের জেনারেটর বন্ধ হয়ে যায়। শেষ হয়ে যায় হোটেলের পানির রিজার্ভ। বিপাকে পড়েন আমাদের হোটেলের সব পর্যটক। বাথরুমে জরুরি কাজ সারার পানিও নেই। অনেকে বাইরে থেকে পানির বোতল কিনে এনে জরুরি কাজ সারেন। আমরা সবাই অন্ধকারে হোটেলবন্দি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। কারফিউর কারণে হোটেলের গলিতেও বের হওয়ার সুযোগ নেই। কড়া বিধিনিষেধ।
অন্ধকারে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় হোটেলে রাত কাটালাম। পরদিন ১০ই সেপ্টেম্বর। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হলাম। কিন্তু গোসল করার মতো পানি নেই। সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করেন তারেক ভাই। খিচুড়ি ডিম ভাজি। নাস্তা শেষে হোটেলের সামনের গলিতে উঁকি দিতেই চোখে পড়লো নেপালি আর্মির টহল। কাঠমান্ডু শহরের মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে আর্মিদের তল্লাশি চৌকি। লোকজনের ভিড় দেখলেই তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন আর্মিরা। জরুরি যানবাহন ছাড়া সবকিছুর চলাচল বন্ধ। রাস্তায় মানুষজন নেই। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ায় আজ আর রাস্তায় নামেননি বিক্ষোভকারীরা। আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নিয়েছে সেনাবাহিনী। এদিকে ঢাকার চিত্র দেখতে পেলাম নেপালে। ঢাকায় হাসিনা সরকারের পতনের পর ময়লা আবর্জনা বর্জ্য পরিষ্কার করেন ছাত্ররা। ঠিক একইভাবে নেপালি আন্দোলনকারীরাও বেলচা আর ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামেন। আগুনে পোড়া স্তূপ ও বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেন তারা। অনেকে পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন করেন। এদিকে দুপুরে ঢাকা ফেরার ফ্লাইট ছিল আমাদের। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে জানিয়ে দেয়া হয় নেপালের ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট বন্ধ। ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি নেই। আটকা পড়ে গেলাম আমরা সবাই। আমাদের মতো নেপালে আটকা পড়েন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এ খবর বাংলাদেশের মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হয়। বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে ফেরাতে উদ্যোগী হয় সরকার। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় নেপালের আপৎকালীন দায়িত্ব পালনকারী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে। নেপালের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের তরফ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়Ñ বিমানবন্দর চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতি দেয়া হবে। রাতে নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আমাদের জানানো হয়Ñ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে একই ফ্লাইটে আমাদের দেশে ফেরানো হবে। আমাদের সাংবাদিকদের ১৮ জনের পাসপোর্টের কপি নেয়া হয়।
বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আমরা হোটেলে অবস্থান করছি। এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। অন্ধকারে হোটেল রুমে বিরক্তিকর সময় কাটাচ্ছি। রাতেও আসেনি বিদ্যুৎ। রাত ১২টায় আমাদের কাছে খবর পাঠানো হয়- পরদিন সকাল আটটায় এয়ারপোর্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের নিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমান পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে। সেজন্য আমাদের আগেভাগেই বিমানবন্দর যেতে হবে। রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রাখলাম। সকালে উঠার তাড়া থাকায় দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লাম। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। দু’দিন ধরে গোসলবিহীন সবাই। বোতলের কেনা পানি দিয়ে কোনোরকম হাত-মুখ ধুইলাম। তখনো হোটেলে বিদ্যুৎ আসেনি। সবাই রেডি হয়ে হোটেলের লবিতে জড়ো হলাম। ব্রেডের পিস ভাগাভাগি করে খেয়ে সকালের নাস্তা সারলাম। ওদিকে ততক্ষণে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তিনটি জিপ গাড়ি পাঠিয়েছে আমাদের জন্য। সেই গাড়িতে করে বিমানবন্দর যেতে হবে নেপালি আর্মিদের বিশেষ প্রটোকলে। রাতে থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো। বৃষ্টির মধ্যেই কিছুটা পথ হেঁটে মুসলিম গলি পেরিয়ে থামেলের প্রধান সড়কে রাখা দূতাবাসের গাড়িতে উঠলাম সবাই। আধাঘণ্টার মধ্যে ত্রিভুবন বিমানবন্দর পৌঁছালাম। কাঠমান্ডর প্রধান সড়কগুলোতে নেপালি আর্মিরা টহল দিচ্ছিলেন। ওদিকে বিশেষ বাসে করে বাংলাদেশ ফুটবল দল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তখন হাজারো বিদেশি পর্যটক ভিড় করছেন। সবাই নেপালের জেন-জিদের আন্দোলনে আটকা পড়েছিলেন। বাংলাদেশ ফুটবল দলসহ আমাদের ইমিগ্রেশন করে নেয়া হলো দোতলার ভিপিআইপি লাউঞ্জে। সেখানেই আমরা আমাদের বিমানের জন্য অপেক্ষা করছি। তখনো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমান নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম- তখনো ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি মিলেনি। ততক্ষণে দুপুর হয়ে যায়। দূতাবাসের আয়োজনে বিমানবন্দরেই ভিআইপি লাউঞ্জে ফুটবলারদের সঙ্গে বুফেতে লাঞ্চ করলাম। বেলা ১২টায় বিমান আসার কথা থাকলেও সেই বিমান রওনা হয় বেলা দুইটায়। ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর সেই বিমান পৌঁছাতে বেলা তিনটা বেজে যায়। এরপর আমাদের সবাইকে সেই বিমানে উঠানো হয়। বিমানে ঢোকার পর ভেতরের পরিস্থিতি দেখে সবাই থ হয়ে গেলাম। বিমানের ভিতরের বাণিজ্যিক বিমানের মতো সাজসজ্জা নেই। এমনকি বসার মতো সেই সিট নেই। দুই শাড়িতে লম্বা করে বেঞ্চে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসি নেই, লাইটও নেই। দীর্ঘ আধাঘণ্টা পর ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমান ছাড়লো। জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণ, রাকিবরা আমাদের সারিতে বসছেন। আমাদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। আমরা তারকা ফুটবলারদের সঙ্গে সেলফি তুলছি।
মাঝপথে বিমানে আমাদের স্ন্যাকস দিয়ে আপ্যায়ন হয় বিমানবাহিনীর তরফে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিমানটি কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। বাণিজ্যিক বিমান নেপাল থেকে বাংলাদেশে পৌঁছাতে যেখানে এক ঘণ্টার কিছু সময় বেশি লাগে সেখানে ওই বিমান পৌঁছাতে লাগলো দেড় ঘণ্টা। হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আমাদের বিমানটি নিয়ে যাওয়া হয় কুর্মিটোলা গেটে। সেখানে আমাদের সংবর্ধনা দেয়া হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ফুটবলারসহ আমাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। ঢাকার গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতার পর নেপালের জেন-জিদের অভ্যুত্থানের টাটকা স্মৃতি নিয়ে অবশেষে সহিসালামতে ঢাকায় পৌঁছিলাম। 

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন