রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক হুমকি

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভিন্নমত

রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক হুমকি

ফন্ট সাইজ:

রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক হুমকি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন উপস্থাপন করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড। বুধবার মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে গ্যাবার্ড বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান নতুন, উন্নত বা প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বাহক ব্যবস্থা (মিসাইল ডেলিভারি সিস্টেম) নিয়ে গবেষণা ও তার উন্নয়ন করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক বা প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে আঘাতের পাল্লায় আনতে সক্ষম। গ্যাবার্ড আরও বলেন, চীন ও রাশিয়া এমন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করছে যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে বা তা পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারে এবং দেশটি তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গোয়েন্দা প্রধান আরও উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করছে। তার মতে, এই পরিবর্তিত কৌশলগত সমীকরণ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান প্রসঙ্গে তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে এমন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রও থাকতে পারে যার পাল্লা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।
গ্যাবার্ড আরও বলেন, আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও স্থায়ী হুমকি। এই দুটি গোষ্ঠী আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও বিপজ্জনক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে যেখানে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার, সেখানে ২০৩৫ সালে তা বেড়ে ১৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে গ্যাবার্ডের বিরোধ
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে গ্যাবার্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ার পর দেশটি আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা করেনি। গ্যাবার্ড বলেন, অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের ফলে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এরপর থেকে তা পুনর্গঠনের কোনো প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। শুনানির আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে জানান যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্যাবার্ডের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। গ্যাবার্ডের এই সাক্ষ্য এমন সময় এলো যখন ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জোসেফ কেন্ট ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টার-এর পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন