সংবিধান সংস্কার পরিষদ: জমছে সংকটের মেঘ

সহযোগীদের খবর

সংবিধান সংস্কার পরিষদ: জমছে সংকটের মেঘ

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ: জমছে সংকটের মেঘ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি। ক্ষমতাসীনদের এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে। বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, ঈদের পরে এ বিষয়ে সোচ্চার হবেন তাঁরা, প্রয়োজনে নামবেন রাজপথে।

সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট শরিকেরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা এই শপথ নেননি।

সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের মতো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে বলা থাকলেও রাষ্ট্রপতি শুধু সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এ নিয়ে সংসদে বিতর্কে জড়িয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান না করা হলে কী হবে, সে বিষয়ে জুলাই সনদে কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে বলে মনে করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তাঁরা মনে করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া সংসদের কোনো মূল্য নেই। তাই এই পরিষদের দাবিতে ঈদের পর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে। দলগুলো বাধ্য হবে রাস্তায় আন্দোলন করতে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগেই বলেছেন, ‘বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একটি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে তারা বিরত থেকেছে। আমরা মনে করি, এটি সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা।’

এনসিপির একজন নেতা জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাজপথে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈদের পরে আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

এদিকে সংস্কার পরিষদ নিয়ে সরকারকে চাপে রাখতে জামায়াত কোন পদ্ধতিতে এগোবে, দলের মধ্যে সেই আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংস্কার পরিষদ গঠনে সরকারকে কীভাবে চাপে রাখা হবে, তা রোজার ঈদের পরে ঠিক করা হবে। এখন দলের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সবাইকে জানানো হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। এই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তার আগের দিন আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।

জামায়াতের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলনের প্রাথমিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা আলাপ করছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। সংবিধানে এ ধরনের কোনো কাঠামোর উল্লেখ না থাকায় এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী নন তাঁরা। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিরোধী দলের দাবিকেও খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না তারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, একান্ত বাধ্য না হলে কিংবা সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা না হলে এ ধরনের উদ্যোগে বিএনপি যুক্ত হবে না। ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিতর্কের সূচনা করেন বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান। ওই দিন তিনি বলেন, সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সমাধান না হলে তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল অসাংবিধানিকভাবে সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছে। রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, সুনির্দিষ্ট আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে ‘সংস্কার পরিষদের’ অস্তিত্ব না থাকায় রাষ্ট্রপতি অধিবেশন ডাকতে পারেন না। বিরোধী দলের নেতাকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এর বেশি কিছু এখন বলার নেই। তবে এটা নিয়ে বিরোধী দল রাজপথে নামলে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে।’

গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পার্লামেন্টে আলোচনার আগেই রাস্তার হুমকি দিতে থাকলে...সেটা যে কারণে আমরা পার্লামেন্ট তৈরি করলাম, সেটাকে কাজ করার অতটা সঠিক বলে আমি মনে করি না। স্টিল টাইম। অনেক সময় আছে, এটা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই; পার্লামেন্ট সবে শুরু হলো।’

প্রথম আলো

‘ইরানকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মিত্রদেশগুলোকে পাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও শুরু করা যাচ্ছে না। বাড়ছে তেল–গ্যাসের দাম। ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা–নাগরিকেরা। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে এ পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যা করতে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

পরপর দুই রাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ অন্তত তিনজন নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার ইরানের গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে হত্যার কথা জানায় ইসরায়েল। পরে তেহরানের পক্ষ থেকেও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হত্যার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন অবস্থানে হামলা জোরদার করেছে ইরান। গতকাল ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত কয়েক দিনের মধ্যে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি উড়োহাজাজে আগুন ধরে যায় বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় সেখানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল ইরান থেকে ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। কূটনীতিকপাড়া লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। কুয়েত ও কাতার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে বাহরাইনেও। ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের কাছেও ইরানের ড্রোন আঘাত হেনেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ইরান ও এর সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর একের পর এক হামলা ওয়াশিংটনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কূটনৈতিক দপ্তরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।

ইরান দুর্বল হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার শুরুর দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে। ওই দিনের হামলায় ইরানের ৪৮ জন নেতৃস্থানীয় বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে পরবর্তী সময়ে দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আগের রাতে হামলা চালিয়ে ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে হত্যার কথা জানান। কাৎজ আরও বলেন, তিনি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীকে যেকোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যার অনুমতি দিয়েছেন।

ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইসমাইল খতিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানে এখন পর্যন্ত ‘কয়েক ডজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার’ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী একে তাদের ‘ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তা: চুরি ছিনতাই ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ’। খবরে বলা হয়, রাজধানীর ডেমরার মুসলিমনগরের বাসিন্দা আসিফ গত বছর ঈদুল আজহায় স্ত্রী, বাবা-মাকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে যান। ১০ জুন রাতে বাসায় ফিরে দেখেন ড্রয়িং রুমের মেঝেতে জামাকাপড় এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। আলমারি ভাঙা। প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নেই। পরে দেখেন শয়নকক্ষের জানালার একটি গ্রিল কাটা।

গত বছরের ১৫ জুন ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে ঢাকায় ফিরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন মুজাহিদুল ইসলাম নামে এক দোকান কর্মচারী। ভোরে রিকশায় চকবাজারের বাসায় যাওয়ার পথে মতিঝিল এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জুলাই ভোরে ঈদের ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি শেরপুর থেকে ঢাকার ফার্মগেট পৌঁছে ছিনতাইকারীর আঘাতে মারা যান পুলিশের কনস্টেবল মনিরুজ্জামান। প্রতি ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে এমন অসংখ্য অপরাধ সংঘটিত হয়। এ সময় নাড়ির টানে গ্রামে যায় রাজধানীবাসীর একটি বড় অংশ। ফলে ঈদের আগে-পরে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় রাজধানী। আর সেই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে ওঠে পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোররা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘটে ছিনতাই, দুর্ধর্ষ চুরি-ডাকাতি। ফলে ঈদে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যারা যান, তাদের চিন্তার বিষয় হয় বাসার চুরি-ডাকাতি নিয়ে। রাজধানীতে চুরি-ছিনতাই-দস্যুতার মামলার পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) তেজগাঁও, মতিঝিল, উত্তরা, রমনা বিভাগ বেশি অপরাধপ্রবণ।

ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটটি বিভাগে ১ হাজার ৫৯১টি চুরির মামলা হয়েছে। একই সময়ে ৫৭৬টি ছিনতাই ও দস্যুতার মামলা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির ৫৩টি ও খুনের ৪৩৯ মামলা হয়েছে। অপরাধের এ পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, এ সময় তেজগাঁও বিভাগে ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাই ও দস্যুতার মামলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মতিঝিল বিভাগ। আর চুরির ঘটনায় সর্বোচ্চ মামলা হয়েছে মতিঝিল বিভাগে। চুরির মামলার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে উত্তরা বিভাগ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রমনা বিভাগ।

তবে অপরাধ আরও বেশি সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। ছিনতাইয়ের শিকার একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব হারালেও তারা শুধু মোবাইল হারানোর জিডি করেছেন। কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নিজেই মামলা করতে চাননি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ ছিনতাইয়ের মামলা না নিয়ে হারানোর জিডি নিয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র বলছে, রাজধানীতে ৯৭২ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় আছে। তারা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে ফের অপরাধে জড়ায়। ফলে এদের প্রতিহত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে ও পরে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ক্রাইম জোন চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা। পুলিশের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে, ঈদুল ফিতরে ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে রেখে যেতে। ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকলে প্রয়োজনে এসব মূল্যবান জিনিস নিকটস্থ থানায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফাঁকা ঢাকায় চুরি, ছিনতাই ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে পুলিশের টহল কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট, টহল, ফুট প্যাট্রোল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কালের কণ্ঠ

‘দল পুনর্গঠনে জোর বিএনপির’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তবে নির্বাচন-পরবর্তী মাঠের রাজনীতিতে দলটিতে কিছুটা ‘স্থবিরতা’ দেখা দিয়েছে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের বেশির ভাগই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকে দলের প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

আবার অনেক নেতাকে করা হয়েছে প্রশাসক। ফলে মাঠের রাজনীতিতে এক ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। আবার রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় দলের নেতাকর্মীদের অনেকে ঝিমিয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের অনেকে বলেছেন, ঈদের ছুটিতে দলের নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে।

দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, নির্বাচনী ধকল কাটিয়ে উঠতে একটু সময় লাগছে। তবে শিগগিরই দলের পুনর্গঠনকাজ শুরু হবে। সাংগঠনিক গতিশীলতা আনতে দলের কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে হাইকমান্ড। শিগগিরই এই পরিকল্পনা দৃশ্যমান হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি নেতারা জানান, দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বে রয়েছে স্থবিরতা। ফলে সংগঠনগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আনার জোর দাবি রয়েছে। দলের হাইকমান্ডও এই বিষয়ে অবগত আছেন। ঈদের পর পুনর্গঠনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।

এ ছাড়া শিগগিরই দলের জাতীয় কাউন্সিলও অনুষ্ঠিত হবে। আরেকটি সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর দলের প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণগুলোর নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব সংগঠনের কমিটির মেয়াদ আছে, সেগুলোর নেতৃত্ব ও কমিটিতে পরিবর্তন আনা হবে। এরপর জেলা, মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। এবার দলের জাতীয় কাউন্সিল হবে খুবই জাঁকজমকপূর্ণ। নিশ্চয়ই এই পরিকল্পনা মাথায় নিয়েই এগোচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান।’

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাত্র তো নির্বাচন শেষ হলো। আমাদের যেটা নির্দেশনা আছে, আমরা যেহেতু জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছি, সেহেতু নিজ নিজ এলাকায় আমাদের যাঁরা নেতাকর্মী রয়েছেন, তাঁরা যেন সাধারণ জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এলাকার যেসব সমস্যা, সেগুলো লোকাল এমপি বা প্রতিনিধিদের জানানো এবং সমস্যার সমাধান করা। এভাবেই একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

তিনি বলেন, ‘দল পুনর্গঠন করা হচ্ছে সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আমাদের পার্টির হাইকমান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার চেষ্টা রপ্তানিকারকদের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখায় বিকল্প উপায়ের সন্ধান করছে তেল রপ্তানিকারক দেশ। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ পাইপলাইনের মাধ্যমে রপ্তানি শুরু করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ পড়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৮৭শতাংশ পর্যন্ত।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, এই বিকল্প রুটগুলো দিয়ে রপ্তানির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত তাদের 'ইস্ট-ওয়েস্ট' পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সরবরাহ বাড়াচ্ছে। আইইএর মার্চ মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাইপলাইন দিয়ে তেলপ্রবাহ ২০২৫ সালের দৈনিক গড় ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেড়ে ৯ মার্চ রেকর্ড ৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছায়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি পূর্ণসক্ষমতা, অর্থাৎ দৈনিক সাত মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়াচ্ছে। পাইপলাইনটি ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে যুক্ত। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে এই লাইনে দৈনিক গড় তেলপ্রবাহ পৌঁছায় ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেলে, যা সংকটের আগের এক মিলিয়ন ব্যারেলের তুলনায় অনেক বেশি এবং বর্তমানে এটি সর্বোচ্চ সক্ষমতায় আছে।

ইত্তেফাক

‘লারিজানি, বাসিজ প্রধানের পর ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীও নিহত’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইসরাইলের হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, এটা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘অর্জন’। তিনি বলেছেন, ইরানের বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান আরো জোরদার হবে এবং সামনে ‘গুরুত্বপূর্ণ চমক’ অপেক্ষা করছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বিশ্ব জুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং এর নেতৃত্বে খাতিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।

এর আগে একই ধারাবাহিকতায় শক্তিশালী হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি এবং বেসামরিক সংস্থা বাসিজ বাহিনীর প্রধান সোলাইমানি নিহত হন। ইসরাইলি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সোলেইমানি একটি গোপন স্থানে অবস্থান করার সময় হামলার শিকার হন। এসব লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি আঘাত করা হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরা হচ্ছে।

পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গোয়েন্দামন্ত্রীর নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। তেহরানে লারিজানি ও অন্যান্য নিহত কর্মকর্তাদের জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেয়, যেখানে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাশিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এর কঠোর নিন্দা জানায় মস্কো।

অন্যদিকে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত, প্রতিরোধমূলক প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নিহতদের রক্ত বৃথা যাবে না। ইতিমধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইন একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে ইরান। বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা দেখা গেছে, যা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তারকে স্পষ্ট করছে।

এদিকে ইরান সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল শোধনাগার, গ্যাসক্ষেত্র ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে নিজেদের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার শিকার হওয়ার পরই তেহরান এই সতর্কবার্তা দেয়। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ফলে সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সংসদ ও মাঠের রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে ঈদের পর’। খবরে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে জাতীয় সংসদ ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারো উত্তপ্ত হতে পারে। সদ্য যাত্রা শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা এবং রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশের আইনি বৈধতা প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখন ক্রমেই তীব্র আকার হচ্ছে। ঈদের আগে সংসদে উত্থাপিত এসব ইস্যু ছুটির পর আরো বিস্তৃত পরিসরে আলোচনায় আসবে- এমন আভাস মিলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এক দিকে সরকার সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে অগ্রসর হওয়ার কথা বলে অনড় অবস্থানে, অন্য দিকে বিরোধী দল গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে সংসদ ও রাজপথ- উভয় ক্ষেত্রেই মুখোমুখি অবস্থান ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন মুলতবি থাকলেও সংসদে উত্থাপিত ইস্যুগুলো এখন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রশ্নগুলো ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ ফের সংসদ বসবে। ওই অধিবেশনে এই বিতর্ক আরো তীব্র হয়ে উঠবে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সনদ বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে যেমন চাপ সৃষ্টি করবেন, তেমনি রাজপথের আন্দোলনেও দেখা যেতে পারে। ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোট ঈদের পরে সংসদের বাইরেও কর্মসূচি দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতি অবহেলার শামিল।

তিনি সংসদে উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো অধিবেশন ডাকা হয়নি। তার ভাষায়, এটি কেবল প্রশাসনিক বিলম্ব নয়, বরং জনগণের রায়ের প্রতি উপেক্ষা।

বণিক বার্তা

‘দাম বাড়ছে কয়লার, খরচ বাড়বে বিদ্যুৎ কেন্দ্রেরও’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধির পর কয়লার দামও বাড়তে শুরু করেছে।

বতর্মানে ইন্দোনেশিয়ান কোল ইনডেক্স অনুযায়ী, টনপ্রতি কয়লার দাম ৭৩ ডলারের কাছাকাছি, যা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ছিল ৬৭ ডলার। অর্থাৎ গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এ কয়লার প্রায় ৯ শতাংশ দাম বেড়েছে। পাশাপাশি জাহাজের ফ্রেইট বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী জাহাজের প্রিমিয়াম চার্জও। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২৬ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে মূলত আমদানিনির্ভর জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে এ বড় সক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি কয়লার ব্যবহার বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য বেশির ভাগই কয়লা আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। বর্তমানে দেশে চলমান আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য ৫ হাজার কিলোক্যালরি মানের কয়লা ব্যবহার হয়। এ কয়লার দাম ইন্দোনেশিয়ার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, টনপ্রতি ৭২ ডলার (আইসিআই-৩ অনুসারে জিএআর ৫ হাজার কিলোক্যালরি মান), যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল টনপ্রতি ৬৭ ডলার। আর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর আগে ইন্দোনেশিয়ার একই মানের কয়লার দাম ছিল ৬৭ দশমিক ৬০ ডলার। দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রাইস ইনডেক্স নিম্নমুখী থাকলেও গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তা বাড়তে শুরু করেছে। মূলত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ভাড়া বৃদ্ধি ও প্রিমিয়াম চার্জ বেড়ে যাওয়ায় এ কয়লা দেশে আনতে টনপ্রতি ব্যয় ৯০-৯৫ ডলারের কাছাকাছি পড়ছে।

অন্যদিকে, ফিউচার মার্কেটে অস্ট্রেলিয়ার নিউ ক্যাসল প্রাইস ইনডেক্সে কয়লার দাম বেড়েছে টনপ্রতি ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল প্রাইস অনুযায়ী, কয়লার টনপ্রতি মূল্য ছিল ১০৯ ডলার, সেখানে গতকাল এ দাম ১৩১ ডলার ৭৫ সেন্টে স্থিত হয়। অর্থাৎ গত দেড় মাসের ব্যবধানে টনপ্রতি এ কয়লার দাম বেড়েছে ২২ ডলার।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৭ হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট, যা মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ২৭ শতাংশ। দেশে গ্যাস, কয়লা, জ্বালানি তেল ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মোট সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ ব্যয় হচ্ছে ইউনিটপ্রতি গড়ে সাড়ে ১১ টাকার মতো। সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট কয়লা মজুদ রয়েছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার টন। যার মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য স্থানীয় খনির মজুদ ১ লাখ ১৬ হাজার টন।

দেশে বর্তমানে দৈনিক সাড়ে ১২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। ভারতের আদানিসহ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সরবরাহ ধরলে গড়ে তা প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি হয়। দেশে এলএনজি ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপরে চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সামনের দিনে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো কীভাবে চালু রাখা যায় তা নিয়েও বিপিডিবির পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিপিডিবির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোর কয়লা মজুদের নির্দেশনাও দেয়া হয়। এখনো সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো জটিলতা দেখা যাচ্ছে না। তবে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় কয়লার দাম বাড়তে থাকলে তা বিদ্যুতের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তবুও নাড়ির টানে ফেরা’। খবরে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের টানা ছুটির শুরুর দিকে, কিছু ব্যতিক্রম বাদে, ঈদযাত্রা ছিল মোটামুটি স্বস্তির। গত কয়েক দিনের চাইতে গতকাল যাত্রী ও পরিবহন দুইয়েরই চাপ দেখা গেছে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোয়। ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে ট্রেন ও লঞ্চ দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বগুড়ার শান্তাহারে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি বেশি আহত হয়েছেন। ফলে উত্তরবঙ্গের একাংশের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে, কমলাপুর থেকে অন্য অঞ্চলের ট্রেনের শিডিউলে বিপর্যয় ঘটেনি। তবুও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ।

রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রায় গতকাল বুধবার সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের বেশি এবং ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চান্দিনায় মাধাইয়া এলাকায় দুর্ঘটনার জেরে যানজট ও দুর্ভোগের খবর পাওয়া গেছে। বিকেলে গাজীপুরের কয়েকশ গার্মেন্ট কারখানা ছুটি হওয়ায় যানজটের তীব্রতাও বাড়ে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া এলাকায় টার্মিনাল ও বাস কাউন্টারগুলোয় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ ছিল লক্ষ্যণীয়। গন্তব্যে যেতে নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ছিল অহরহ। অতিরিক্ত খরচ এড়াতে নিম্ন আয়ের মানুষদের পিকআপ, ট্রাক, গ্যাসচালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশ ও বাহির দ্বার বলে খ্যাত আন্তঃজেলা পরিবহন কেন্দ্র গাবতলী বাস টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রীদের উপস্থিতিতে মুখর ছিল পুরো টার্মিনাল এলাকা। কেউ টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। আবার টিকিট পেতে অনেককেই ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, খুলনা ও বরিশাল রুটের যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে গাবতলীতে। গতকাল এ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদযাত্রায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন