রাত পোহালেই জাতীয় নির্বাচন; এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) বড় পরিবর্তন আসে। অনেক পরিচালকই তখন দেশ ছাড়েন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। তবে তিনিও খুব বেশি দিন টিকতে পারেননি। এরপর বিসিবি’র হাল ধরেন জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার অধীনেই পরবর্তীতে বিসিবি নির্বাচন আয়োজিত হয় এবং তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে সেই নির্বাচন শুরু থেকেই ক্লাব ও ক্রিকেট সংগঠকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে, যা থেকে বোর্ডে অস্থিরতা এখনও বিদ্যমান। বর্তমানে দেশে আরেকটি সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিসিবিতেও পরিবর্তনের গুঞ্জন বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে ক্লাব সংগঠকদের একটি বড় অংশ। বিশেষ করে ৪৫টি ক্লাব বুলবুলের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডকে ‘অবৈধ’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। ফলে মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে এখন আইনি লড়াই আর রাজনৈতিক সমীকরণই বিসিবি’র মূল আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমান বোর্ডেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেন, ‘দেশের আইন সবার জন্য সমান। তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোলে আমরাও একই পথে হাঁটবো; আদালত নিশ্চয়ই সবার কথা শুনবেন।’ বিসিবি’র বর্তমান এই সংকটকে আরও উসকে দিয়েছেন সাবেক পরিচালক ও প্রভাবশালী ক্লাব সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু। তিনি সরাসরি বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বাবু বলেন, ‘গত ৬ই অক্টোবর যে নির্বাচন হয়েছে, তা মূলত একটি হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ প্রক্রিয়া। এ নিয়ে আদালতে মামলা করা আছে। আশা করছি, নির্বাচনের পর যে সরকার আসবে, আমরা তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবো এবং ন্যায়বিচার পাবো। এই বোর্ড যে অবৈধ প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে, তা আইসিসি থেকে শুরু করে দেশের সবাই জানে। সুতরাং এই বোর্ড সম্পূর্ণ অবৈধ।’ বাবুর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচনের পরপরই বিসিবি’র বর্তমান কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পুনরায় আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাব সংগঠকদের এই জোট। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব বিসিবি’র প্রশাসনিক কাঠামোতেও প্রতিফলিত হবে।
অন্যদিকে, বোর্ডের বর্তমান পরিচালক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই আইনি হুমকি বা পরিবর্তনের গুঞ্জনকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বর্তমান পরিচালক মোকসেদুল কামাল বাবু মনে করেন, একটি নির্বাচিত বোর্ড নিয়ে এখনই সংশয় প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, বোর্ডের প্রধান কাজ হওয়া উচিত ক্রিকেটের উন্নয়ন, রাজনৈতিক সমীকরণ নয়। বাবু বলেন, ‘এসব নিয়ে আমরা মোটেও ভাবছি না। এটি একটি নির্বাচিত বোর্ড, তাই এখন অন্য কিছু চিন্তা করার সুযোগ নেই। বিসিবি’র মূল কাজ হচ্ছে ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করা। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’ অর্থাৎ, বর্তমান বোর্ড তাদের রুটিন কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর এবং কোনো ধরনের আইনি বা মানসিক চাপে বিচলিত হতে নারাজ। তবে পর্দার আড়ালে যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা বিসিবি’র অন্যান্য পরিচালকদের বক্তব্যে স্পষ্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচালক জানিয়েছেন, তারাও পাল্টা আইনি লড়াইয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। একদিকে ক্লাব সংগঠকদের বড় অংশ বর্তমান নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করে আইনি পথে হাঁটার ঘোষণা দিচ্ছে, অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের প্রশাসনিক পরিবর্তনের হাওয়া বিসিবিকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জাতীয় নির্বাচনের পর কি আবারো পরিবর্তন বিসিবিতে?
ইশতিয়াক পারভেজ
১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Mustaque Chowdhury
৩ মাস আগেকোন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ক্রিকেট বোর্ড এ আসতে পারবেন না।সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ লোক রাই আসবে। এমন ক্রিকেট এর জন্য কড়া বিধিনিষেধ করা উচিত।