ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা

বগুড়ায় লাইনচ্যুত নীলসাগর আহত অর্ধশতাধিক

ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা

ফন্ট সাইজ:

বগুড়ার সান্তাহার এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দিনাজপুরের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ঢাকা-রংপুর-লালমনিরহাট লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার দুপুরের ওই দুর্ঘটনায় ট্রেনের নয়টি বগি লাইন
থেকে ছিটকে পড়েছে। এতে শত শত যাত্রী আহত হয়েছে। দুপুর ২টা ৪ মিনিটের দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশন ছেড়ে আক্কেলপুরের দিকে রওনা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে এবং ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে বহু যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

দুর্ঘটনার শিকার নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে সান্তাহার স্টেশনে তার সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষ করে দিনাজপুরের অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। সান্তাহার ও আক্কেলপুর স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ আর মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনটির ৯টি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে ধুলো আর মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রেনের ভেতর থাকা যাত্রীরা যেমন আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়েন তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন ট্রেনের ছাদে থাকা অতিরিক্ত যাত্রীরা। এসব যাত্রীদের বেশির ভাগ মানুষ অভাব আর নিরুপায় জীবনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

স্থানীয় মানুষজন প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা মনে করেছেন এই দুর্ঘটনার কারণ এই অঞ্চলের রেললাইনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই পঙ্গু অবস্থায় পড়ে আছে এবং সংস্কারের নামে যেটুকু কাজ হয় তাকে নাটকীয়ভাবে ‘নামকাওয়াস্তে’। বছরের পর বছর ধরে এই রুটের রেললাইনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি বরং তালি দেয়া সংস্কারের মাধ্যমে ট্রেনগুলোকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে প্রতিনিয়ত। নীলসাগর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি রেলের সেই দুর্বল ব্যবস্থাপনারই অনিবার্য পরিণতি বলেও মনে করেছেন অনেকে।
দুর্ঘটনার পরপরই সান্তাহার ও জয়পুরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে অসংখ্য যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন আটকা পড়ে যা উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম ভোগান্তির আবর্তে ফেলে দিয়েছে এবং দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে থাকা সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে এখন কেবলই উদ্বেগ আর এক অজানা অনিশ্চয়তার ছাপ। সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান এবং বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজুর দেয়া তথ্য মতে উদ্ধার কাজ চললেও দিনাজপুর রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

ট্রেন দুর্ঘটনায় দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বগুড়ার সান্তাহারে দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে কথা বলেন তিনি। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি দ্রুত উদ্ধার এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌছানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সেখানকার পরিস্থিতি জানতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর, দুর্ঘটনায় আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন দ্রুত উদ্ধার, যোগাযোগ পুনরায় সচল এবং যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান আতিকুর রহমান রুমন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন