ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (সিপিএল) সময়টা যেন স্বপ্নের মতো কাটছে মেহেদী হাসান মিরাজের। অভিষেকে ৩ উইকেট নেয়ার পর এবার ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে চার ওভারের স্পেলে ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয়ের নায়ক হয়েছেন এই টাইগার স্পিনার। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি অধিনায়ক ইমরান তাহিরের সঙ্গে আইকনিক ‘নাগিন ড্যান্স’ উদযাপন ফিরিয়ে এনে পুরো আলো নিজের করে নিয়েছেন মিরাজ।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে ত্রিনবাগো। চতুর্থ ওভারে ৩৮ রান তুলে ফেলার পর মিরাজকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক তাহির। নিজের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই কলিন মানরোকে (২৬) বোল্ড করে ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। পরের বলেই বিধ্বংসী ব্যাটার নিকোলাস পুরানকে লেংথ ও ফ্লাইটের কৌশলে বোকা বানিয়ে শূন্য রানে বোল্ড করেন এই বাংলাদেশি তারকা। প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাতে প্রতিপক্ষের রান প্রবাহ পুরোপুরি থামিয়ে দেন তিনি।
পরের দুই ওভারে তুলে নেন জাইড গুলি ও সুনীল নারাইনের মতো টি-টোয়েন্টির বড় নামদের। মজার বিষয় হলো, মিরাজের চারটি শিকারই হয়েছে বোল্ড। মন্থর উইকেটে গতি ও লেংথের নিখুঁত বৈচিত্র্য ধরে রেখে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ছয়েরও কম। ১৭৮ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার এবং দেশের বাইরে প্রথমবার ৪ উইকেট শিকারের গৌরব অর্জন করলেন তিনি। তার সঙ্গে শামার জোসেফ দুটি ও তাহির একটি উইকেট নিলে ১২৬ রানেই গুটিয়ে যায় নাইট রাইডার্স।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য খুব একটা দাপট দেখাতে পারেনি গায়ানা। বল হাতে দারুণ করা মিরাজ চার নম্বরে নেমে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি, ১৪ বলে মাত্র ২ রান করে আউট হন। তবে অধিনায়ক শাই হোপের ৩৫ বলে ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় গায়ানা। ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়ে মিরাজ জানান, স্পিন সহায়ক উইকেটে নিখুঁত জায়গায় স্টাম্প লক্ষ্য করে বোলিং করার কারণেই সাফল্য পেয়েছেন।
মোহাম্মদ নবী জাতীয় দলের দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা মিরাজ তার অলরাউন্ড উপস্থিতিতে ভুলিয়ে দিয়েছেন। ৯ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করা গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স ইতোমধ্যেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে।
