মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ভালো নেই লেবানন। দেশটিতে মুহুর্মুহু হামলা চলছে। জীবন বাঁচাতে আশ্রয়স্থল ছেড়ে বৈরুতে আসছেন বাংলাদেশিরা। চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন তারা। প্রায় হাজারখানেক বাংলাদেশি বাসস্থান ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন বৈরুতে। তারা এখন বাস্তুহারা জীবন যাপন করছেন। যার মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর ঠাঁই হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে।
লেবাননের বৈরুত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মানবজমিনকে জানান জাকির হোসেন। তিনি বলেন, লেবাননে আজ বুধবার বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। নাবাতিয়ে, আঞ্জারের দিকে হামলা হয়েছে। তেলের পাম্প, সড়কগুলোতে হামলা হচ্ছে। মঙ্গলবারও অনেক হামলা হয়েছে। এর আগে গত ৩৬ ঘণ্টায় কোনো হামলাই হয় নাই। আমার জানামতে, এখনো কোনো বাংলাদেশি আহত হন নাই। আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক গ্রুপ আছে। সেখানে হামলা যখন হয়, তখন আমরা যে যেভাবে পারি সতর্ক করে দেই। যেসব এলাকায় হামলা হচ্ছে, সেসব এলাকার মানুষ বৈরুতে চলে আসছেন।
তিনি বলেন, বৈরুতের মানুষজন কর্মস্থলে যেতে পারছেন। কিন্তু নাবাতিয়ে, সুর, আঞ্জার এসব শহর থেকে লোকজন বেশি বৈরুতে আসছে। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছে। যারা কাজ থেকে চলে আসছেন, তারা অনেকেই বেতন ছাড়াই চলে আসছে। অনেকেই এখন বেকার অবস্থায় আছেন। লেবাননে প্রথম হামলা হয় গত ৫ তারিখে। যার কারণে অনেকেরই বেতন না নিয়েই চলে আসতে হয়েছে। বাংলাদেশিরা এখন পর্যন্ত ভালোই আছেন। মানবিক সংগঠনগুলো খাবারের ব্যবস্থা করছে। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাও দিয়ে আসছেন। তারা নিয়মিত খোঁজখবরও রাখছেন। আমাদের নিজেদের একটা সংগঠন আছে ‘মানবসেবা ফাউন্ডেশন’। এর মাধ্যমেও সাহায্য করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের। বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের সহযোগিতা করছে। আমরাও দূতাবাসকে সহযোগিতা করছি।
তিনি বলেন, অনেকেই ঈদের ছুটিতে যেতে পারেননি। আবার অনেকে টিকিট কেটেও রেখেছেন। আবার অনেকেই ছুটি শেষে আসতে পারছেন না। এখন অবশ্য দু’টি তুর্কি ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স চলছে। তবে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে টিকিট।
এই প্রবাসী বলেন, লেবাননে ৭০ থেকে ৮০ হাজার বাংলাদেশি থাকেন। লেবাননে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বৈরুতের বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২০০ থেকে ৩০০ বাংলাদেশি আশ্রয় নিয়েছেন। সবমিলিয়ে হাজারখানেক বাংলাদেশি বাসস্থান ছেড়ে চলে এসেছেন।
