রূপকথা লেখে যাত্রা থামলো বোডো/গ্লিমটের

ফন্ট সাইজ:

নরওয়ের আর্কটিক সার্কেলের কোল থেকে উঠে আসা এক অখ্যাত ক্লাবের ইউরোপিয়ান মঞ্চ কাঁপিয়ে দেয়ার গল্প যেন রূপকথাকেও হার মানায়। ইউরোপের ফুটবলে টাকার ঝনঝনানি ও বড় ক্লাবগুলোর দাপট যখন তুঙ্গে, তখন নরওয়ের ছোট্ট এক শহর থেকে এসে বিশ্ব ফুটবলকে চোখ কপালে তুলতে বাধ্য করলো বোডো/গ্লিমট। স্রেফ ৫ কোটি ৭০ লাখ ইউরোর একটি দল নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগে তারা রুখে দেয় ম্যানচেস্টার সিটি, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মতো কোটি কোটি ইউরোর স্কোয়াডকে। ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে অভিষেক মৌসুমে অবশেষে শেষ ষোলোতে থামলো এই অবিশ্বাস্য যাত্রা। বোডো/গ্লিম্‌েটর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি তাদের ঘরের মাঠ আস্পমিরা স্তাদিয়ন।

সুমেরু অঞ্চলের হাড় হিম করা শীত, তুষারপাত ও কৃত্রিম ঘাসের মাঠে খেলতে এসে খেই হারায় বাঘা বাঘা সব দল। এর আগে জোসে মরিনহোর রোমাকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করা দলটি এবারও ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান ও স্পোর্টিং সিপিকে (৩-০) হারায়। তবে পর্তুগিজ ক্লাবটির মাঠে গিয়ে আর পারেনি তারা। দ্বিতীয় লেগে ৫-০ গোলের জয়ে দুর্দান্ত এক কামব্যাকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে সিপি।
২০১১-১২ মৌসুমে সাইপ্রাসের অ্যাপোয়েল বা ২০১২-১৩ মৌসুমে মালাগার রূপকথার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে বোডো/গ্লিমটের এই যাত্রাকে। তবে নইওয়েজিয়ান ক্লাবটির সাফল্য একটু অধিক বিস্ময়কর। কেননা, তাদের পুরো শহরের জনসংখ্যাও (২০২৬র শুরুর দিকের হিসেবে ৫৩ হাজার) ম্যান সিটির ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে (৫৫ হাজার+) এঁটে যাবে! মাত্র ৮,৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম নিয়ে তারা চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়। শেষ পর্যন্ত এই পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়ে প্রায় ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করলো ক্লাবটি। সিপির বিপক্ষে ছিটকে গিয়ে বোডো/গ্লিম্‌ট কোচ জেটিন নুটসেন হতাশা প্রকাশ করলেও শিষ্যদের প্রতি গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আজকের রাতটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার। লিসবনে এই পরিবেশে খেলা কঠিন ছিলো। তবে হারের ব্যবধান যাই হোক না কেন, আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। তারা পুরো টুর্নামেন্টে যে সাহস দেখিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। আমরা প্রমাণ করেছি যে, একটি ছোট শহর থেকেও ইউরোপের বড় দলগুলোর চোখে চোখ রেখে লড়াই করা সম্ভব।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন