টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বোধহয় সেরা ম্যাচের সাক্ষী হলো নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সমর্থকরা। আফগানিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ছিল প্রত্যেক ওভারে নতুন টুইস্ট, যেন থ্রিলার সিনেমার ক্লাইম্যাক্স! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেখা গেল ডাবল সুপার ওভারের মহানাটক। ম্যাচ টাই হওয়ার পর প্রথম সুপার ওভারেও ফল নিষ্পত্তি হয়নি, টাই হয়। দ্বিতীয় সুপার ওভারে গিয়েও লড়াই জমে ওঠে। শেষ বলে আফগানদের হৃদয় ভেঙে রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা। টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি কক ৪১ বলে ৫৯ এবং রায়ান রিকেলটন ২৮ বলে ৬১ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই তিন ও রশিদ খান নেন দুই উইকেট। রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন আফগান ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ৭ ছক্কার মার। ম্যাচের এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিলো আফগানরা সহজেই জিতে যাবে। কিন্তু প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিডির তোপে অল্প বিরতিতে তিন উইকেট হারায় তারা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। নো আর ওয়াইডে কোনো বৈধ ডেলিভারির আগেই দুই রান খরচ করে ফেলেন প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা। এরপর দ্বিতীয় বৈধ ডেলিভারিতে ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ ৪ বলে ৫ রানে নামিয়ে আনেন নূর আহমেদ। চতুর্থ বলে আবার নো বল আর সঙ্গে দৌড়ে দুই রান নেন নূর ও ফজল হক ফারুকি। জয়ের জন্য ৩ বলে তখন মাত্র ২ রান দরকার। তবে চতুর্থ বলে ডাবল নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন ফারুকি। ১৮৭ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। প্রথম সুপার ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তান তোলে ১৭ রান। জবাবে ডেভিড মিলার ও ত্রিস্তান স্টাবসও ঠিক ১৭ রানই করেন। ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। এবার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রোটিয়ারা তাণ্ডব চালায়। ডেভিড মিলারের ১৬ এবং স্টাবসের ৭ রানে ভর করে ২৩ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। গুরবাজ ৩টি ছক্কা হাঁকালেও ১৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি আফগানিস্তান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা ঘটেনি আগে
স্পোর্টস রিপোর্টার
১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
