এবার প্রবাসী পরিবারে উৎকণ্ঠা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সিলেটে মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে অস্বস্তি। সিলেটের শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইউরোপ, আমেরিকার চেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিক বসবাস করে ওই মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, সৌদিসহ বিভিন্ন দেশে। শ্রমিকের পাশাপাশি অনেক বিনিয়োগকারীরাও ব্যবসা খুলেছে এসব দেশে।
ইরান, ইসরাইল ও আমেরিকা যুদ্ধের মিসাইলে তছনছ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। এই অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসীরা। পড়েছেন আর্থিক সংকটে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেরা দুবাইয়ে বসবাসকারী কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন- প্রতি বছর রমজানে তারা কয়েক কোটি টাকার ট্রেডিং করতেন। কিন্তু এবার রমজানের শুরুতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মিসাইল পড়েছে ডেরা দুবাইয়েও। এতে করে প্রবাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। দুবাই সরকারের নির্দেশনা মতো চলতে হচ্ছে। ফেরদৌস আহমদ নামের এক ব্যবসায়ী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- তাদের ফসল ও ফলসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি আড়ত রয়েছে। এসব আড়তের ব্যবসায় যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। আগের চেয়ে বিকিকিনি অনেক কমেছে। কাজও হারিয়েছেন অনেক প্রবাসী।
যুদ্ধের শুরুতেই মৌলভীবাজারের এক প্রবাসী মৃত্যু বরণ করায় প্রবাসীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সৌদি আরবের রিয়াদে বসবাস করেন অনেক প্রবাসী। সেখানেও আমেরিকান স্থাপনায় হামলা হয়েছে। সৌদিতেও বাংলাদেশে প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। হুসাইন আহমদ নামের জেদ্দা প্রবাসী জানিয়েছেন- ভয়-আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন প্রবাসীরা। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রবাসে থাকা শ্রমিকদের সহযোগিতায় কাজ করা হচ্ছে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের লাশ দেশে ফেরত আনা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের নিহত শ্রমিকের মরদেহ মঙ্গলবার তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি প্রবাসীদের অনুরোধ করে বলেন- ‘প্রবাসীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ আমেরিকান স্থাপনা রয়েছে এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়মকানুন মেনে চলার অনুরোধ করছি। ফেসবুকে হামলার ছবি ও ভিডিও প্রচার না করার আহ্বান জানান। সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সব দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। প্রবাসীদের এমন অবস্থায় ভালো নেই সিলেটের স্বজনরা।
অনেক পরিবারেই নেই ঈদের আনন্দ। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে উৎকণ্ঠা রয়েছে। এতে করে এবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স কম এসেছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে সিলেটের ঈদ বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। এবার সিলেটের ঈদ বাজারে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেটের মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। বাজারে মানুষের উপস্থিতি থাকলেও সবাই ক্রেতা নয়।
কয়েকটি প্রবাসী পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন- মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে বাহরাইনে। সেখানে অনেক প্রবাসী বসবাস করেন। আছে ব্যবসাও। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন- বাহরাইনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গোটা বাহরাইন জুড়ে ৫০ হাজারের মতো বাংলাদেশি রয়েছেন। বিশেষ করে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
বাহরাইনের ডিআর আল মহারাক এলাকার ড্রাগন সিটির ব্যবসায়ী মঞ্জুর রহমান আহমদ জানিয়েছেন- বাহরাইনে ঘর থেকে বের হতে হলে আসমান দেখতে হয়। যুদ্ধ বিমান দেখা যায় কিনা। বাহরাইনের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। তিনি বলেন- এভাবে আর কিছুদিন চললে বাংলাদেশের শ্রমিকরা চাকরি হারাবেন। এমন পরিস্থিতি সহসাই না কাটলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
