শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত দর্জি বাড়ি

শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত দর্জি বাড়ি

ফন্ট সাইজ:

মেঝেতে কাপড়ের স্তূপ। ডান-বাঁয়ের দেয়ালেও ঝুলছে নানা রঙ ও নকশার বানানো পোশাক। বিরতিহীন চলছে সেলাই মেশিন, দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। ঈদকে সামনে রেখে দর্জির দোকানগুলোতে এমনই চিত্র দেখা গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে গ্রাহকদের অর্ডার করা পোশাক বুঝিয়ে দিতে রাজধানীর দর্জি বাড়িগুলোতে চলছে তীব্র ব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেলাই মেশিনের একটানা খটখট শব্দে মুখর। বিভিন্ন উৎসবে দর্জি বাড়িতে নিজেদের পছন্দের পোশাক বানানোর রেওয়াজ বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ।

ফ্যাশনসচেতন ও রুচিশীল ব্যক্তিরা তাদের পছন্দমতো ফিটিংসে জামাকাপড় বানাতে ছুটে যান দর্জির দোকানে। আগেভাগেই নিজেদের পছন্দের জামাকাপড় বানিয়ে রাখেন তারা। কারিগররা বলছেন, শবে বরাত থেকে থেকে তাদের অর্ডার আসা শুরু করেছে এবং ১৫ রমজানের পর থেকে নতুন অর্ডার নেয়া বন্ধ করেছেন। এখন শুধু ফরমায়েশ নেয়া পোশাকগুলো মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়ার পালা। এই মৌসুমে তাদের বছরের ৫০ শতাংশ আয় হয় তাই বাড়তি কাজের চাপ সামলাতে রাখতে হয়েছে অতিরিক্ত কর্মী।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেডিমেড পোশাকের আধিপত্য বেড়ে যাওয়ায় পুরুষদের অর্ডার কম পাচ্ছেন তারা। দোকানে নারীদের অর্ডার বেশি। তবুও নিজেদের পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করতে অনেকে ভিড় করেছেন দর্জির দোকানগুলোতে। এবারে দর্জিরা শার্টের মজুরি নিচ্ছেন ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, প্যান্ট সেলাইয়ের খরচ ৬০০-৭০০ টাকা। মেয়েদের থ্রি-পিস সেলাইয়ের মজুরি নিচ্ছেন মানভেদে ৩৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া লেহেঙ্গা সেলাইয়ের খরচ পড়ছে প্রায় ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে, পাকিস্তানি সালোয়ার কামিজের খরচ সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা। এবারের ঈদে নারীদের পছন্দের পোশাক হলো- পাকিস্তানি ও ফারসি সালোয়ার কামিজ, সিকুয়েন্স, সাদা বাহার বুটিক্স, পাকিস্তানি থ্রি-পিস, আগানুর, তাওকাল, কারিজমা, আগানুর, শারারা ও সাজনা থ্রি-পিস।

সেলাই করতে আসা নাগরিকরা বলছেন, তাড়াহুড়োতে কাপড় সেলাই করতে অনেক সময় ভুল হয়। যা ঈদের আনন্দকে নষ্ট করতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই অনেকে আগেভাগে অর্ডার দিয়েছেন তাদের পছন্দের জামা-কাপড় বানাতে। শনির আখড়া এনেক্স টেইলার্সের মালেক হোসেন বলেন, সবসময় শবেবরাতেই আমাদের অর্ডার নেয়া শুরু হয়, তবে এ বছর ১০ রমজানের পর অর্ডার বেশি এসেছে। সবাই ঈদের শপিং ১০ রমজানের পর থেকে করেন। কারণ দোকানগুলোতে ঈদের কালেকশন ১০ রমজানের পর থেকেই আসে। এই মুহূর্তে অর্ডার দেয়া গ্রাহকদের তাদের পণ্য বুঝিয়ে দিতে শুরু করেছি। কারণ আর দু’দিন পর থেকে সরকারি ছুটি সবাই বাড়িতে চলে যাবে তাই সবাই এসে খোঁজ নিচ্ছে তাদের পোশাক তৈরি হয়েছে কিনা। ইতিমধ্যে অনেকে বাড়িতে যাওয়া শুরু করেছে তাদের অর্ডার বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে।

এই মৌসুমে আমাদের ইনকামের সময় তাই ঈদ উপলক্ষে দোকানে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দুপুর বারোটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সেলাইয়ের কাজ করে যাচ্ছিলেন যাত্রাবাড়ীর বোগদাদিয়া টেইলার্সের উজ্জ্বল হোসেন। তিনি বলেন, রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপের কারণে খাওয়া ও ঘুমের সময় পাচ্ছি না। এ চাপ একেবার চাঁদরাত পর্যন্ত থাকবে। এখন অর্ডার দেয়া পোশাকগুলো গ্রাহকদের হাতে বুঝে দেয়ার সময়। ইতিমধ্যে অনেককে বুঝিয়ে দিয়েছি। আর দু’দিন পর সবাই বাড়িতে চলে যাবে তাই দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রাহকদের তাদের পোশাক বুঝিয়ে দিতে পারি।

তিনি আরও বলেন, আমরা শার্ট সেলাইয়ে মজুরি নিচ্ছি ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত, মেয়েদের থ্রি-পিস ৩৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছি। নিউ মার্কেটের রাইসা ফ্যাশনের কারিগর জাহিদ বলেন, ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে। অনেকেই রেডিমেট জামা পরতে পছন্দ করেন না। নিজের মনের মতো কাপড় কিনে আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের এমব্রয়ডারি ও কারচুপি নকশা করিয়ে নেন। এজন্য রমজানের শুরুতেই কাপড় কেনার তাগাদা থাকে অনেকের। এরপর আমাদের হাতে আসার পর একেকটা নকশা করতে অনেক সময় দিতে হয়। এখন শেষ মুহূর্তে অর্ডার বুঝিয়ে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছি। ঈদের এ সময়টাতে কাজের চাপ বেশি থাকে তাই কারিগর ভাড়া করেছি। নিয়মিত কারিগর দিয়ে এ চাপ সামলানো মুশকিল, তাই সব ঈদেই কারিগর ভাড়া করতে হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন